জাতীয় ইতিহাসে অপরিহার্য্য নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী
সমাজ, রাষ্ট্র যখন হুজুগে তখন প্রজন্মের অধিকাংশ হুজুগে হবে না কেন? বাংলা ও বাঙালির পাঠক সাময়িক-পার্বণের তাই পারম্পর্য নেই! অহেতুক আলাপ নিয়ে বছরওয়ারি হট্টগোল আছে, কাজের কাজ নেই। বিশেষ করে বাংলার আদর্শদের শতবর্ষ, সার্ধশতবর্ষ, দ্বিশতবর্ষ এলেই তাদের নিয়ে হট্টগোল তুঙ্গে ওঠে এবং যথারীতি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শুধু ‘গরজন ও তরজন’ সঙ্গে ব্যাকুলতায় হয় অশ্রু ‘বরষণ’।
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন
মুজতবা আলীর জীবনবোধে দেশ বিদেশ
সাধারণ মানুষের মাঝে থেকে চিন্তার মন মননে উচ্চগ্রামে যারা বাস করেন ইতিহাস তাদের অসাধারণ বলে মনে রাখে। সমাজের স্রোত ও জীবনবোধের আকাশে তারা নক্ষত্রের মতো জ্বলজ্বল করে কাল থেকে কালান্তরে। পৃথিবীতে তাদের জন্ম-মৃত্যুর মাঝের সময়কাল ইতিহাসের অসামান্য দলিল বলে আখ্যায়িত হয়। সৈয়দ মুজতবা আলীর জীবন ও কীর্তি তেমনি একটি অধ্যায়।
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:১২ পূর্বাহ্ন
জাতীয় কবির শেষ দিকের কম জানা অধ্যায়
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রতিভা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। সাহিত্যের এই দিকপাল, সৃজন সংসারে সক্রিয় ছিলেন মাত্র ২২ বছর। বেঁচে ছিলেন ৭৭ বছর। কিন্তু, এর মধ্যে ৩৫ বছর ছিল বেদনা-বিধূর। আর কবিরাই পারে শত বেদনায় সবসময় নিজের কথা সাবলিলভাবে তুলে ধরতে। যেমন: ‘তোমাদের পানে চাহিয়া বন্ধু আর আমি জাগিবো না, সারাদিনমান কোলাহল করি কারো ধ্যান ভাঙিবো না।… নিশ্চল-নিশ্চুপ আপনার মনে পুড়িবো একাকী গন্ধবিধুর ধূপ’।
২৭ আগস্ট ২০২০, ০৯:২৩ পূর্বাহ্ন
আড়ালের সূর্য মওলানা আকরম খাঁ
এক সময়ের বাঙালি মনীষী হিসেবে অবিভক্ত বাংলায় যারা অসামান্য অবদান রেখেছেন— আজ তারা আড়াল হয়ে গেছেন। জনসাধারণের কাছে তেমন পরিচিত নন। তার জন্য সাধারণ মানুষ কখনো দায়ীও না। আপামর জনতা ভূমিকা রাখে হয়তো কিন্তু সিদ্ধান্ত নিতে পারে না, কে সিলেবাসে থাকবে কে থাকবে না। আর এমনটা হয় শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি সমাজে উদার চিন্তায় কীর্তিমানদের জীবন ও কর্মের আলোচনা অপ্রতুলতার কারণে। এভাবেই অবহেলা আর অনাগ্রহে পড়ে আছেন উনিশ শতকের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী নিয়ে কাজ করা নাম না জানা বহু গুণীজন। অনেক সময় দেখা যায়— কেন তাদের দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে, তার ঠিকঠাক কোনো যুক্তিও নেই।
১৮ আগস্ট ২০২০, ০৫:২৯ পূর্বাহ্ন
বঙ্গবন্ধুর ৩টি বইয়ের অনুবাদেই তার মানসকে ধরতে চেয়েছি: অধ্যাপক ফকরুল আলম
অধ্যাপক ফকরুল আলম শিক্ষক পরিচয়ের বাইরে একজন প্রথিতযশা অনুবাদক। বাংলা সাহিত্যকে পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে দিতে ইংরেজিতে অনুবাদ করেন তিনি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ও ‘কারাগারের রোজনামচা’ বই দুটি অনুবাদ করে শুধু খ্যাতিই অর্জন করেননি, আমাদের ইতিহাস ও সংগ্রামকে পৃথিবীর সব ভাষাভাষী মানুষের জানার সুযোগ করে দিয়েছেন। এসব নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের এই অধ্যাপক মুখোমুখি হয়েছেন দ্য ডেইলি স্টারের।
১৪ আগস্ট ২০২০, ০৫:৩০ অপরাহ্ন
ঈশ্বর, বিদ্যাসাগরের আড়ালে দয়ার সাগর
পৃথিবীতে কিছু মানুষের জন্ম সাদামাটা হলেও তারা নতুন সভ্যতা, নতুন অধ্যায়ের সূচনায় চিহিৃত হন! তেমনি বাংলা ও বাঙালির মাঝে ঈশ্বরচন্দ্রের আবির্ভাব সমগ্র পিছিয়াপড়া জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক মুক্তি ও অনুকরণীয় ব্যক্তিত্বের পথনির্দেশ দিয়েছেন।
২৯ জুলাই ২০২০, ০৬:০৪ পূর্বাহ্ন
‘গরিব মানুষের শ্রমের ওপরই দেশ টিকে আছে’
সমাজ পরিবর্তনের আবশ্যকতায় বিশ্বাসী অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। বাকস্বাধীনতা, মানবিক অধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচার বিষয়ক আন্দোলনের পুরোধা তিনি। দীর্ঘকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলা প্রবন্ধ সাহিত্য যাদের অবদানে উজ্জ্বল, তাদের মধ্যে তিনি অন্যতম।
২৬ জুলাই ২০২০, ০৬:৩১ পূর্বাহ্ন
স্বাধীনতার সমান বয়সী হুমায়ূন আহমেদের কীর্তি
বাংলাদেশের জন্ম ও হুমায়ূন আহমেদের লেখক জীবনের শুরু প্রায় সমসাময়িক। দেখা যায়- রাষ্ট্রের অবকাঠামো তৈরি হচ্ছে, ভাষা আন্দোলন-মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ইতিহাস ও ঐতিহ্য নির্মাণ হচ্ছে; একই সঙ্গে বইয়ের পাঠকরা দেশীয় লেখকের দেশি ভাষায় চারপাশকে জানছে এবং সামাজিক ও পারিবারিক অনুভূতি নিয়ে ভাবনার সুযোগ পাচ্ছে। ফলে পাঠক নন্দিত সেই লেখক আজ না থাকলেও, আছে তার অগণিত পাঠক ও সৃজন মায়ার সংসার। এর সবই বহমান থাকবে কাল থেকে কালান্তর- বাংলাদেশ ও রাষ্ট্রভাষা থাকবে যতদিন।
১৮ জুলাই ২০২০, ০৬:০১ অপরাহ্ন
জীবনবোধের চির আধুনিক কবি
‘আমরা তো বলেছি আমাদের যাত্রা অনন্তকালের
উদয় ও অস্তের ক্লান্তি আমাদের কোনোদিনই বিহ্বল করতে পারেনি।
আমাদের দেহ ক্ষত-বিক্ষত,
আমাদের রক্তে সবুজ হয়ে উঠেছিল মুতার প্রান্তর।
পৃথিবীতে যত গোলাপ ফুল ফোটে তার লাল বর্ণ আমাদের রক্ত!’
১১ জুলাই ২০২০, ০৬:০০ পূর্বাহ্ন
স্বকীয়তায় উজ্জ্বল সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
সময়ের স্রোতে কত মানুষ বদলে গেছে, বৈষম্যের কারাগারে কত মুখ হারিয়ে গেছে, সংবাদপত্র যখনি এমন আশ্বাসহীনতার শিরোনাম করে, ঠিক তখনো একই রকম আদর্শ ও বিবেকের উদাহরণ হিসেবে স্বকীয়তায় হাজির হন সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।
২৩ জুন ২০২০, ০৪:১৫ পূর্বাহ্ন
প্রাত্যহিক প্রয়োজনীয় একজন আনিসুজ্জামান
করোনায় প্রতিটি দিন আসে হতাশায়। এর মাঝে শূন্যতার সাগরে ফেলে চলে যায় আবু তৈয়ব মহম্মদ আনিসুজ্জামান। এটি তার পারিবারিক নাম। অন্যদিকে বাঙালি মুসলিম সমাজের বড় মানুষদের একজন ছিলেন শেখ আব্দুর রহিম (বাংলা ভাষায় যারা নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবনী লিখেছেন তিনি অন্যতম)। সেই শেখ আব্দুর রহিমের নাতিই পরবর্তীতে বাংলাদেশের জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। যিনি আলোকিত করেছেন বাংলা সাহিত্যে সংস্কৃতির আকাশ।
১৭ মে ২০২০, ০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন
বাংলার আত্মসচেতন অভিভাবক আবুল মনসুর আহমদ
সাহিত্যিক সাংবাদিক ও রাজনৈতিক আবুল মনসুর আহমদ— ত্রিধারার অভিজ্ঞতায় বাংলার একজন অভিভাবক। তাঁর জন্ম এমন এক সময়ে (১৮৯৮), যখন এই অঞ্চলের মানুষ ধর্ম ও আত্মপরিচয় নিয়ে ছিলো দ্বিধান্বিত। ফলত বাংলা ও বাঙালির ইতিহাসের সঙ্গে আবুল মনসুরের জীবন ও কর্ম পরস্পর হাত ধরাধরি করে আছে দীর্ঘকাল। তাঁর সামাজিক রাজনৈতিক চিন্তাধারা জাতীয়তাবাদ ও রাষ্ট্রচিন্তাকে এগিয়ে নিতে সবসময় ভূমিকা রেখে আসছে।
১৮ মার্চ ২০২০, ০৫:৫১ পূর্বাহ্ন
বাংলা ও বাঙালির কবি জসীম উদদীন
“পাড়ার লোকেরা আমার কবিগান শুনে মন্তব্য করিত, কালে এই ছেলেটি চেষ্টা করিলে একজন বড় কবিয়াল হইবে। কিন্তু তাহাদের সে ভবিষ্যৎবাণী সফল হইল না। আমি কবিয়াল হইতে পারিলাম না, হইলাম কবি জসীম উদদীন।”
১ জানুয়ারী ২০২০, ০৮:৩১ পূর্বাহ্ন
একাত্তরের অনন্য স্মৃতিসৌধ: কোল্লাপাথরের সমাধি
বাংলাদেশের অন্যন্য স্মৃতিসৌধ; কোল্লাপাথরের টিলায় শায়িত ৫০ যোদ্ধার সমাধিস্থল। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলায় একটি ছোট টিলার উপরে অবস্থিত। কসবা বাংলাদেশের একটি সীমান্তবর্তী উপজেলা যা মুক্তিযুদ্ধের সময় ২ নম্বর সেক্টরের আওতায় ছিল এবং এর পাশের ভারতের আগরতলা, যেখানে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধা প্রশিক্ষণ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছিল। প্রশিক্ষণ ক্যাম্প থাকার কারণে এ অঞ্চলটি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অন্যতম লক্ষ্যে পরিণত হয়েছিল।
১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৫:০১ পূর্বাহ্ন
একাত্তরের ঈদ!
১৯৭১ সালের নভেম্বরে মানুষ কেঁদেছে, কিন্তু বিজয়ের স্বপ্নও দেখেছে। এরকম এক মিশ্র অনুভূতির সময় হাজির হয়েছে ঈদ। কেমন ছিলো আমাদের সে সময়ে বৃহত্তর জনগোষ্ঠী মুসলিমদের ঈদ? অজানা অধ্যায় নিয়ে ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখি-
১৮ নভেম্বর ২০১৯, ০৭:৩৭ পূর্বাহ্ন
শত-জোড়া চোখের ভারত দর্শন: প্রত্যাশা প্রাপ্তির সাতদিন!
মানুষ গল্প বলতে ভালোবাসে। ভালোবাসে আনন্দে দিনাতিপাত করতে। একজীবন কারো কারো এভাবেই কাটে পাখির ছন্দে। পাখিরা আকাশে ওড়ে, মানুষ মাটিতে থেকে আকাশ দেখে। তবে সে দেখা ও জানা কখনো একলা হয় কখনো সঙ্গবদ্ধ। আর সঙ্গবদ্ধ হলেই আসে ভাবনা: পড়শি কেমন হবে, ভালো না মন্দ। উড়নচণ্ডী না দায়িত্বশীল- এ নিয়ে নানান কৌতূহল। কিন্তু যুগে যুগে সময়কে যারা অসাধারণ করেছেন প্রসঙ্গত তারা কী বলেন। জেনে নেওয়া যাক- ইবনে বতুতা বলেন, মানুষ যখন ভ্রমণে যায়, বিস্ময়ে হতভম্ব হয়। তারপর সেই গল্প না বলে পারে না। তাই একজন সাধারণ মানুষকে ভ্রমণ প্রথমে নির্বাক করে দেবে তারপর গল্প বলতে বাধ্য করবে। ফরাসি গাল্পিক গুস্তাভ ফ্লুবেয়ার বলেন, “ভ্রমণ মানুষকে বিনয়ী করে তোলে। সে জানতে পারে দুনিয়ার তুলনায় সে কত ক্ষুদ্র।”
১৯ এপ্রিল ২০১৯, ০৬:৩৯ পূর্বাহ্ন
বরইতলা বধ্যভূমি: বিচারের আশায় ৩৬৫ শহীদ পরিবার
১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও এদেশীয়দের সহযোগিতায় পরিকল্পিত গণহত্যা ও নির্যাতন শুরু করে প্রথম থেকেই। যার মাধ্যমে তারা বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে দমন করতে চেয়েছিল। তাদের আসল উদ্দেশ্য ছিলো ২৬ মার্চের মধ্যে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সব বড় শহর দখল করে নেওয়া এবং রাজনৈতিক ও সামরিক বিরোধীদের এক মাসের ভেতর নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া।
২৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৪:৫১ পূর্বাহ্ন
আবুল মনসুর আহমদের আয়না ও তার প্রাসঙ্গিকতা
গোঁড়া মোহাম্মদী পরিবারের সন্তান ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ। লাল তুর্কী টুপি মাথায় মোহাম্মদীর পক্ষে তর্কেও যেতেন। ঘটনাক্রমে একদিন তিনি ময়মনসিংহ জিলা স্কুলের হেড মৌলভী আলী নেওয়াজ ও শিক্ষক মৌলভী শেখ আবদুল মজিদের সংস্পর্শে আসেন।
৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৪:৪৯ পূর্বাহ্ন
উচ্চশিক্ষা কি শুধুই চাকরির জন্য!
‘বেশি দামে কেনা কম দামে বেচা আমাদের স্বাধীনতা’ ৪৪ বছর আগে প্রকাশিত আবুল মনসুর আহমদের বইটি পড়ছিলাম কয়েকদিন। বইটির প্রতিটি পাতায় আবেগকে বাদ দিয়ে যৌক্তিক মননে বিশ্লেষণ করেছেন কালান্তর। পড়তে পড়তে সমকালের অনেক কথাই ভাবছি।
৪ জুলাই ২০১৮, ১০:০৫ পূর্বাহ্ন
লালব্রিজ গণহত্যা: মুক্তিযুদ্ধের অজানা অধ্যায়
১৯৭১ সালে পাকিস্তান বাহিনী বাংলাদেশে অসংখ্য নির্যাতন কেন্দ্র গড়ে তুলেছিল। সেখানে হাজার হাজার মা-বোন, যুবা-বৃদ্ধা, শিশু-কিশোরদের দিনের পর দিন নির্যাতন চালিয়ে অবশেষে তাদের হত্যা করে কবরের নামে যততত্র মাটিচাপা দিয়ে রেখেছিল। একাত্তরের ঘাতকদের জল্লাদখানা ও বধ্যভূমি আবিষ্কারের চাঞ্চল্যকর সংবাদ বিভিন্ন অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসছে। তবে এগুলো গত ৪৫ বছরে ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই পায়নি। তাই বলা যায় এগুলো মুক্তিযুদ্ধের এক অজানা অধ্যায়।
১৫ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৮:০০ পূর্বাহ্ন