আগামী বিশ্বকাপে ভালো করবেন তামিম, আশাবাদী রোডস

By স্পোর্টস ডেস্ক
3 July 2019, 10:30 AM
UPDATED 3 July 2019, 16:49 PM

তামিম ইকবালের কাছে বাংলাদেশ দলের প্রত্যাশা ছিল অনেক। কিন্তু বিশ্বকাপে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। দাবির খুব অল্পই মেটাতে পেরেছেন। ব্যাট হাতে আরেকটি সাদামাটা বিশ্বকাপ কাটানো তামিম অবশ্য পাচ্ছেন স্টিভ রোডসের সমর্থন। সফলতা না পেলেও শিষ্যের আন্তরিকতায় কোনো ঘাটতি দেখছেন না টাইগার কোচ।

এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের তৃতীয় সেরা সংগ্রাহক তামিম ইকবাল। সাত ইনিংসে ৩২.৪২ গড়ে ২২৭ রান করেছেন তিনি। স্ট্রাইক রেট ৭৩.৯৪। কিন্তু এই পারফরম্যান্স তামিমের নামের সঙ্গে ঠিক মানানসই নয়। গেল চার বছরের পরিসংখ্যান ঘাঁটলেই বোঝা যায়। ২০১৫ সালে তামিমের ব্যাটিং গড় ছিল ৪৬.৩৮, ২০১৬ সালে ৪৫.২২, ২০১৭ সালে ৬৪.৬০ ও ২০১৮ সালে ৮৫.৫০।

চলমান আসরে প্রতিটি ম্যাচেই দুই অঙ্কে পৌঁছেছেন তামিম। জাগিয়েছেন বড় ইনিংস খেলার সম্ভাবনা। তবে আশার বেলুন চুপসে যেতেও সময় লাগেনি। কেবল একটি ম্যাচেই পেয়েছেন হাফসেঞ্চুরি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে করেছিলেন ৬২ রান। তার বাকি ইনিংসগুলো হলো যথাক্রমে ১৬, ২৪, ১৯, ৪৮, ৩৬ ও ২২।

উইকেটে মানিয়ে নেওয়ার পর বারবার অল্প রানে আউট হওয়ায় তামিমের ব্যাটিং কৌশল নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তাছাড়া তিনটি বিশ্বকাপে (২০০৭, ২০১১ ও ২০১৫) খেলার অভিজ্ঞতা ইংল্যান্ডের মাটিতে কাজে লাগাতে না পারায় বিভিন্ন মহলে চলছে সমালোচনা। বিশেষ করে বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্তরা এ নিয়ে খুবই সরব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে। তবে রোডস আশাবাদী। তার বিশ্বাস, এবার না পারলেও আগামী বিশ্বকাপে তামিম ঠিকই ভালো করবেন।

মঙ্গলবার (২ জুলাই) ভারতের কাছে হারের পর সংবাদ সম্মেলনে রোডস বলেন, ‘আমি বলব, তামিমের পারফরম্যান্সে আন্তরিকতা ছিল। বেশি রান করতে পারলে অবশ্যই তার ভালো লাগত কারণ যে পরিমাণ রান সে করেছে (ক্রিকেটের বিভিন্ন ফরম্যাটে), সেটা গর্বের ব্যাপার। তবে সে খুবই আন্তরিক ছিল এবং নিজের সেরা চেষ্টাটা করেছে। কিন্তু কখনও কখনও কোনোকিছু হওয়ার থাকে না। এই যেমন, আজ (মঙ্গলবার) সে দারুণ কিছু শট খেলেছে। আমি ভাবছিলাম, এটাই বুঝি তার দিন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সেটা হয়নি।’

তিনি যোগ করেন, ‘এটাই ক্রিকেট। কখনও কখনও আপনি যত বেশি চেষ্টা করতে থাকেন, তত বেশি খারাপ হতে থাকে। দলের জন্য অবদান রাখতে, কিছু ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলতে তার চেষ্টা ছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সেটা হয়নি। কিন্তু সে নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টাই করেছে। আর আমি নিশ্চিত, আরেকটি বিশ্বকাপে অর্থাৎ ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপে সে ভালো কিছু করার সুযোগ পাবে। কারণ চার বছর পরের বিশ্বকাপে খেলার জন্য সে যথেষ্ট তরুণ।’