৯ শ্রমিকের মৃত্যু: ৪ দিন পর সেই জাহাজে তদন্ত কমিটি
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে বিষাক্ত গ্যাসে ৯ শ্রমিকের মৃত্যুর চার দিন পর দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজে প্রবেশ করেছে শিল্প মন্ত্রণালয় গঠিত কারিগরি তদন্ত কমিটি।
আজ মঙ্গলবার সকালে উন্নত নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহার করে জাহাজে প্রবেশ করেন তদন্ত দলের সদস্যরা।
বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ডের (বিএসআরবি) মহাপরিচালক এ এস এম শফিউল আলম তালুকদার দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘বিষাক্ত গ্যাসে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু হওয়ায় জাহাজে প্রবেশের ক্ষেত্রে ঝুঁকি নিতে চাইনি আমরা।’
প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ শেষে দলটি জানায়, দুর্ঘটনাস্থলে একটি ব্যালাস্ট ট্যাংকের ছোট একটি অংশ কাটা হয়েছিল। ওই কাটা অংশ দিয়েই হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস ছড়িয়ে পড়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে গ্যাসটি কীভাবে ব্যালাস্ট ট্যাংকের ভেতরে তৈরি বা জমা হল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনাস্থল থেকে বাতাস, মাটি ও রাসায়নিকের নমুনা সংগ্রহ করেছে তদন্ত কমিটি।
তবে ওই নমুনায় হাইড্রোজেন সালফাইডের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন তদন্ত দলের সঙ্গে থাকা চট্টগ্রাম জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আশরাফ উদ্দিন।
তিনি বলেন, ‘ঘটনার পর চার দিন পার হয়ে গেছে। এর মধ্যে জোয়ারের পানিতে গ্যাস দ্রবীভূত হয়ে যেতে পারে বা বাতাসের সঙ্গে মিশে যেতে পারে। তাই নমুনায় হাইড্রোজেন সালফাইড পাওয়া যায়নি।’
জাহাজে অক্ষত ট্যাংকগুলো খতিয়ে দেখার পরামর্শ দেন তিনি।
গত ১৪ আগস্ট সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস স্টিলের ইয়ার্ডে এলএনজিবাহী ‘এমটি রাসি’ জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাসে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু হয়।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম বলেন, ‘মরদেহ হস্তান্তর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ঘটনার দিন পুলিশ বাদি হয়ে একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছিল। নিহত বা আহতদের কোনো স্বজন মামলা করতে আসেননি। বিষয়টি নিয়ে আমরা আলোচনা করছি। আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
মৃত ৯ জনের মধ্যে মাত্র একজনের ময়নাতদন্ত হয়েছে এবং পরিবারের আপত্তির কারণে বাকি ৮ জনের ময়নাতদন্ত করা হয়নি বলে জানিয়েছেন ওসি।
এদিকে, ফেরদৌস স্টিলের পক্ষ থেকে নিহত ৯ শ্রমিকের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে বিএসবিআরএ।
সংস্থাটির সচিব নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিটি পরিবার শ্রম আদালতের মাধ্যমে ২ লাখ টাকা পাবে এবং বাকি ৮ লাখ টাকা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে প্রকৃত ওয়ারিশদের দেওয়া হবে।’
নিহত শ্রমিক পলাশ জলদাসের ছোট ভাই শুভ দাস ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘শেষকৃত্যের জন্য কোম্পানির কাছ থেকে ১ লাখ টাকা পেয়েছি আমরা। বাকি টাকা রোববার দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।’