চট্টগ্রাম বন্দরে কার্যক্রম শুরু, ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ধর্মঘট স্থগিত
চট্টগ্রাম বন্দরের আন্দোলনরত কর্মচারীরা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত করেছেন। কর্মীরা কাজে যোগ দেওয়ায় আজ সকাল থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে।
গতকাল গভীর রাতে এক বৈঠকের পর চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের নেতারা ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের কথা জানান।
সকাল থেকেই বন্দরের তিনটি টার্মিনালের সব জেটিতে পণ্য ও কনটেইনার ওঠানামা শুরু হয়েছে। পাশাপাশি বন্দরের বহির্নোঙরেও পণ্য খালাসের কাজ চলছে।
বার্থ অপারেটরস, শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরস এবং টার্মিনাল অপারেটরস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফজলে ইকরাম চৌধুরী জানান, জেনারেল কার্গো বার্থের (জিসিবি) অধীনে থাকা জেটিগুলোর আটটি জাহাজে সকাল ৮টার শিফটে শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়েছেন। ফলে পণ্য ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটররাও নিশ্চিত করেছেন যে, বহির্নোঙরে মাদার ভ্যাসেল থেকে লাইটার জাহাজে পণ্য খালাস প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।
গতকাল রাতে ধর্মঘট প্রত্যাহার নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল। যদিও বিডা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং নৌপরিবহন উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন ঢাকায় পৃথক অনুষ্ঠানে জানিয়ে দেন যে, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এনসিটি চুক্তি হচ্ছে না।
আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া ১৫ জন কর্মচারীর বিরুদ্ধে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (সিপিএ) শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পর এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
গত সপ্তাহে এই ১৫ কর্মচারীকে দুই দফায় বদলি করা হয়েছিল—প্রথমে ঢাকা আইসিডি ও পানগাঁওয়ে এবং পরে মোংলা ও পায়রা বন্দরে। নৌ উপদেষ্টার আশ্বাসে ৫ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে তাদের বদলি স্থগিত করা হলেও গতকাল আরেকটি আদেশে সেই স্থগিতাদেশ বাতিল করা হয়।
গতকাল বন্দর কর্তৃপক্ষ ওই ১৫ কর্মচারীর বাসার বরাদ্দ বাতিল করে। পরে সন্ধ্যায় সংগ্রাম পরিষদের দুই সমন্বয়কসহ তাদের সাময়িক বরখাস্তের আদেশ জারি করা হয়। এছাড়া গতকাল বন্দরের পাঁচ কর্মচারীকে পুলিশ আটক করে এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
এসব ঘটনার মধ্যেই সংগ্রাম পরিষদের নেতারা বৈঠকে বসেন। বৈঠক শেষে রাত সাড়ে ১২টার দিকে পরিষদের সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সত্ত্বেও আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন এবং রমজানের আমদানি করা পণ্য খালাসের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তারা ধর্মঘট স্থগিত করছেন।
তিনি বলেন, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহারসহ অন্যান্য দাবি মানা না হলে ১৫ ফেব্রুয়ারি নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এনসিটি চুক্তি বাতিল ও ১৫ কর্মচারীর বদলি আদেশ প্রত্যাহারসহ চার দফা দাবিতে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ এর আগে ৩১ জানুয়ারি থেকে তিন দিন আট ঘণ্টা করে কর্মবিরতি এবং ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিন দিনের টানা কর্মবিরতি পালন করে।