সংঘর্ষে রণক্ষেত্র শনির আখড়া

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে রাজধানীর শনির আখড়া।

আজ বুধবার বিকেল থেকে এই সংঘর্ষ শুরু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্থানীয়রা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার পর হানিফ ফ্লাইওভারের টোল প্লাজা ও একটি পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়া হয়। এ ছাড়া একাধিক মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করা হয়।

প্রচণ্ড শব্দ ও ধোঁয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

shanir_akhra_1.jpg
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের চলছে। ছবি: শাহীন মোল্লা/স্টার

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ছররা গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাদের অনেকে বুলেটবিদ্ধ হয়েছেন।

পুলিশের ছররা গুলিতে আহত হয়ে ছয়জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে গিয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে দুই বছর বয়সী শিশুও রয়েছে।

আহত শিশুর মা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, পুলিশের রাবার বুলেট ও হইহট্টগোলে শিশুটি বাসায় কান্না করছিল। কান্না থামাতে শিশুটির বাবা বাবলু মিয়া সন্তানকে নিয়ে বাইরে আসেন। সেই সময় পুলিশের ছররা গুলি বাড়িটির কলাপসিবল গেটের ভেতরে ঢুকে যায়। এতে বাবা-ছেলে দুজনেই আহত হন। তৎক্ষণাৎ তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে যান।

shanir_akhra.jpg
ছবি: শাহীন মোল্লা/স্টার

এদিকে ঢামেকে পুলিশের রাবার বুলেটে আহত আরও একজনকে নিয়ে আসা হয়। তার নাম ফয়সাল বলে জানা গেছে। তার গায়ে রাবার বুলেটের অসংখ্য আঘাত রয়েছে। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানান, সংজ্ঞাহীন অবস্থায় তাকে নিয়ে আসা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ঢামেক সূত্র জানায়, অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী পিয়াস ও কাপড় ব্যবসায়ী মনিরুলকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শনির আখড়ার পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত বলে জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীরা।

পোস্তগোলা থানার সিনিয়র স্টেশন অফিসার শাহিন আলম ডেইলি স্টারকে বলেন, ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট হানিফ ফ্লাইওভারের দিকে গেলেও সংঘর্ষ চলায় তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। কিছু সময় পরে এমনিই আগুন নিভে যায়।

টোল প্লাজা বন্ধ থাকায় হানিফ ফ্লাইওভারে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে বলে ঘটনাস্থল থেকে জানিয়েছেন দ্য ডেইলি স্টারের সংবাদদাতা।