মির্জা ফখরুলের বক্তব্য টেনে সরকারের ‘নৈতিকতা’ নিয়ে প্রশ্ন বিরোধীদলীয় নেতার
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানুষের আত্মত্যাগ এবং পরবর্তী নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও প্রশাসনে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন না হওয়ায় আক্ষেপ প্রকাশ করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, সরকারের পাঁচ মাসে দুর্নীতি কমার বদলে বেড়েছে বলে বিএনপির মহাসচিব নিজেই স্বীকার করেছেন।
এমন পরিস্থিতিতে সরকারের ক্ষমতায় থাকার নৈতিক অধিকার রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন জামায়াত আমির।
আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক আলোচনা সভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানুষের আত্মত্যাগ ও নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের পরও রাষ্ট্র ও প্রশাসনে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি দেখছি যে কিছুই বদলায়নি।’ তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে পরিবর্তনের চেষ্টা দেখছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মির্জা ফখরুলের ওই বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে শফিকুর রহমান বলেন, ‘তাদের দলের একজন সিনিয়র নেতা কালকে বলেছেন, পাঁচ মাসের এই সরকারের সময় দুর্নীতি বন্ধ করা যায়নি, বরং দুর্নীতি বেড়েছে। তিনি আরও বলেছেন, তার বাসায় সবাই দুর্নীতিতে লিপ্ত, একজন ছাড়া—তিনি তারেক রহমান। আমি বুঝলাম না, প্রধানমন্ত্রী চাইছেন না অথচ সবাই দুর্নীতি করছে, এটা কীভাবে হয়?’
জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা দেখি তার (প্রধানমন্ত্রী) ইশারায় সব কিছু চলে। তাহলে তার ইশারায় দুর্নীতি বন্ধ হয় না কেন? ব্যর্থতার দায় যখন নিজেরাই স্বীকার করছেন, তখন এই সরকারের আর ক্ষমতায় থাকার নৈতিকতা থাকে কি না, সেটাই প্রশ্ন।’
পরিবহন খাতে চাঁদাবাজির প্রসঙ্গ তুলে শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, সরকার কার্যত চাঁদাবাজিকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বলেছিলেন, ‘সমঝোতার ভিত্তিতে কিছু নেওয়া হলে সেটিকে চাঁদা বলা যাবে না।’ এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এর মাধ্যমে দ্বিতীয় দফায় চাঁদাবাজিকে জাতীয় স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
জামায়াত আমির বলেন, পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি; বরং শ্রমিকেরা এখনো নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের মারধর করা হচ্ছে, গাড়ি ভাঙচুর করা হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘চাঁদাবাজদের হাতে পরিবহনশ্রমিকেরা নাজেহাল হচ্ছেন। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলেই তাদের ওপর হামলা হচ্ছে। কারা করছে, সেটি পরিষ্কার—সরকারি দলের লোকেরাই করছে।’
বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ১২ দফা দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘চাঁদাবাজি নির্মূল করুন, দুর্নীতিকে কঠোর হাতে দমন করুন। জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী চললে দেশের ১৮ কোটি মানুষ সরকারকে সহযোগিতা করবে। কিন্তু জনগণের প্রত্যাশার বিপরীতে চললে জনগণ কাউকে ছাড় দেবে না।’
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এই আন্দোলন কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর ছিল না; এটি ছিল দেশের ১৮ কোটি মানুষের আন্দোলন। শহীদদের কোনো দলীয় সম্পত্তি হিসেবে দেখা উচিত নয়; তারা পুরো জাতির সম্পদ।
সরকারের উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, ‘পরিশুদ্ধ হন, সৎ পথে চলুন, দুর্নীতিকে কঠোর হাতে দমন করুন, চাঁদাবাজি নির্মূল করুন। অন্যথায় জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে চলার দায় ইতিহাস ক্ষমা করবে না।’
