তিস্তা সেচ খালের বাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে দেড়শ একর ফসলি জমি
নীলফামারীতে তিস্তা সেচ খালের বাঁধ ভেঙে দেড়শ একর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। সদর উপজেলার ইটাখোলা ইউনিয়নের সিংদই কামারপাড়া গ্রামে গতকাল সোমবার এ ঘটনা ঘটে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা বলছেন, ইঁদুরের গর্ত দিয়ে পানি ঢোকার কারণে বাঁধটি দুর্বল হয়ে ভেঙে পড়েছে।
পাউবো ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১৫ জানুয়ারি থেকে চলতি বোরো মৌসুমে তিস্তা সেচ প্রকল্পের পানি সরবরাহ শুরু হয়। সেচের পানি পেয়ে কৃষকেরাও বোরো চারা রোপণসহ বিভিন্ন ফসলে সেচ দেওয়া শুরু করেন। গতকাল দুপুরে কামারপাড়া এলাকায় তিস্তা সেচ খালের ডান পাড়ের ২০ ফুট বাঁধ হঠাৎ ভেঙে পড়ে। এতে তিস্তা নদীর পানি ঢুকে শতাধিক কৃষকের সরিষা, বোরো ধানের চারা, আলু ও ভুট্টাসহ বিভিন্ন রবিশস্য পানিতে তলিয়ে যায়।
স্থানীয় সিংদই কামারপাড়া গ্রামের কৃষক সাইদুর রহমান বলেন, আমি এক বিঘা জমিতে সরিষা, তিন বিঘা জমিতে আলু ও দুই বিঘা জমিতে বোরো ধানের চারা লাগিয়েছিলাম। বাঁধ ভেঙে সব পানিতে তলিয়ে গেছে। এই পানি দ্রুত না সরলে আমাকে সব হারাতে হবে।
আরেক কৃষক আবদার আলী বলেন, আমি তিন বিঘা জমিতে সরিষা ও আলু লাগিয়ে ছিলাম। সবই এখন পানির নিচে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পরপরই আমরা পাউবো কর্মকর্তাদের জানিয়েছিলাম। তবে এখনও সংস্কারকাজ পুরোপুরি শুরু হয়নি। ভাঙা বাঁধ দিয়ে এখনো পানি ঢুকছে। প্রতিবছর নামেমাত্র সংস্কারের কারণে এমনটি ঘটেছে।
কৃষক আফতাব উদ্দিন বলেন, ২০১৫ ও ২০২৪ সালে দুবার তিস্তা সেচ খালের বাঁধ ভেঙে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। সেসময় আমরা ক্ষতিপূরণের দাবি করলেও কিছু পাইনি। এবারও একই অবস্থা হলো। এর দায় কে নেবে?
নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, আমি এই মুহূর্তে ঘটনাস্থলে আছি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। একইসঙ্গে ভাঙা বাঁধটি দ্রুত সংস্কারের প্রস্তুতি চলছে। বাঁধ মেরামত করে সেচ কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হবে।
নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান ডেইলি স্টারকে বলেন, সেচ কার্যক্রম শুরুর আগে ইঁদুরের গর্ত দিয়ে পানি ঢোকায় বাঁধের ক্ষতি হয়েছে। বিষয়টি আগে থেকে আমাদের জানালে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যেত।