ডাকসু সংগ্রহশালার জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে, টাঙানো হলো গোলাম আযমকে জুতাপেটার ছবি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় রাখা পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী।
আজ সোমবার দুপুর ২টার দিকে সংগ্রহশালায় গিয়ে ফ্রেম ভেঙে জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলেন আবু তৈয়ব হাবিলদার।
তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০১-০২ সেশনের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি উর্দু বিভাগের চতুর্থ বর্ষে পড়ছেন। সর্বশেষ ডাকসু নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি বয়সী প্রার্থী হিসেবে ভিপি পদে লড়েছিলেন তিনি।
আবু তৈয়ব হাবিলদার বলেন, কাউকে তার ইচ্ছামতো কিছু করতে দেওয়া হবে না। ‘এই খলনায়কের’ ছবি কেন ডাকসুতে থাকবে? ডাকসুর নির্বাচনী ইশতেহারে জিন্নাহকে নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠার কোনো কথা ছিল কি না? একাত্তর ও ভাষা সংগ্রাম আমরা ভুলিনি।
এই ঘটনার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ফেডারেশনের নেতাকর্মীরা ডাকসুর সংগ্রহশালায় গোলাম আযমকে অপমানের একটি ছবি টানিয়ে দেন। ১৯৮১ সালের ওই ছবিতে বায়তুল মোকাররমে গোলাম আযমকে জুতাপেটা করতে দেখা যায়।
ছাত্র ফেডারেশন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক অর্ক বড়ুয়া বলেন, ‘গতকাল ফাতিমা তাসনিম জুমা (ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক) বলেছিল, তার ইচ্ছা করেছে তাই জিন্নাহর ছবি লাগিয়েছে। ঠিক তেমনই আমাদের ইচ্ছা করেছে গোলাম আযমের ছবি লাগাতে, তাই লাগিয়েছি।’
এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ বলেন, পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুকে ঘোষণা করে জিন্নাহর দেওয়া যে বিবৃতি, ডাকসুর সংগ্রহশালায় সেটা অন্তর্ভুক্ত করার উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের বিরুদ্ধে তার অবস্থান তুলে ধরা। শিক্ষার্থীরা কেন এটা ভাঙল, সেটা আমি বুঝতে পারছি না। ইতিহাস গোপন করা মানে তা উন্মোচন করার পরিবর্তে জিন্নাহর পক্ষ নেওয়া।
এর আগে, সংস্কার শেষে গতকাল রোববার ডাকসুর সংগ্রহশালা চালু হয়, যেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একক বা গৌরবোজ্জ্বল ছবি রাখা হয়নি। নতুন করে যুক্ত করা হয় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি। এর মধ্যে একটি ছবি ১৯৪৮ সালে ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানের (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক অনুষ্ঠানের, যেখানে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘কেবল উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’। আরেকটি ১৯৪০ সালের মার্চ মাসে লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের বার্ষিক সম্মেলনের একটি দলগত ছবি, যেখানে জিন্নাহ রয়েছেন। অপরটি ১৯৭০ সালের নির্বাচন নিয়ে জিন্নাহর ছবি–সংবলিত পাকিস্তানের ডন পত্রিকার প্রতিবেদনের পেপার কাটিং।
গতকাল সংগ্রহশালা চালুর অনুষ্ঠানে ছিলেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ও মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা।
বিষয়টি নিয়ে জুমা বলেছিলেন, সেখানে জিন্নাহর কোনো একক ছবি রাখা হয়নি। ১৯০৫ থেকে ১৯৭১ সালের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ছবি একক ফ্রেমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
জিন্নাহর ছবি টানানোর ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছে ছাত্রদলও। সংগঠনটি এগুলোকে ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে সরে যাওয়ার লক্ষণ বলে অভিহিত করে।
