গ্রেপ্তার শ্রমিক নেতার মুক্তির দাবিতে দিনাজপুরে সড়ক অবরোধ
দিনাজপুরে পুলিশ সদস্যকে লাঞ্ছিত করার অপরাধে গ্রেপ্তার নেতার মুক্তির দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছেন পরিবহন শ্রমিকেরা।
আজ মঙ্গলবার দিনাজপুর শহর ও আশেপাশের এলাকার সাতটি স্থানে তার সড়ক অবরুদ্ধ করে রাখেন।
রোববার রাতে কোতোয়ালী থানায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) এক পরিদর্শককে চড় মারার অভিযোগে গ্রেপ্তার হন পরিবহন শ্রমিক নেতা মজিবর রহমান মুজিব।
কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নূর নবী বলেন, সকাল ১১টার দিকে অবরোধ শুরু হয়। বিকেল ৪টা পর্যন্ত অবরোধ চলছিল।
অবরোধের কারণে শহরে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এতে যাত্রী ও পথচারীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
এদিন সড়কেই সমাবেশের আয়োজন করেন পরিবহন শ্রমিক নেতারা। সেখান থেকে তিন দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো—মজিবর রহমানের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে; সিআইডি পরিদর্শককে গ্রেপ্তার এবং কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করতে হবে।
তারা বলেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে।
মজিবর রহমান জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের জেলা শাখার সদস্যসচিব এবং জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।
তবে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটি সোমবার দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে মজিবরকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব পদ থেকে বহিষ্কার করেছে। সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে একটি তদন্তের কাজে সিআইডির পরিদর্শক নওয়াবুর রহমান থানায় গিয়েছিলেন। তিনি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কক্ষের সামনে পৌঁছালে মজিবর তার কাছে ওসির অবস্থান জানতে চান।
নওয়াবুর জানান তিনি সিআইডির কর্মকর্তা, ওই থানার পুলিশ সদস্য নন। একপর্যায়ে মজিবরের সঙ্গে থাকা অজ্ঞাতপরিচয় দুই ব্যক্তির একজন নওয়াবুরকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নওয়াবুর প্রতিবাদ করলে ওই দুই ব্যক্তির প্ররোচনায় মজিবর তাকে চড় মারেন এবং হত্যার হুমকি দেন। পরবর্তীতে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা মজিবরকে আটক করেন।
ওই রাতেই নওয়াবুর বাদী হয়ে মজিবর ও অজ্ঞাতপরিচয় দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করেন। গতকাল বিকেলে মজিবরকে আদালতে হাজির করা হলে দিনাজপুরের একটি আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।