ঘরের জানালা ভেঙে স্কুলশিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, কারাগারে ৩
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় ঘরের জানালা ভেঙে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলশিক্ষার্থীকে (১৫) তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় দুই অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা।
মামলার পর ওই দুইজনসহ মোট তিন আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
উপজেলার ভাষানচর ইউনিয়নের একটি গ্রামে গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আল মামুন শাহ দ্য ডেইলি স্টারকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
ওই স্কুলশিক্ষার্থী ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
তার চাচা ডেইলি স্টারকে বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে আমার ভাতিজি তার ছোট বোন ও ছোট ভাই ছাড়া বাসায় আর কেউ ছিল না। রাত ১টার দিকে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়িটি ঘিরে ফেলে। তারা প্রথমে দরজা খুলতে চাপ দেয়। দরজা না খোলায় জানালা ভেঙে ঘরে ঢুকে স্কুলশিক্ষার্থীকে টেনে-হিঁচড়ে তুলে নিয়ে যায়।
‘সেসময় স্থানীয়রা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে সশস্ত্র দলটি তাদের ওপর হামলার হুমকি দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। পরে তারা ওই স্কুলশিক্ষার্থীকে একটি মোটরসাইকেলে তুলে পাশের গ্রামে নিয়ে যায়। সেখানে তিনজন ধর্ষণ করে’, বলেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পরে রাত ৩টার দিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ওই স্কুলশিক্ষার্থীকে বাড়ির উঠানে ফেলে রেখে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে তারা। এ সময় এলাকাবাসী ধাওয়া দিয়ে একটি মোটরসাইকেলসহ দুইজনকে আটক করে। পরে পিটুনি দিয়ে তাদের সদরপুর থানায় সোপর্দ করা হয়।
ওই স্কুলশিক্ষার্থীর মা ডেইলি স্টারকে বলেন, শাশুড়ির অপারেশনের জন্য আমি হাসপাতালে ছিলাম। খবর পেয়ে বাড়ি এসে দেখি আমার মেয়েকে উঠিয়ে নিয়ে গেছে। পরে রাত ৩টার দিকে বাড়ির উঠানে ফেলে রেখে যায়।
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের চিকিৎসক ডা. সালমা জাহান ডেইলি স্টারকে বলেন, স্কুলশিক্ষার্থীর বাম হাতে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পেটে লাথি মারার কারণে ব্যথা রয়েছে। এ ছাড়া বুকে ও গালে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্নও রয়েছে।
ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) শামছুল আজম সাংবাদিকদের বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
ওসি আব্দুল আল মামুন বলেন, এ ঘটনায় ওই শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে সাতজনের নাম উল্লেখ করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেছেন। জনতার হাতে আটক হওয়া হেলাল মৃধা ও রইস শিকদারকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আজ সকালে মামলার আরেক আসামি রনি বেপারীকে (১৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।