গাজীপুরে টয়লেট-সংলগ্ন দূষিত পানিতে সবজি ধুয়ে বিক্রির অভিযোগ

মঞ্জুরুল হক
মঞ্জুরুল হক

টয়লেট ও বর্জ্যের স্তূপ-সংলগ্ন শীতলক্ষ্যা নদীর দূষিত পানিতে সবজি ধুয়ে গাজীপুরের কাপাসিয়া কাঁচাবাজারে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার সকাল ১০টা ১০ মিনিটের দিকে সরেজমিনে দেখা গেছে, বাজারের টয়লেট ও বর্জ্যের স্তূপের পাশের নদীর পানিতে সবজি ধোয়া হচ্ছে। বাজারটিতে হাজারের বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও কাঁচা তরকারির দোকান রয়েছে।

সরেজমিনে আরও দেখা যায়, এক বিক্রেতা মুলা শাক, লাল শাক, ডাঁটাসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি পিকআপ ভ্যান থেকে নামিয়ে প্রথমে মাটিতে রাখছেন। পরে সেগুলো একে একে দূষিত পানিতে চুবিয়ে ধুয়ে আবার মাটিতে রেখে বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে যাচ্ছেন।

কেন দূষিত পানিতে সবজি ধোয়া হচ্ছে জানতে চাইলে সবজি বিক্রেতা আল আমীন (৪০) বলেন, ‘এখানে টয়লেটের পাশেই সবজি ধোয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই। শুধু আমি নই, দীর্ঘদিন ধরে সবাই এখানেই সবজি ধুয়ে বাজারে বিক্রি করছে। আমার কাছে এই পানিকে পরিষ্কারই মনে হয়েছে।’

শীতলক্ষ্যা নদীর পাশে বর্জ্যের স্তূপ। ছবি: স্টার

শুধু কাপাসিয়া নয়, গাজীপুর জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রির জন্য একাধিক নদী, খাল, নালা, বিল ও জমে থাকা ময়লাযুক্ত পানিতে সবজি ধোয়ার চিত্রও দেখা গেছে।

জেলার বরমী-শ্রীপুর আঞ্চলিক সড়কের রেলগেট এলাকায় দেখা যায়, সড়কের পাশের শালবনের কাছে জমে থাকা ময়লাযুক্ত পানিতে এক ব্যক্তি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা থামিয়ে সবজি ধুচ্ছেন। পরে ধোয়া সবজি সড়কের পাশেই স্তূপ করে রাখা হচ্ছে।

জানতে চাইলে ব্যবসায়ী শামসুল হক (৫০) বলেন, ‘শ্রীপুর বাজারে সবজি নিয়ে যাব। ধুলাবালি থাকলে মানুষ সবজি কিনতে চায় না।’

এ ঘটনায় জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ক্রেতা ও সচেতন নাগরিকরা। তারা বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

ছেলেকে নিয়ে কাপাসিয়া বাজারে কেনাকাটা করতে আসা রাজেন্দ্রপুর সাটিয়াবাড়ি এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ হাকিম (৫০) বলেন, ‘এখানে শাকসবজি ও মাছ তুলনামূলক তাজা পাওয়া যায় বলেই আসি। কিন্তু টয়লেট-সংলগ্ন পানিতে সবজি ধোয়া মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এটি কোনোভাবেই ঠিক না।’

টয়লেট ও বর্জ্যের স্তূপ-সংলগ্ন শীতলক্ষ্যা নদীর দূষিত পানিতে ধোয়া হচ্ছে শাক। ছবি: স্টার

স্থানীয় আরও কয়েকজন ক্রেতা জানান, টয়লেট-সংলগ্ন নোংরা পানিতে সবজি ধোয়ার দৃশ্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাদের দাবি, বাজারের টয়লেটের বর্জ্য লাইন নদীতে সংযুক্ত থাকায় ওই পানি আরও ঝুঁকিপূর্ণ।

কাপাসিয়া ডায়াবেটিক সমিতির চিকিৎসক ডা. জাহিদ মাহমুদ আকন্দ বলেন, ‘আমাদের নিজেদেরই পরিবেশ ঠিক রাখতে হবে। ময়লা পানিতে ধোয়া সবজি রান্না করে খেলেও নানা ধরনের রোগ হতে পারে।’

নদী ও প্রকৃতি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম বলেন, ‘দূষিত নদী, খাল, নালা কিংবা ডোবার পানিতে ধোয়া সবজিতে হেভি মেটালসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর উপাদান থাকার আশঙ্কা থাকে। এ ধরনের সবজি মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। দূষিত পানিতে যেন কোনোভাবেই সবজি ধোয়া না হয়, সে বিষয়ে কৃষি বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’

যোগাযোগ করা হলে কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাফিজুল হক দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘ময়লা পানিতে সবজি ধোয়ার বিষয়টি আমি জেনেছি। ঘটনাস্থলের পাশেই বাজারের টয়লেট রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’