নেত্রকোণায় ধর্ষণে ১১ বছরের শিশু অন্তঃসত্ত্বা: নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সিআইডিতে

নিজস্ব সংবাদদাতা, নেত্রকোণা

নেত্রকোণার মদন উপজেলায় ১১ বছর বয়সী শিশুর অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় নবজাতকের ডিএনএ সংগ্রহ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

এর আগে গত ১৭ মে মামলার আসামি মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

আজ বৃহস্পতিবার নবজাতকের ডিএনএ সংগ্রহের তথ্য দ্য ডেইলি স্টারকে নিশ্চিত করেছেন নেত্রকোণা কোর্ট পরিদর্শক মোহাম্মদ রিয়াদ মাহমুদ।  

তিনি বলেন, গত ২৮ জুলাই সিলেটের সেফহোমে থাকা নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

রিয়াদ মাহমুদ বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আক্তারুজ্জামানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ৯ জুলাই ওই নবজাতকের ডিএনএ সংগ্রহের জন্য নির্দেশ দেন।

এসআই আক্তারুজ্জামান ডেইলি স্টারকে বলেন, গত ২ জুলাই সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কন্যাশিশুর জন্ম হয়। আদালতের নির্দেশে নবজাতকের ডিএনএ সংগ্রহ করে সিআইডিতে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এর আগে অভিযুক্ত আসামির ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট পেলে আমরা পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেবো।

তিনি আরও বলেন, আগামী ২৪ আগস্ট মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন আদালত।

গত ২৩ এপ্রিল ওই শিশুর মা মদন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, শিক্ষক সাগর একাধিকবার শিশুটিকে ধর্ষণ করেন, যার ফলে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।

গত ৭ মে আদালত আসামিকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠান। রিমান্ড শেষে ১০ মে আদালতে হাজির করা হলে তদন্ত কর্মকর্তা সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধ প্রমাণের স্বার্থে ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন করেন। আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন।

শিশুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে তার মা আদালতের কাছে সুরক্ষার আবেদন করেন। পরে গত ১২ মে বিকেলে আদালতের নির্দেশে শিশুটিকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে সিলেটের একটি নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে (সেফহোম) পাঠানো হয়।