ঢাবিতে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে মারধর, ছাত্রদলের ৩ নেতাকে অব্যাহতি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের একটি চায়ের দোকানে পা তুলে বসাকে কেন্দ্র করে এক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের ৩ নেতার বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় রোববার রাতে হল প্রাধ্যক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী অভয় কুমার সিংহ।
অভিযুক্তরা হলেন—চন্দন দাস, ঝলক দাস ও রিপন চন্দ্র সরকার। তারা সবাই জগন্নাথ হল শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক।
এদিকে, আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল শাখা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, অভিযুক্ত ৩ নেতাকে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগপত্রে অভয় জানান, রোববার সন্ধ্যায় হলের নিচে একটি চায়ের দোকানে পায়ে সমস্যার পা তুলে বসেছিলে তিনি। এতে আপত্তি জানান চন্দন দাস। পরে তিনি নিজের কক্ষে ফিরে গেলে ছাত্রদলের ওই তিন নেতাসহ মোট চারজন তার কক্ষে ঢুকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে চায়ের দোকানে না যেতে হুমকি দেন।
অভিযোগের বিষয়ে জগন্নাথ হল শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ঝলক দাস দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘এগুলো সব মিথ্যা কথা। ছাত্রলীগের শেল্টারে এগুলো করছে সে।’
অভয়ের কক্ষে কেন গিয়েছিলেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তার সঙ্গে দেখা হওয়ায় কথা বলতে গিয়েছিলাম। রুমের বাইরে থেকেই কথা বলে চলে আসি।’
জানতে চাইলে জগন্নাথ হল সংসদের ভিপি পল্লব বর্মণ বলেন, আমি ছাত্রদল মনোনীত প্যানেল থেকে নির্বাচিত। অভয় আমাকে বিষয়টি জানালে আমি হলের সিসিটিভি ফুটেজ চেক করি। সেখানে অভিযুক্তদের অভয়ের কক্ষে প্রবেশ করতে দেখা গেছে।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য হল সংসদের মাধ্যমে প্রাধ্যক্ষের কাছে অভয়ের অভিযোগপত্র পাঠাই।
জানতে চাইলে জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক দেবাশীষ পাল ডেইলি স্টারকে বলেন, বিষয়টি রাতেই আমাকে জানানো হয়েছে। এরপর আমি ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. শিমুল হালদারকে আহ্বায়ক করে ৬ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। কমিটিকে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আজ রাতেই তদন্ত কমিটি তাদের কার্যক্রম শুরু করবে।