খুমেক হাসপাতালে আবার আগুন আতঙ্ক, রোগী-স্বজনদের ছোটাছুটি

নিজস্ব সংবাদদাতা, খুলনা

খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে আবারও আগুন লাগার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

আজ বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে হাসপাতালে আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়লে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। অনেকে তড়িঘড়ি করে রোগী নিয়ে নিচে নেমে আসেন।

খবর পেয়ে খুলনা ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ও সোনাডাঙ্গা থানার টহল পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে তারা নিশ্চিত হন, হাসপাতালে কোনো অগ্নিকাণ্ড হয়নি। গুজব ছড়িয়ে পড়ায় সাময়িকভাবে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছিল।

খুলনা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক মো. মাসুদ সরদার দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে হাসপাতালের পরিচালকের ফোন পাই। এরপর আমি নিজে দুটি ইউনিট নিয়ে হাসপাতালে যাই। পরে শিশু ওয়ার্ডের চারতলায় গিয়ে দেখি একটি নিম্নমানের মাল্টিপ্লাগে স্পার্ক হয়ে সেটি পুড়ে গেছে।

তিনি বলেন, এতে ধোঁয়া সৃষ্টি হলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই দৌড়াদৌড়ি করে নিচে নেমে যান। পরিচালককে বলেছি, রোগীদের স্বজনরা ব্যক্তিগতভাবে যে নিম্নমানের মাল্টিপ্লাগ ও ক্যাবল ব্যবহার করেন, সেগুলো যেন নিয়মিত মনিটরিং করা হয়। কারণ এসবের মাধ্যমে শর্ট সার্কিট বা দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

‘গতকালের ঘটনার পর থেকেই মানুষ ভীত হয়ে আছেন। তাই সামান্য ধোঁয়া দেখেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে’, বলেন তিনি।

মোতালেব হোসেন নামে এক রোগীর স্বজন বলেন, আমি তিনতলায় আইসিইউর পাশে রোগীর সঙ্গে ছিলাম। হঠাৎ ওপর থেকে লোকজনের ছোটাছুটি শুরু হয়। আমিও রোগী নিয়ে নিচে নেমে যাই। পরে জানতে পারি, আগুন লাগেনি। একটি মাল্টিপ্লাগ শর্ট সার্কিট হয়ে ধোঁয়া তৈরি হয়েছিল।

আরেক রোগীর স্বজন তৃষ্ণা বাড়ই বলেন, গতকালও খুব ভয় পেয়েছিলাম, আজ আবার একইভাবে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ছেলের সহায়তায় কোনোভাবে স্বামীকে নিচে নামিয়ে আনি। পরে জানতে পারি, আসলে বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

খুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. কাজী মো. আইনুল ইসলাম ডেইলি স্টারকে বলেন, গতকালের আগুনের ঘটনার কারণে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে এখনো আতঙ্ক কাজ করছে। সম্ভবত সে কারণেই গুজবটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আমরা বিষয়টা প্রথমে বুঝতে পারিনি। ফায়ার সার্ভিস বিভাগে তখন ফোন করি। তারা এসে ঘটনা দেখে ফিরে গেছে। ভয়ের কিছু নেই।

প্রসঙ্গত, গতকাল বুধবার ভোরে খুমেক হাসপাতালের চারতলা ভবনের তৃতীয় তলার একটি স্টোররুমে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।