বাংলাদেশ থেকে ৪ খাতে কর্মী নিতে আগ্রহী কাতার

বাসস
বাসস

বাংলাদেশের পাঁচটি নির্দিষ্ট কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, এসি টেকনিশিয়ান ও ওয়েল্ডিং খাতে কর্মী নিতে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেছে কাতার।

আজ সোমবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কনফারেন্স কক্ষে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠকে কাতারের শ্রমমন্ত্রী ড. আলী বিন সাঈদ বিন সামিখ আল মাররি এ আগ্রহ প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশ-কাতার যৌথ কমিটির বৈঠকের শুরুতে বাংলাদেশ সফরে আসায় ড. আলীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান আরিফুল হক।

মন্ত্রী বলেন, গত কয়েক দশকে দুদেশের মধ্যকার ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

বাংলাদেশি কর্মীদের সমস্যা সমাধান ও কল্যাণ নিশ্চিতে কাতার সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করে গভীর কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। বিশেষ করে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জরুরি চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাঠিয়ে কাতারের আমির যে মানবতার অনন্য নজির স্থাপন করেছেন, সেজন্য বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে গভীর কৃতজ্ঞতা জানান প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী।

আরিফুল হক চৌধুরী কাতারকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় শ্রমবাজার হিসেবেও উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, বর্তমানে ৪ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী কাতারের বিভিন্ন উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় দক্ষতা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে অবদান রাখছেন।

২০২৩ সালে ১ লাখ ৭ হাজার ৫৯৮ জন বাংলাদেশি কর্মী কাতারে গেছে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলতি বছর দোহা কর্তৃপক্ষ এই সংখ্যার দ্বিগুণ কর্মী নেবে।

কাতারগামী কর্মীদের জন্য ঢাকায় বর্তমানে মাত্র একটি ভিসা ও মেডিকেল সেন্টার রয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। স্বল্প সময়ে ভিসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করতে দেশের আট বিভাগীয় শহরে কাতারের ভিসা সেন্টার ও মেডিকেল সেন্টার স্থাপনের জন্য দেশটির শ্রমমন্ত্রীকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানান মন্ত্রী।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১১০টি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারে বৈদেশিক কর্মসংস্থান সংশ্লিষ্ট ৫৫টি ট্রেডে মানসম্মত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক কাতারের চলমান উন্নয়নযজ্ঞে অংশ নিতে বাংলাদেশ থেকে পর্যাপ্ত সংখ্যক দক্ষ চিকিৎসক, প্রকৌশলী, নার্স, কেয়ারগিভার, ইমাম, মোয়াজ্জিন, খতিব ও ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের জন্য সফররত শ্রমমন্ত্রীকে আহ্বান জানান।

ড. আলী বিন সামিখ আল মাররি বাংলাদেশের কর্মীদের কর্মদক্ষতার প্রশংসা করে জানান, বর্তমানে কাতারে প্রায় ৪ লাখ ৭৩ হাজার বাংলাদেশি শ্রমিক কর্মরত। তাদের মধ্যে ৩০ শতাংশ উন্নয়নখাতে এবং বাকিরা অন্যান্য পেশায় নিয়োজিত।

তিনি বাংলাদেশের পাঁচটি নির্দিষ্ট কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, এসি টেকনিশিয়ান ও ওয়েল্ডিং খাতে কর্মী নেওয়ার বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, কাতারে অদক্ষ কর্মীদের দক্ষ করে তুলতে ইতোমধ্যে দুটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

এ ছাড়া, বাংলাদেশে বিভাগীয় শহরে ভিসা সেন্টারের সংখ্যা বৃদ্ধির অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে কাতারের শ্রমমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন, বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে তার দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন।

যৌথ কমিটির এই বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত কাতারের রাষ্ট্রদূত সেয়ারা আলী মাহদি সাঈদ আল কাহতানি; প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ; প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান এবং দুদেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।