কসবায় বিএসএফের গুলিতে ২ বাংলাদেশি নিহত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যদের গুলিতে মো. মুরসালিন (২০) ও নবীর হোসেন (৫০) নামে দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।
আজ শনিবার সকালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এর আগে গত রাত আনুমানিক সোয়া ১১টার দিকে উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ধজানগর সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মুরসালিন উপজেলার ধজানগর গ্রামের মো. হেবযু মিয়ার ছেলে। নবীর হোসেন একই উপজেলার মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
৬০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম শরিফুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, এই ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। তারা কুমিল্লায় চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে তাদের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বিজিবির এই কর্মকর্তা বলেন, গত রাত সোয়া ১১টার দিকে চোরাচালানের উদ্দেশ্যে প্রায় ১৫ জন বাংলাদেশি তাদের ভারতীয় চোরাকারবারি সহযোগীদের সহায়তায় ভারতের প্রায় ২০০ গজ ভেতরে প্রবেশ করেন। অবৈধভাবে পণ্য নিয়ে ফেরার সময় পাথারিয়াদ্বার এলাকায় বিএসএফ ৪৯ ব্যাটালিয়নের টহল দল তাদের বাধা দেয়।
‘বাংলাদেশি চোরাকারবারিরা বিএসএফ সদস্যর ওপর চড়াও হলে তাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এক পর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা দুই রাউন্ড ছররা গুলি ছোড়েন,’ বলেন শরিফুল।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিজিবি জানিয়েছে, গুলিবিদ্ধ দুই বাংলাদেশি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের বিশালগড় মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। সূত্রের বরাত দিয়ে এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নিহত দুজন আগেও চোরাকারবারির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিল।
যোগাযোগ করা হলে মুরসালিনের বাবা হেবযু মিয়া ডেইলি স্টারকে জানান, তার ছেলে গোপীনাথপুর আলহাজ শাহ আলম ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।
তিনি বলেন, ‘এলাকার কয়েকজন লোক গত রাতে মুরসালিনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল।’
বিজিবি জানিয়েছে, মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
‘একটি প্রতিবাদ পত্র (প্রোটেস্ট নোট) পাঠানো হয়েছে। পতাকা বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে,’ বলেন শরিফুল।