ঘাতকের যেন সর্বোচ্চ শাস্তি হয়: যুক্তরাষ্ট্রে নিহত শিক্ষার্থী বৃষ্টির বাবা
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির বাবা জহির উদ্দিন আকন বলেছেন, জুলাইয়ের ১৭ তারিখে মেয়ের দেশে ফেরার কথা ছিল। প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, সে বিমানবন্দরে নামবে, আমরা নিতে আসব। কিন্তু তার আগেই ওকে নিতে এলাম। তবে জীবিত নয়, মৃত, এই আর কি।
আজ শনিবার সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মেয়ের মরদেহ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
জহির উদ্দিন আকন বলেন, ছোটবেলা থেকেই মেয়ের ইচ্ছে ছিল, বড় কিছু হবে এবং অত্যন্ত মেধাবী ছিল। সেভাবেই পরিশ্রম করে লেখাপড়া করত। পাশাপাশি তার ধর্মীয় বিদ্যাও ছিল অনেক।
তিনি বলেন, বৃষ্টির ইচ্ছে ছিল দেশে এসে বড় কিছু করবে এবং সাধারণ মানুষের জন্য কিছু করবে। এই ছিল তার প্রবল ইচ্ছা এবং একটা সার্টিফিকেট অর্জন করবে।
তিনি আরও বলেন, মেয়ের ডিজাইন করা একটা বাড়ি গ্রামের বাড়িতে করেছিলাম। সে এসে বাড়িটা উদ্বোধন করবে, এই প্রত্যাশা ছিল আর কি। গ্রামে যত দুঃখী মানুষ আছে, তাদের পাশে সব সময় থাকবে, এই ইচ্ছে ছিল তার।
বৃষ্টির বাবা বলেন, মেয়ের ইচ্ছে ছিল বাড়ির সামনে নেমপ্লেটে লেখা থাকবে ড. নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। সার্টিফিকেট যদিও পেয়েছে কিন্তু সেটা মরণোত্তর সার্টিফিকেট।
তিনি আরও বলেন, সবার কাছে দোয়া চাই। ঘাতকের যেন সর্বোচ্চ শাস্তি হয়, আমাদের বাংলাদেশের প্রশাসনের পক্ষ থেকে বা মন্ত্রণালয় থেকে যেন এটা বলা হয়। ঘাতকের সর্বোচ্চ শাস্তি যেন মৃত্যুদণ্ড হয়, এইটা আমি আশা করি।
এর আগে বৃষ্টির মরদেহ নিয়ে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট সকাল ৯টা ১৫ মিনিটের দিকে বিমানবন্দরে পৌঁছায়।
সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল নিখোঁজ হন।
পরে ২৪ এপ্রিল লিমন এবং ২৬ এপ্রিল বৃষ্টির মরদেহ পাওয়া যায়। গত সোমবার ৪ মে লিমনের মরদেহ দেশে পৌঁছায়।