মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে বিকল্প শ্রমবাজার খুঁজছে সরকার: সংসদে প্রধানমন্ত্রী
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে সরকার বিকল্প শ্রমবাজার খুঁজতে সরকার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিএনপির সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দীনের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশে বাংলাদেশি কর্মীদের সুযোগ বাড়াতে সার্বিয়া, গ্রিস, উত্তর মেসিডোনিয়া, রোমানিয়া, পর্তুগাল, ব্রাজিল ও রাশিয়ার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি আরও জানান, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোর সুপারিশের ভিত্তিতে প্রয়োজনে স্থানীয় লবিস্ট এবং বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের বাইরের দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করতে ইতিমধ্যে উচ্চপর্যায়ের সফরের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, থাইল্যান্ডের সঙ্গে একটি কর্মী নিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিএনপির আরেক সংসদ সদস্য নায়েব ইউসুফ আহমেদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় খোলার জন্য সরকার কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী সংসদকে জানান, গত ৮ থেকে ১১ এপ্রিল প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা মালয়েশিয়া সফর করেছেন। এই দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশি কর্মীদের মালয়েশিয়ায় যাওয়ার পথ সুগম হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার সমুদ্রসীমা ও সামুদ্রিক সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে ইতিমধ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সামুদ্রিক সম্পদ, মৎস্য, পর্যটন এবং পরিবেশ সংরক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য রেখে ‘সুনীল অর্থনীতি’র (ব্লু ইকোনমি) টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গঠনের বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।
চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, বর্তমানে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮৯ জন শিক্ষক রয়েছেন। এর মধ্যে ১ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষক ইতিমধ্যে ইংরেজিতে প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। তিনি জানান, আগামী ১ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া ‘পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি’র আওতায় বাকি শিক্ষকদেরও ইংরেজি ভাষায় প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
