ঝিনাইদহে ডেইলি স্টারের সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ ছাত্রদলকর্মীদের বিরুদ্ধে

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

ঝিনাইদহে আইনমন্ত্রীর অনুষ্ঠানের সংবাদ সংগ্রহের সময় দ্য ডেইলি স্টারের সংবাদদাতা ওমর আলী সোহাগকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে ছাত্রদলকর্মীদের বিরুদ্ধে। এসময় তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সাংবাদিক সোহাগ ঝিনাইদহ সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদউজ্জামান দ্য ডেইলি স্টারকে নিশ্চিত করেছেন।

আজ শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঝিনাইদহ শহরের পুরাতন ডিসি কোর্ট চত্বরের মুক্তমঞ্চের সামনে ঝিনাইদহ কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। ঝিনাইদহ-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন।

সোহাগ বলেন, ‘আমি অনুষ্ঠানের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়েছিলাম। অনুষ্ঠানশেষে অন্যান্য সাংবাদিকদের মতো আমিও আইনমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে যাই। আইনমন্ত্রী কথা বলা শুরু করলে হঠাৎ ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখন পেছন থেকে এসে বলেন, “তুই এখানে কেন এসেছিস। তুই সরকারের বদনামের নিউজ করিস, তুই আওয়ামী লীগের দোসর। এখান থেকে বের হয়ে যা।” এসব কথা বলার সময় তিনি আমাকে ধাক্কা দিতে দিতে বের করে দেন।’

‘পরে তিনি ছাত্রদলের কর্মীদের আমাকে মারার নির্দেশ দেন। আমি ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত বের হয়ে একটি চায়ের দোকানের পাশে দাঁড়াই। পরে সেখানে ছাত্রদলের ১৫-২০ জন নেতাকর্মী এসে আমাকে মারধর শুরু করে,’ অভিযোগ সোহাগের।

তিনি বলেন, ‘এ ঘটনার পর আমি ঝিনাইদহ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছি।’

অভিযুক্ত ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখন বর্তমানে জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তিনি বৈশাখী টেলিভিশনের ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি। 

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মারধরের বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করেন মাখন।

ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থলে ওমরকে আইনমন্ত্রীর ছবি তুলতে দেখে আমি বাঁধা দিয়ে বলেছি, “তুমি এখানে কী করছ?” এবং তাকে ওই জায়গা থেকে সরিয়ে দিয়েছি।’

এই কাজ করার এখতিয়ার আছে কি না—প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘না, নেই।’

এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমি প্রেসক্লাবের সভাপতিকে একজনকে উদ্দেশ্য করে “আপনি এখানে কেন?” বলতে দেখেছি। এরপর কী হয়েছে আমি জানি না।’

মাখনের বিএনপি সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে কিছু জানেন না উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘তবে তার (মাখনের) এটা করা অবশ্যই উচিত হয়নি।’

সাংবাদিক লাঞ্ছনার ঘটনা সত্যি হলে থানায় মামলা করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আইনি ব্যবস্থা নিলে তাকে (সোহাগকে) সহায়তা করা হবে।’

পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সোহাগের ওপর মাখন আক্রমণ করেছেন বলে সাধারণ ডায়েরিতে উল্লেখ করা হয়েছে।  

সোহাগ বলেন, ‘গত ১৫ জুলাই ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙচুরের সংবাদ ডেইলি স্টারে প্রকাশিত হয়। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে তখন থেকেই মাখন আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছেন।’

ওসি মো. আসাদউজ্জামান ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমরা জিডি পেয়েছি। এ ব্যাপারে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান ও আসিফ ইকবাল কাজলসহ স্থানীয় সাংবাদিক নেতারা।