আত্মগোপনে থাকা চাঁদপুরের স্বর্ণ ব্যবসায়ী চট্টগ্রামে পরিবারসহ আটক

নিজস্ব সংবাদদাতা, চাঁদপুর

চাঁদপুরের কুমিল্লা রোডের আখন্দ মার্কেটের স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাসকে আটক করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার ভোরে চট্টগ্রামের পটিয়ার দলঘাট দাসপাড়া থেকে তাকে পরিবারসহ আটক করা হয়।

চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানের নির্দেশে এই অভিযানের নেতৃত্ব দেন চাঁদপুর মডেল থানার এসআই কালাম গাজীসহ পুলিশের একটি দল। বর্তমানে তারা সড়কপথে চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।

এসআই কালাম গাজী বলেন, ‘গত ২২ আগস্ট পিন্টু দাসের ভাড়া বাড়ির মালিক রাসেল খানের দায়ের করা সাধারণ ডায়রির (জিডি) পরিপ্রেক্ষিতে অভিযান চালানো হয়। চাঁদপুর ও কুমিল্লায় পিন্টুদাসের স্বজন ও পরিচিত সব জায়গায় খোঁজ নিয়ে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে আজ ভোর ৫টার দিকে পটিয়ার দলঘাট দাসপাড়ার বাড়ি থেকে তাকে পরিবারসহ আটক করা হয়।’

পুলিশ জানায়, চাঁদপুর শহরের ‘এসকে জুয়েলার্স অ্যান্ড শিল্পালয়’-এর স্বত্বাধিকারী পিন্টু দাস। তিনি বন্ধকি স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্নজনের কাছ থেকে টাকা-পয়সা আত্মসাৎ করে গত ১৯ আগস্ট রাতে কুমিল্লা রোডের কালীবাড়ি মন্দির সংলগ্ন ভাড়া বাসার মালামাল নিয়ে পরিবারসহ পালিয়ে যান। তার বিরুদ্ধে আরও একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা আত্মগোপনে থাকা স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাসকে পালিয়ে যেতে সহায়তাকারী ট্রাকচালকের মাধ্যমে তাকে আটক করতে সক্ষম হই। তবে তার বিরুদ্ধে এখনো কোনো মামলা হয়নি। কোনো পাওনাদার মামলা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

স্থানীয় বেশ কয়েকজন স্বর্ণ ব্যবসায়ীর দাবি, পিন্টু দাস স্বর্ণের বন্ধকি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে স্বর্ণ বন্ধক রেখে টাকা দেওয়ার পর সময়মতো সেই স্বর্ণ ফেরত দিতে পারছিলেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সমিতি থেকেও ব্যবসার নামে ঋণ নেওয়ায় তিনি আর্থিক সংকটে পড়েন বলে দাবি তাদের।

কুমিল্লা রোডের অলঙ্কার শিল্পালয়ের স্বর্ণ ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান জানান, এক বছর আগে শহরের নতুন বাজার পাটোয়ারী বাড়ির এক ব্যক্তি জোড়পুকুর পাড়ে দোকান থাকা অবস্থায় পিন্টু দাসের কাছে প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকার স্বর্ণ বিক্রির জন্য দেন। পরে তিনি সেই টাকা দিতে টালবাহানা করেন। এরপর স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা বসে পিন্টু দাসের স্ত্রীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ছয় লাখ টাকা দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন। ২০ আগস্ট সেই টাকা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই ১৯ আগস্ট তিনি পরিবারসহ পালিয়ে যান বলে অভিযোগ উঠে।

রঘুনাথপুরের বাসিন্দা রাসেল খান অভিযোগ করেন, তিনি পিন্টু দাসের কাছে আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার ৫০ হাজার টাকায় বন্ধক রেখেছিলেন। পরে টাকা ফেরত দিয়ে স্বর্ণালংকার নিতে গেলে পিন্টু দাস তাকে পরের দিন আসতে বলেন। এরপর পরিবারসহ পিন্টু দাসের নিখোঁজ হওয়ার খবর পান তিনি। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেছেন বলেও দাবি করেন রাসেল।

এ ছাড়া, দক্ষিণ গুণরাজদীর বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম ১২ আনা এবং শুভঙ্কর মজুমদার ১০ আনা স্বর্ণ পিন্টু দাসের কাছে বন্ধক রেখেছিলেন বলে দাবি করেন।