গাইবান্ধায় শিবির নেতা হত্যা, ৪ পরিবারের ১৪ ঘরে আগুন
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় স্কুল কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধের জেরে ইসলামী ছাত্রশিবিরের এক স্থানীয় নেতাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এর জেরে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ঘরবাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে।
নিহত সাইফুল্লাহ বারী (২৪) সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি ছিলেন।
সাঘাটা ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সহকারী স্টেশনমাস্টার তোফাজ্জল হোসেন জানান, গতকাল সন্ধ্যা ৭টার দিকে বোনারপাড়া ইউনিয়নের পূর্ববতী গ্রামে চারটি পরিবারের ১৪টি ঘরে আগুন দেওয়া হয়। আগুনে আসবাবসহ অনেক মালামাল পুড়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের ২২ সদস্যের একটি দল রাত পৌনে ১০টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
যাদের বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে যুবদল নেতা মোখলেসুর রহমান মুকুল, পলাশ ও আশরাফ খন্দকার রয়েছেন।
সাঘাটা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) পবিত্র কুমার জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আশরাফকে আটক করেছে পুলিশ। এ ছাড়া সন্দেহভাজনদের পালাতে সহায়তা করার অভিযোগে আরও একজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।
গতকাল বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে বোনারপাড়া কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এর একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের লোকজন সাইফুল্লাহর ঘাড়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দেয়। এ সময় শিবিরকর্মী সালাউদ্দিনকেও ছুরিকাঘাত করা হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে সাইফুল্লাহ মারা যান। আর আশঙ্কাজনক অবস্থায় সালাউদ্দিনকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনার পর গতকাল সন্ধ্যায় হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে একটি মিছিল বের করেন স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। একপর্যায়ে বাড়িতে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
এদিকে, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গতকাল রাতে যুবদল নেতা মোখলেসুর রহমান মুকুলকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করেছে গাইবান্ধা জেলা যুবদল। জেলা যুবদলের সভাপতি রাগিব হাসান চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক ভূঁইয়ার সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।