জব্দ করা ১০ হাজার কেজি ইলিশ উধাও, বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের
ভোলার মেঘনা নদী থেকে ১০ হাজার কেজির বেশি ইলিশ মাছ অবৈধভাবে জব্দ করা এবং পরে তা উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় একজন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজকে প্রধান করে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এই কমিটিকে ঘটনার তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে এবং ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
কোন আদালতের নির্দেশ ছাড়া ওই বিপুল পরিমাণ ইলিশ জব্দ ও পরে তা গায়েব হয়ে যাওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে একটি রুলও জারি করেছেন হাইকোর্ট।
মো. কামাল হোসেনসহ ক্ষতিগ্রস্ত ১০ জন মাছ ব্যবসায়ীর করা এক রিট পিটিশনের শুনানি শেষে বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এই আদেশ জারি করেন।
আদালতে রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া ও মো. মনিরুল ইসলাম মিয়া। তাদের সহযোগিতা করেন আইনজীবী রোকনুজ্জামান ও মোর্শেদুল ইসলাম। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ফারুক হোসেন।
স্বরাষ্ট্রসচিব, কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক এবং মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আইনজীবী মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, মাছ পরিবহনের বৈধ অনুমোদন থাকার পরও গত ১২ মে ভোলার চরফ্যাশন থেকে ঢাকায় যাওয়ার পথে মেঘনা নদী থেকে রিটকারীদের ১০ হাজার ১৪০ কেজি ইলিশ মাছ জব্দ করে কোস্টগার্ড। এর আনুমানিক মূল্য ৯৪ লাখ টাকা।
এই আইনজীবী জানান, মাছ জব্দের সময় কোস্টগার্ড কোনো তালিকা (সিজার লিস্ট) তৈরি করেনি। পরে কোনো আদালতের নির্দেশ ছাড়াই মাছের ওই চালানটি গায়েব করে দেওয়া হয় বা অন্য কোথাও সরিয়ে ফেলা হয়।
কোস্টগার্ডের এই পদক্ষেপকে বেআইনি ও খামখেয়ালী বলে দাবি করেছেন রিটকারী ব্যবসায়ীরা। তারা জানান, এর ফলে তারা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি ও মানসিক কষ্টের মুখে পড়েছেন। রিট আবেদনে তারা মাছের মূল্যের সঙ্গে ২০ শতাংশ সুদসহ মোট ১ কোটি ১২ লাখ ৮৩ হাজার ৩৪০ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।