শরীয়তপুর

নারীকে খুঁটিতে বেঁধে মারধর, চুল কেটে মুখে কালি মাখানোর অভিযোগ

নিজস্ব সংবাদদাতা, শরীয়তপুর

শরীয়তপুরে এক নারীকে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর, মাথার চুল কেটে দেওয়া ও মুখে কালি মাখানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন নারীর বিরুদ্ধে। এ সময় তার গলায় জুতার মালাও পরিয়ে দেওয়া হয়।

আজ শনিবার সকাল ১১টার দিকে শরীয়তপুর সদর উপজেলার উত্তর পালং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরের মাধ্যমে খবর পেয়ে দুপুর ১২টার দিকে পালং মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারীকে উদ্ধার করে এবং চিকিৎসার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ওই নারীর সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজন নারীর টাকা-পয়সা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।

তিনি বলেন, ‘ভুক্তভোগী আইনগত ব্যবস্থা নিতে চাইলে পুলিশ প্রয়োজনীয় সহায়তা করবে।’

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ভুক্তভোগী নারীর স্বামী লিবিয়াপ্রবাসী। সন্তানদের নিয়ে তিনি উপজেলার উত্তর পালং এলাকায় বসবাস করেন। স্থানীয় কয়েকজনকে তিনি টাকা ধার দিয়েছিলেন বলে দাবি করছেন। ওই টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তার সঙ্গে ধার নেওয়া ব্যক্তিদের বিরোধ চলছিল।

চিকিৎসাধীন ওই নারী অভিযোগ করেন, ‘স্থানীয় দেলোয়ার কোটারির সঙ্গে আমার টাকা-পয়সার লেনদেন রয়েছে। নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তি করে তিনি আমার কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। টাকা ফেরত চাইলে তিনি নানা অজুহাত দিচ্ছিলেন। এক সপ্তাহ আগে আমি টাকা ফেরতের জন্য চাপ দিই। এরপর সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় চলে যাই।’

‘আজ এলাকায় ফিরে আসার পর দেলোয়ারের স্ত্রী, মেয়ে ও তাদের সহযোগীরা আমাকে মারধর করেন। তারা আমার চুল কেটে মুখে কালি মেখে খুঁটিতে বেঁধে রাখেন। আমি এ ঘটনার বিচার চাই। আমি মামলা করব।’

এই অভিযোগ অস্বীকার করে দেলোয়ার কোটারির স্ত্রী আমেনা বেগম বলেন, ‘(ভুক্তভোগী নারী) প্রায়ই আমার স্বামীকে ফোন করে টাকা চাইত। কিছুদিন আগে তিনি আমার স্বামীকে ফোন করে জানান যে তার পা ভেঙে গেছে এবং টাকার প্রয়োজন। আমার স্বামী তাকে দেখতে গেলে তাকে আটকে রাখে এবং জোরপূর্বক কিছু টাকা নেয়।’

আমেনার অভিযোগ, সেই ঘটনার জেরেই আজ ওই নারীকে ‘আটকে রাখা হয়েছিল। তিনি এখন নিজের অপকর্ম আড়াল করতে টাকা পাওনার কথা বলছেন।’