বৃদ্ধার মৃত্যু: বয়স্ক নাগরিকদের জন্য কেয়ারগিভার নিয়োগে হাইকোর্টের রুল

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী বৃদ্ধ ও অক্ষম নাগরিকদের জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে কেয়ারগিভার বা নার্স প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ও নিয়োগের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

গত ৩১ মে মিরপুরের একটি ফ্ল্যাট থেকে ৭৫ বছর বয়সী নূরজাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় করা একটি রিটের শুনানি শেষে আজ মঙ্গলবার বিচারপতি ফাতেমা নাজিব ও বিচারপতি এএফএম সাইফুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

একই রুলে ওই বৃদ্ধার মৃত্যুর ক্ষেত্রে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা নিশ্চিতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত না করাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

নূরজাহান বেগমের মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার নেতৃত্বে ৩ সদস্যের কমিটি গঠনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, আইন সচিবের কাছে এর ব্যাখ্যাও চেয়েছেন হাইকোর্ট।

গত ৩ জুন এ রিট আবেদন করেছিলেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শরীফ সরকার।

আবেদনে তিনি বলেন, নূরজাহান বেগমের মরদেহ নিজ ফ্ল্যাটে অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় ৭ দিনেরও বেশি সময় পড়ে থাকার পর পচন ধরা অবস্থায় উদ্ধার হয়। এটি সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের শামিল।

আবেদনে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার নেতৃত্বে কমিটি গঠন করে নূরজাহানের মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান, মানবাধিকার কমিশনকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি খতিয়ে দেখার ও বৃদ্ধ ও অক্ষম নাগরিকদের জন্য কেয়ারগিভার নিয়োগে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ হবে না, জানতে চেয়ে রুল জারির প্রার্থনা করা হয়।

একইসঙ্গে অবহেলার কারণে মৃত্যুর অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা নিতে পুলিশ মহাপরিদর্শক, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার ও পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়েও রুল জারির প্রার্থনা করা হয় আবেদনে।

শুনানিতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে অংশ নেন ব্যারিস্টার সানজিদ সিদ্দিকী এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল ওয়াহাব।