রামিসা হত্যা: সোহেল রানা ও তার স্ত্রীর বিচার শুরু
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ২ আসামির বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন ঢাকার একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল।
আজ সোমবার শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ আদেশ দেন।
একই সঙ্গে আগামীকাল মঙ্গলবার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে। এদিন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা সাক্ষ্য দেবেন।
অভিযোগ পড়ে শোনানোর পর আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্ন খাতুন নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন বলে জানান বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ।
এর আগে গত ২৪ মে পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন। চার্জশিটে ৩১ বছর বয়সী সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হত্যা ও আলামত নষ্টের অভিযোগ এবং ২৬ বছর বয়সী স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে আলামত নষ্ট ও মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়।
চার্জশিট দাখিলের কয়েক ঘণ্টা পরই সিএমএম আদালত মামলাটি নিষ্পত্তির জন্য শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১৯ মে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসাকে প্রতিবেশী সোহেল রানা কৌশলে নিজের ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে অপরাধ ঢাকতে সে শিশুটির গলা কেটে হত্যা ও লাশ টুকরো করার চেষ্টা চালায়। ঘটনার পরদিন সোহেলের ঘর থেকে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পরদিনই ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে ওই দম্পতি এবং এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।
এদিকে অপরাধের ভয়াবহতা বিবেচনা করে গত ২২ মে জরুরি ভার্চুয়াল সভায় আসামিদের কোনো ধরনের আইনি সহায়তা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ঢাকা বার অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ)। পরবর্তীতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে গত ২৩ মে সরকারের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুসা কালিমুল্লাহকে আসামিপক্ষের রাষ্ট্রীয় আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।