রামিসা হত্যা: চার্জশিটে উঠে এসেছে ভয়াবহতা
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ। পাঁচ দিনের তদন্ত শেষে ৪৭ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, প্রধান সন্দেহভাজন সোহেল রানা (৩০) রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার পর আলামত নষ্ট করে। সোহেলকে বাঁচাতে মিথ্যা তথ্য দেয় এবং আলামত নষ্টে সহযোগিতা করে তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন (২৬)।
ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকিন অভিযোগপত্র আমলে নেন। ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ জানান, আগামী ১ জুন অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
গতকাল পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওহিদুজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে অভিযোগপত্রটি জমা দেন। শুনানির পর মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়।
অভিযুক্তের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুসা কলিমুল্লাহকে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত রোববার এই মামলায় আজিজুর রহমান দুলুকে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি
অভিযোগপত্রে বলা হয়, পেশায় অটোরিকশা মেকানিক সোহেল গত ২০ মে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তিনি জানান, সাবলেটের অন্য সদস্যরা কাজে বেরিয়ে যাওয়ার পর সকালে তিনি নিয়মিত মাদক সেবন করতেন।
জবানবন্দিতে বলা হয়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পাশের বাসার রামিসাকে দেখতে পেয়ে সোহেল তাকে ডেকে নেন। শিশুটি ঘরে এলে সে তাকে বাথরুমে নিয়ে যান। রামিসা চিৎকার করলে সোহেল তার মুখ চেপে ধরেন এবং মুখে কাপড় গুঁজে দিয়ে ধর্ষণ করেন।
শিশুটির জ্ঞান হারালে মারা গেছে বলে ধরে নেন সোহেল। প্রমাণ নষ্ট করার উদ্দেশ্যে এরপর একটি ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশুটির মরদেহ বিকৃত করার চেষ্টা করেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাথা বিচ্ছিন্ন করার কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও শকে রামিসার মৃত্যু হয়। তার শরীরের সব ক্ষত ছিল মৃত্যুপূর্ববর্তী বা বেঁচে থাকাকালীন।
সোহেলের জবানবন্দিতে পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহও উঠে এসেছে। তিনি জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সবাই যখন রামিসাকে খুঁজছিল, তখন তার মা আমার ঘরের সামনে রামিসার জুতো দেখতে পান। তিনি রামিসাকে ডাকতে থাকেন। কোনো সাড়া না পেয়ে লোকজন আমার দরজায় ধাক্কা দিতে শুরু করে।
তিনি আরও জানান, ‘আমার স্ত্রী আমাকে পালিয়ে যেতে বলে। আমি রেঞ্জ দিয়ে জানালার গ্রিল ভেঙে ফেলি। লোকজন যখন দরজায় সমানে ধাক্কা দিচ্ছিল, তখন আমার স্ত্রী দরজা চেপে ধরে রেখে আমাকে পালাতে সাহায্য করে।’ সোহেল পালিয়ে যাওয়ার পরই তার স্ত্রী দরজা খুলে দেয় বলে জবানবন্দিতে জানানো হয়।