ময়মনসিংহে দিপু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আরও ৩

নিজস্ব সংবাদদাতা, ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহের ভালুকায় পোশাকশ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গতকাল সোমবার বিকেলে জামিরদিয়া মাস্টারবাড়ি এলাকার পাইওনিয়ার ফ্যাক্টরির সামনে থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, ময়মনসিংহের তাজমুল সরকার ওরফে সাদেক (২২), কিশোরগঞ্জের রুবেল মিয়া (৩৬) এবং নারায়ণগঞ্জের রবিন (৩৭)।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন আজ মঙ্গলবার দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গ্রেপ্তার সবাই পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস বিডি লিমিটেডের শ্রমিক।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়। বুধাবার শুনানির দিন নির্ধারণ করে তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তারা উত্তেজিত জনতাকে উসকানি দেন এবং দিপু চন্দ্র দাসের ওপর হামলা ও মরদেহে নির্যাতনের ঘটনায় সহযোগিতা করেন।

পুলিশ জানায়, এ মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। এছাড়া ১২ জন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

পুলিশ আরও জানায়, দিপু চন্দ্র দাস (২৭) জেলার তারাকান্দা উপজেলার মোকামিয়া কান্দা গ্রামের রবি চন্দ্র দাসের ছেলে। দুই বছর ধরে তিনি ভালুকার ডুবালিয়াপাড়া এলাকায় অবস্থিত পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড কারখানায় কর্মরত ছিলেন। গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে দিপুর বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তখন দিপু কারখানার ভেতরে ছিলেন। কারখানার সামনে মানুষ জড়ো হতে থাকলে দিপুকে চাকরি থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করা হয়। রাত ৯টার দিকে কারখানা থেকে বের করে দিলে বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে গণপিটুনি দেয়। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।

ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা তার মরদেহ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে গাছে ঝুলিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই অপু চন্দ্র দাস ভালুকা মডেল থানায় বাদী হয়ে ১৫০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করে মামলা করেন।