কক্সবাজার

ছেলের ওপর হামলা ঠেকাতে গিয়ে মায়ের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার

কক্সবাজারের উখিয়ায় ছেলের ওপর বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাকর্মীদের হামলা ঠেকাতে গিয়ে এক নারী নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের তৈপালং এলাকায় গতকাল শনিবার রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

ওসি আরও জানান, নিহত ছায়েরা বেগম (৫৫) ওই এলাকার সাব্বির আহমদের স্ত্রী। তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তৈপালং মাদ্রাসার একটি দেয়ালে কয়েকদিন আগে ‘জয় বাংলা, জয়তু শেখ হাসিনা’ লেখা হয়। এ ঘটনার পর স্থানীয় বিএনপি নেতারা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেন।

বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তর্ক-বিতর্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

গতকাল সন্ধ্যায় স্থানীয় ছাত্রদল কর্মী জিসান সিকদার ওই দেয়াল লিখন নিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। পরে ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ ইউনুস ওই পোস্টে ‘হাহা’ প্রতিক্রিয়া দিলে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল রাতে বিএনপি ও ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মী ইউনুসকে আটকে রেখে মারধর করে। এ সময় ইউনুসের বন্ধু ও স্থানীয় এনজিও কর্মী এস এম ইমরান বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়।

ঘটনা জানতে পেরে ইমরানের মা ছায়েরা বেগম ঘটনাস্থলে ছুটে যান। ছেলেকে বাঁচাতে ছায়েরাকে হামলাকারীরা ধাক্কা দিলে তিনি মাটিতে পড়ে যান এবং ঘটনাস্থলেই অসুস্থ হয়ে পড়েন।

তাকে উদ্ধার করে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এস এম ইমরান সাংবাদিকদের বলেন, 'স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রহিম ও তার ছেলে আকাশ, বিএনপি নেতা মিজান সিকদার ও তার ছেলে জিসান সিকদার এবং শ্রমিক দল নেতা সাইফুল সিকদারসহ ১০-১২ জন কোনো উসকানি ছাড়াই আমাদের ওপর হামলা চালায়।'

তিনি বলেন, ‘মা আমাকে বাঁচাতে এসেছিলেন। তারা মায়ের ঘাড়ে ধাক্কা দিলে মা মাটিতে পড়ে যান। আমরা দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই, কিন্তু ডাক্তার মাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

অভিযুক্তরা এ অভিযোগ অস্বীকার করেন। ঘটনার পর রাতেই বিএনপি নেতা মিজান সিকদার ও তার ছেলে জিসান সিকদার একটি সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেন, ঘটনার সময় তারা কেউই ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না।

জিসান সিকদার বলেন, 'রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে আমাদের এ ঘটনায় ফাঁসানো হচ্ছে। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।'

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, 'ফেসবুকে "হাহা" রিঅ্যাকশন দেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত। ধস্তাধস্তির সময় ওই নারীকে ধাক্কা দেওয়া হয় এবং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর তিনি মারা যান।'

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান জানান, সুরতহাল প্রতিবেদনে মৃত নারীর শরীরে কোনো দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

‘তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে’ উল্লেখ করে ওসি জানান, আজ বিকেল পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মোহাম্মদ ইউনুসকে হেফাজতে নিলেও আজ তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান ওসি।

যোগাযোগ করা হলে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার সুবক্তগীন সোহেল জানান, আজ ময়নাতদন্ত সম্পন্নের পর প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সারওয়ার জাহান চৌধুরী ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘এ ঘটনা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও পুলিশের তদন্তে যদি মারধরের অভিযোগ প্রমাণিত হয় এবং ওই নারীর মৃত্যুর সঙ্গে বিএনপির কোনো নেতাকর্মীর জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে, তবে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'