ফতুল্লায় ঝুট ব্যবসা নিয়ে যুবদলের ২ পক্ষের সংঘর্ষ, শিশুসহ গুলিবিদ্ধ ৩

নিজস্ব সংবাদদাতা, নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গার্মেন্টসের ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে শিশুসহ অন্তত ৩ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিসিক শিল্পাঞ্চলের পাশে চাঁদনী হাউজিং এলাকায় এ সংঘর্ষ শুরু হয়। স্থানীয় যুবদলের দুপক্ষের মধ্যে অন্তত ১ ঘণ্টা ধরে এ সংঘর্ষ চলে।

প্রাথমিক তদন্তের বরাতে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাসিনুজ্জামান দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আহতরা হলেন এনায়েতনগর ইউনিয়ন বিএনপির ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হোসেন খোকার ছেলে রাকিব (২৩), বিএনপির কর্মী রফিক (৪০) ও স্থানীয় বাসিন্দা আসমাউল হোসেনের ছেলে ইমরান হোসেন (১৩)।

ইমরান আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জানিয়েছে পরিবারের সদস্যরা।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, 'একটি পক্ষ গত ১৮ মাস ধরে একটি কারখানার ঝুটের নিয়ন্ত্রণ করছিল। প্রতিপক্ষের সঙ্গে এ নিয়ে দ্বন্দ্বও চলছিল। দ্বন্দ্বের জেরে আজ সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৩ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে তথ্য আছে।'

গুলিবিদ্ধ ইমরানের বড় বোন ইশা মনি ডেইলি স্টারকে বলেন, 'বাড়ির পাশে মাদ্রাসা থেকে ফেরার পথে ইমরানের পেটে গুলি লাগে।'

আহত অপর দুজন নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগের সরকার পতনের পর এনায়েতনগর ইউনিয়নের হরিহরপাড়ার চাঁদনী হাউজিং এলাকার বেস্ট স্টাইল কম্পোজিট লিমিটেডের ঝুট নামাতেন জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির অনুসারীরা। এ নিয়ে তাদের সঙ্গে ফতুল্লা থানা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান ও তার অনুসারীদের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জেরে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

অন্তত তিনজন প্রত্যক্ষদর্শী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, 'উভয়পক্ষ আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি ছোড়ে, ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে যায় ও ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দেন।'

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসিনুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

যুবদল নেতা মাসুদুরের পক্ষের বিএনপি নেতা মো. হোসেন খোকা সাংবাদিকদের বলেন, 'মশিউর রহমান রনির অনুসারী এনায়েতনগর ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব খাইরুল আলম জসিম ও যুবদলকর্মী অভিসহ লোকজন কারখানার সামনে অবস্থান নেয়। পরে মাসুদুর রহমানের নেতৃত্বে তার অনুসারীরা সেখানে গেলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।'

'আমার ওপরও হামলা হয়। আমাকে বাঁচাতে গিয়ে আমার ছেলে গুলিবিদ্ধ হয়,' বলেন তিনি।

যোগাযোগ করা হলে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি টেলিফোনে ডেইলি স্টারকে বলেন, 'কারখানা থেকে আজ ঝুট নামার কথা ছিল। যারা বৈধভাবে ঝুট নামাচ্ছিলেন, তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। তবে ঘটনাটি কোনো রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব নয়, পুরোটা ব্যবসায়িক। আর এতে আমি কোনোভাবে জড়িত নই, আমি ঘুম থেকে উঠে ঘটনাটি জেনেছি।'

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসিনুজ্জামান বলেন, 'কোন পক্ষ গুলি চালিয়েছে তা এখনো নিশ্চিত হতে পারিনি। তবে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'