আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে তদন্তে এফবিআই
যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ চলার মাঝেই দেশটির ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) এজেন্টরা আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৩২০ মিলিয়ন ডলারের বিশাল অঙ্কের সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে এএফএ-এর বিরুদ্ধে এই তদন্ত চলছে। আর্জেন্টিনার শীর্ষস্থানীয় দৈনিক পত্রিকা ‘লা নাসিওন’ এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে আটলান্টায় বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-২ গোলের নাটকীয় জয়ে রেফারির কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে এমনিতেই চরম বিতর্ক চলছে। তার মধ্যেই ‘লা নাসিওন’-এর প্রতিবেদনটি সামনে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, সভাপতি ক্লদিও তাপিয়ার নেতৃত্বাধীন আর্জেন্টিনার সর্বোচ্চ ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থ পাচার বা জালিয়াতি করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ট্যুরপ্রোড এন্টার এলএলসি এএফএ-এর বৈদেশিক আর্থিক বিষয়গুলো দেখাশোনা করে। প্রতিষ্ঠানটি এখন তদন্তের মুখে রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তাদের সঙ্গে জড়িত দুই ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কয়েকশ মিলিয়ন ডলার লেনদেন করেছেন। ব্যাংকগুলো হলো— সিটি ব্যাংক, সিনোভাস, ব্যাংক অব আমেরিকা, জেপি মরগান ও পিএনসি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই অ্যাকাউন্টগুলোর মাধ্যমে ট্যুরপ্রোড এন্টার এলএলসি এএফএ-এর অন্তত ২৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার তহবিলের হিসাব-নিকাশ সামলেছে। তবে এই বিপুল পরিমাণ অর্থের কেবল একটি অংশই তাপিয়ার নেতৃত্বাধীন সংস্থাটির নিয়মিত খরচের সঙ্গে মিলেছে। বাকি ৫৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিভিন্ন কোম্পানি ও সুবিধাভোগী ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু কেন এই অর্থ তাদেরকে দেওয়া হয়েছে, নথিপত্রে তার কোনো স্পষ্ট কারণ পাওয়া যায়নি।
এর আগেও তাপিয়া নানা ধরনের সংকটের মুখে পড়েছেন। এর মধ্যে গত মার্চ মাসে তার বিরুদ্ধে ওঠা কর ফাঁকির অভিযোগ এবং ক্লাবগুলোর মালিকানার নিয়ম নিয়ে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইয়ের সঙ্গে দ্বন্দ্ব উল্লেখযোগ্য।