বগুড়ায় যুবদল নেতার নির্যাতনে ব্যবসায়ীর মৃত্যুর অভিযোগ

নিজস্ব সংবাদদাতা, বগুড়া

বগুড়ায় যুবদল নেতা শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের শিকার ওই ব্যবসায়ী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ শুক্রবার ভোরে মারা যান।

নিহত আলাল শেখ (৪৩) বগুড়া শহরের চাকসুত্রাপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি বগুড়া ফতেহ আলী বাজার কাঁচামাল ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ছিলেন।

তার বাবা গত ২৯ মার্চ ২৮ জনের নাম উল্লেখ ও আরও ২০-৩০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে অপহরণ ও হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। আলালের মৃত্যুর পর এটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়েছে।

মামলায় বগুড়া জেলা যুবদলের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক শফিকুল ইসলামকে (৫০) প্রধান আসামি করা হয়েছে।

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আলী দ্য ডেইলি স্টারকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত ২৮ মার্চ ফতেহ আলী বাজার কাঁচামাল ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির ত্রিবার্ষিক সাধারণ নির্বাচনের দিন সকাল পৌনে ১১টার দিকে শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে কয়েকজন মাছ বাজারের সামনে থেকে আলাল শেখকে অপহরণ করে।

তাকে বগুড়া সদরের মালগ্রাম দবতলা এলাকায় নিয়ে নির্যাতন করা হয়। হাতুড়ির আঘাত থেকে মাথা রক্ষা করতে গেলে হামলাকারীরা তার ডান কবজি ভেঙে দেয়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ডান পায়ের গোড়ালির রগও কেটে দেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় আরও বলা হয়, ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ওই রাতেই তাকে ঢাকার সিটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে বগুড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার অভিযান চালিয়ে ওই দিনই চারজনকে আটক করেন। পরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

দ্য ডেইলি স্টারকে ওসি ইকবাল বাহার বলেন, ‘আলালের মৃত্যুর আগে পুলিশ তার জবানবন্দি গ্রহণ করে। ওই জবানবন্দিতে আলাল অভিযোগ করেন, প্রধান আসামি শফিকুলের নেতৃত্বে ২৫ থেকে ৪০ জন তাকে পূর্ব শত্রুতার জেরে অপহরণ করে বাঁশঝাড়ে নিয়ে গিয়ে হাতুড়ি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে নির্যাতন করে।’

‘হামলাকারীরা তার হাত-পা ভেঙে দেয় এবং ডান হাত ও পায়ের রগ কেটে দেয়। প্রধান আসামি শফিকুল ইসলাম এখনো পলাতক,’ বলেন ওসি ইকবাল।

যোগাযোগ করা হলে বগুড়া জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘ঘটনার কথা আমরা শুনেছি। শ্রমবিষয়ক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম দোষী প্রমাণিত হলে দল তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে।’

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আলী দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে আলাল শেখকে অপহরণ করে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়। প্রধান আসামি ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’