‘গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের গল্প’ নিয়ে ইউপিএলে আড্ডা

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

প্রান্তিক মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার সংগ্রাম, গণস্বাস্থ্যভিত্তিক চিকিৎসা ভাবনা ও দেশের জনস্বাস্থ্য আন্দোলনের অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রকাশিত বই ‘গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের গল্প: পাবলিক হেলথের প্রথম পাঠ’ ঘিরে আড্ডা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

গত শনিবার সকালে রাজধানীর ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) প্রধান কার্যালয়ে এ আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বইটির লেখক মোশতাক আহমদ গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জন্ম, বিকাশ এবং প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় আহতদের চিকিৎসা দিতে গড়ে ওঠা ‘বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতাল’ থেকেই গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সূচনা হয়। পরে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি শুধু চিকিৎসাসেবা নয়, জাতীয় ওষুধ নীতি প্রণয়নসহ জনস্বাস্থ্য খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

লেখক মোশতাক আহমদ বলেন, দেশে জনস্বাস্থ্য এখনো অবহেলিত একটি ক্ষেত্র। মেডিকেল শিক্ষায় কমিউনিটি মেডিসিন থাকলেও এ বিষয়ে আগ্রহ কম। তবে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র প্রান্তিক মানুষের জন্য একটি কার্যকর কমিউনিটি হেলথ মডেল তৈরি করেছে।

নারী অধিকারকর্মী শিরীন পারভীন হক বলেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র শুরু থেকেই ‘গ্রামে চল, গ্রাম গড়’ এবং ‘নারীর উন্নয়ন ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়’—এই নীতিতে কাজ করে আসছে।

প্রশিক্ষিত নারী স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে সেবা দেওয়ার উদ্যোগ সে সময় ব্যতিক্রমী ছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে কথা বলছেন ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম। ছবি: সংগৃহীত
অনুষ্ঠানে কথা বলছেন ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম। ছবি: সংগৃহীত

বক্তারা জানান, মুক্তিযুদ্ধের সময় নারীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাস্থ্যসেবায় যুক্ত করা হয়। স্বাধীনতার পর সাভারে সীমিত পরিসরে শুরু হওয়া এ উদ্যোগ ধীরে ধীরে বিস্তৃত হয়।

আলোচনায় আরও বলা হয়, সীমিত সম্পদ ও কঠিন পরিবেশে শুরু হওয়া এই প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা দীর্ঘদিন কষ্টসাধ্য জীবনযাপন করেও স্বাস্থ্যসেবা চালিয়ে যান। পরবর্তীতে তাদের কাজ আন্তর্জাতিক পর্যায়েও স্বীকৃতি পায়।

বক্তারা জানান, স্বল্পশিক্ষিত কিন্তু প্রশিক্ষিত নারীদের স্বাস্থ্যসেবায় যুক্ত করার বিষয় নিয়ে শুরুতে বিতর্ক তৈরি হলেও পরে এটি সফল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের হাসপাতালে সংক্রমণের হার তুলনামূলকভাবে কম ছিল।

অনুষ্ঠানে আরও আলোচনা হয় দেশের ওষুধ নীতি প্রণয়নে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর ভূমিকা নিয়ে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তালিকা অনুসরণ করে জাতীয় ওষুধ নীতি প্রণয়নের উদ্যোগ দেশীয় ওষুধ শিল্পকে শক্তিশালী করেছে বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন উন্নয়নকর্মী আহমদ মোশতাক রাজা চৌধুরী, চিকিৎসক মোহাম্মদ ইকবাল, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মোশতাক আহমদসহ অনেকে।

এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম, মানবাধিকারকর্মী ইলিরা দেওয়ান, কথাসাহিত্যিক আফসানা বেগম, অধ্যাপক এম এম আকাশ ও গবেষক ড. খুরশিদ আলম।