কোষ্ঠকাঠিন্যে ইসবগুলই একমাত্র নয়, আরও আছে প্রাকৃতিক সমাধান

স্টার অনলাইন ডেস্ক

কোষ্ঠকাঠিন্য খুবই পরিচিত একটি সমস্যা। আমাদের দেশে প্রতি সাত জনের মধ্যে একজনের কোষ্ঠকাঠিন্য রয়েছে। এই সমস্যায় পড়লে প্রথমেই মাথায় আসে ইসবগুলের নাম। এটি অন্ত্রের ভেতরে পানি শোষণ করে মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে, ফলে মলত্যাগ সহজ হয়। তবে এটাই একমাত্র প্রাকৃতিক সমাধান নয়। অনেকেই আছেন ইসবগুলের ভূষি খেতে পছন্দ করেন না। তারা বছে নিতে পারেন এর বিকল্পগুলো।

জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সাবেক পরিচালক, পরিপাকতন্ত্র ও লিভার রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. ফারুক আহমেদ জানান, কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে জীবনযাপনে পরিবর্তন আনতে হবে। সুস্থ স্বাভাবিক জীবনযাপন ও খাদ্যাভাসে অভ্যস্ত হতে হবে। যে খাবারে ফাইবার বা আঁশের পরিমাণ বেশি এমন খাবার, শাকসবজি, ফল খেতে হবে। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে। নিয়মিত ব্যায়াম, হাঁটাহাঁটি ও কায়িক পরিশ্রম করতে হবে। এর পাশাপাশি পরিমিত ঘুম নিশ্চিত করতে হবে।

ইসবগুলের যত প্রাকৃতিক বিকল্পত্রিফলা

ত্রিফলা:

কোষ্ঠকাঠিন্য বা হজমের সমস্যায় ইসবগুল মূলত আঁশ (ফাইবার) সরবরাহ করে সাময়িকভাবে মল নরম করার কাজ করে। তবে ত্রিফলা (আমলকী, হরিতকী ও বহেড়ার সংমিশ্রণ) এর একটি বিকল্প হতে পারে। ত্রিফলা কেবল তাৎক্ষণিক উপশমই দেয় না, বরং পুরো পরিপাকতন্ত্রের কার্যক্ষমতা ভেতর থেকে বাড়াতে সহায়তা করে। ত্রিফলা লিভারের কার্যকারিতা বাড়াতেও সাহায্য করে। যারা দীর্ঘমেয়াদী হজমশক্তি বৃদ্ধি এবং পেটের সমস্যার স্থায়ী সমাধান চান, তাদের জন্য ত্রিফলা একটি কার্যকর বিকল্প হতে পারে।চিয়া সিড

চিয়া সিড:

চিয়া বীজে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক ফাইবার আছে। ইসবগুলের মতোই এটি প্রাকৃতিক ল্যাক্সেটিভ বা মলের পরিমাণ বাড়াতে কাজ করে। চিয়া সিড নিজের ওজনের তুলনায় ১০ থেকে ১২ গুণ বেশি পানি শোষণ করতে পারে। এতে মল নরম করে এবং নিয়মিত পেট পরিষ্কার রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। ১ থেকে ২ টেবিল চামচ চিয়া সিড পানিতে ভিজিয়ে খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়া যায়। তবে চিয়া সিডের সঙ্গে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে; নতুবা হিতে বিপরীত হয়ে হজমে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

তিসি

ফ্ল্যাক্সসিড বা তিসি:

তিসির বীজ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার একটি অত্যন্ত কার্যকরী ও প্রাকৃতিক উপায়। এতে থাকা উচ্চমাত্রার দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় ফাইবার মল নরম করে এবং অন্ত্রের কার্যকারিতা বাড়িয়ে কোষ্ঠকাঠিন্য উপশম করে। প্রতিদিন ১-৪ টেবিল চামচ গুঁড়ো তিসি সেবন করলে দ্রুত সুফল পাওয়া যায়, তবে সাথে পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। এছাড়া সরিষা তেল দিয়ে মাখানো তিসি ভর্তা ভাতের সঙ্গে খেতেও খুব সুস্বাদু।আলু বোখারা

আলু বোখারা:

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে শুকনো আলুবোখারা বা আলুবোখারার রস অত্যন্ত কার্যকর ও ঘরোয়া সমাধান। এতে থাকা উচ্চমাত্রার ফাইবার এবং ‘সরবিটল’ নামক একধরনের প্রাকৃতিক সুগার অ্যালকোহল মল নরম করতে সাহায্য করে। প্রতিদিন ৬ থেকে ১২টি আলুবোখারা অথবা আধা গ্লাস আলুবোখারার রস সেবন করলে মলত্যাগে স্বাভাবিকতা ফিরে আসে।ক্যাস্টর অয়েল

ক্যাস্টর অয়েল:

এই তেল বাংলাদেশে রেড়ির তেল বা ভেরেণ্ডার তেল নামে পরিচিত। ভেরেন্ডা গাছের বীজ থেকে এই তেল পাওয়া যায়। যারা কখনো চুলের সমস্যায় ভুগেছেন তাদের কাছে এই তেল খুবই পরিচিত জিনিস। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতেও এটি ভীষণ কার্যকর। ক্যাস্টর অয়েল অন্ত্রের পেশী সংকোচন বাড়িয়ে ২-৬ ঘণ্টার মধ্যে কাজ শুরু করে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ১ টেবিল চামচ ক্যাস্টর অয়েল খাওয়া যেতে পারে। তবে এর স্বাদ খুব খারাপ হওয়ায় ফলের রসের সাথে মিশিয়ে খাওয়া ভালো।

অ্যালোভেরা

অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী:

অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারীর রস ‘ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম’ বা আইবিএসের বিভিন্ন উপসর্গ যেমন—পেটে মোচড় দেওয়া, গ্যাস, পেট ফাঁপা এবং কোষ্ঠকাঠিন্য উপশমে কার্যকর। অ্যালোভেরার রসে থাকা প্রাকৃতিক ল্যাক্সেটিভ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। তবে অ্যালোভেরা জুস সতর্কতার সঙ্গে খাওয়া উচিত। এই জুস খেয়ে পেটে ব্যথা বা ডায়রিয়া হলে, অবিলম্বে তা খাওয়া বন্ধ করা উচিত।হরিতকী

হরিতকী:

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে হরিতকী একটি অত্যন্ত কার্যকর প্রাকৃতিক ভেষজ। এতে বিদ্যমান অ্যানথ্রাইকুইনোন অন্ত্রের খিঁচুনি কমায় এবং রেচক হিসেবে কাজ করে পেট পরিষ্কার রাখে। রাতে ঘুমানোর আগে ১ চামচ হরিতকী গুঁড়া গরম পানি বা মধুর সাথে সেবন করলে দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য ও হজমের সমস্যা দূর হয়।

চিকিৎসকের পরামর্শ

কোষ্ঠাকাঠিন্য কী কারণে হয়েছে সেটি শনাক্ত করা খুব জরুরি। প্রয়োজনে সেই অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে। কারো যদি হরমোন, থাইরয়েডজনিত রোগ থাকে, পারকিনসন বা অন্য কোনো রোগ থাকে তাহলে সেই রোগের চিকিৎসা নিলে কোষ্ঠকাঠিন্য ভালো হয়ে যাবে। কোনো রোগ ছাড়া এবং পরিপাকতন্ত্রের অস্বাভাবিক মুভমেন্ট, ধীর হওয়া বা কমে যাওয়ার কারণে যদি কোষ্ঠকাঠিন্য হয় তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করতে হবে।