প্রেম হবে হবে করেও হয়নি, পরবর্তীতে সম্পর্ক কেমন থাকবে?
প্রেমের মতো অত্যন্ত মিষ্টি-মধুর বিষয়টিও জীবনের অন্যতম অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে, যদি না তা ‘মধুরেণ সমাপয়েৎ’-এ গড়াতে পারে। আর অবস্থা যদি এমন হয় যে পরিচিত কোনো ব্যক্তির সঙ্গে প্রেম হওয়ার আগের সব অনুভূতি, এমনকি পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে—কিন্তু শেষমেশ প্রেমটা আর হয়নি, তবে সে অস্বস্তি যেন অন্য এক মাত্রায় গিয়ে পৌঁছায়।
এমন অবস্থায় কী করবেন? কীভাবে যোগাযোগ রাখবেন? নাকি আদৌ রাখবেনই না? এমন সব প্রশ্নের গভীরে গিয়ে একটুখানি জেনে নেওয়া যাক।
সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখুন
এমন অদ্ভুত পরিস্থিতিতে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখাটা অনেকের জন্যই বেশ কঠিন মনে হতে পারে। তবে যদি দুজন ব্যক্তির মধ্যে স্বাভাবিক যোগাযোগের জায়গা থেকে থাকে, সেটিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই ভালো। প্রেম হয়নি বলে যে দুজনের মধ্যে সাধারণ সামাজিক সম্পর্ক থাকতে পারবে না, তেমনটা মোটেও নয়। হতেই পারে দুজনের পরিচিত মহলটা এক। সেক্ষেত্রে বিভিন্ন অনুষ্ঠান-আয়োজনে দেখা হয়ে গেলে কুশল বিনিময় অথবা সৌজন্যের বিষয়টি বজায় রাখা জরুরি। এতে উভয় পক্ষেরই মানসিক পরিপক্বতা উঠে আসে।
নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন
তবে হ্যাঁ, এ ধরনের পরিস্থিতিতে খুব কম ক্ষেত্রেই ঘনিষ্ঠতা রাখা যায়। যদি না দুপক্ষের বন্ধুত্ব অনেক বেশি গাঢ় হয়। তবে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখাটাও এক্ষেত্রে বিচক্ষণের কাজ। কেননা দুজনেই হয়তো অন্য কারো সঙ্গে জীবনে এগোতে চাচ্ছেন, সম্পর্কে জড়াচ্ছেন—এহেন সময়ে যার সঙ্গে ‘প্রেম প্রেম ভাব’ ছিল, তাকে সহজভাবে নেওয়াটা সঙ্গীর ক্ষেত্রে সবসময় সহজ হবে না বললেই চলে। তাই স্বাভাবিক সম্পর্ক রাখার পাশাপাশি বর্তমান সঙ্গীর কাছে বিষয়টি স্পষ্ট করে নিতে হবে এবং ওই ব্যক্তির সঙ্গে একটি নিরাপদ দূরত্ব রেখে চলতে হবে। কেননা এমন সব ব্যক্তির সঙ্গে অতি ঘনিষ্ঠতা দীর্ঘমেয়াদে দুজনকেই ভোগাতে পারে।
অতীতের প্রসঙ্গ টেনে আনবেন না
হতেই পারে, মানুষটির সঙ্গে আপনার কর্মক্ষেত্রে বা ব্যক্তি পরিসরে বারবার দেখা হচ্ছে। আপনারা হয়তো একসঙ্গে অন্যদের সঙ্গে বসছেন, চা খাচ্ছেন, বড় পরিসরে আড্ডাও দিচ্ছেন। কিন্তু এসব আড্ডায় যেন আপনাদের অতীতের প্রসঙ্গটি অন্য কারো কাছ থেকে কিংবা আপনাদের কাছ থেকে উঠে না আসে। এতে করে যে কেউ অস্বস্তিতে পড়তে পারে। অস্বস্তি এড়িয়ে সুন্দরভাবে সময়ের সঙ্গে এগিয়ে যেতে চাইলে অতীতের প্রসঙ্গ বারবার টেনে না আনাই শ্রেয়।
আলোচনা করে নিন
এই ধরনের যোগাযোগের ক্ষেত্রে সবসময় দুই পক্ষ একইভাবে নাও ভাবতে পারে। তাই আপনি হয়তো উপরে বলে দেওয়া সমাধানগুলোকে ধরে নিয়ে চলছেন, কিন্তু ওদিকে অপরজনের মনের কথা ভিন্ন। তাই যাতে দুজনেই বিষয়টি নিয়ে একই সমান্তরাল ধারণায় থাকেন, সেজন্য আলোচনা করে নেওয়াটা দরকার। তবে আগবাড়িয়ে আপনাকেই আলাপ করতে হবে, তা নয়। যদি মনে হয়, অপরজন আপনার মতো করে ভাবছেন না এবং অস্বস্তিতে পড়ে যাচ্ছেন, সেসময় আলাপ তোলা যায়। আর নইলে যেভাবে চলছে, চলতে দিন। কেননা আদতে যা হয়নি, তাতে অত বেশি সময় ও মনোযোগ দেওয়ারও কিছু নেই।
যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ করে দিন
তবে কোনোক্ষেত্রেই তো সকলের অভিজ্ঞতা এক হয় না। তাই যদি এ ধরনের ঘটনায় খুব তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়ে থাকে, তবে যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়াটাও একটি সমাধান। জীবনের শ্লেট থেকে ওই অধ্যায়টুকু একেবারে মুছে ফেলে বরং নিজের মতো করে এগিয়ে যান। এবং এক্ষেত্রে ‘কী হলে কী হতে পারতো’ ধরনের আফসোসবাক্য একেবারেই মাথায় রাখবেন না। নিজেকে ইতিবাচক স্বরে জানিয়ে দিন—যা হয়েছে ভালোর জন্যই হয়েছে। খুবই পাতি ধারণা, কিন্তু অনেক দ্বিধা-দ্বন্দ্বে এই কথাখানা আপ্তবাক্যের মতোই কাজে দেয়। অনেক সময় ঘরোয়া টোটকা যেমন আশাতীত উপশম এনে দেয়, ঠিক তেমনি।
জীবনে চলার পথে মানুষের সঙ্গে মানুষের বহু ধরনের সম্পর্ক হয়, ভাঙে, আবার নতুন করে জোড়াও লাগে। কিছু সম্পর্ক আবার হবে হবে করে হয়ও না, শুধু থেকে যায় নির্দিষ্ট সেই সময়ের স্মৃতি আর রেশটুকু। সে স্মৃতির জের ধরে সম্পর্কে নতুন কোনো মাত্রা যোগ হলেও হতে পারে। কেননা জীবনে কোনো সম্ভাবনাই উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়। তাই যা-ই হোক না কেন, নিজেদের মধ্যে যথাসম্ভব অস্বস্তি না আসার মতো একটি সাম্যাবস্থা বজায় রাখাটা অপেক্ষাকৃত ভালো উপায়।
