অফিসের কাজের চাপ বাসায় না নেওয়ার উপায় কী?

স্টার অনলাইন ডেস্ক

অফিস থেকে ফিরেছেন, কিন্তু মাথার ভেতর এখনো কাজ ঘুরছে। কারও মেইলের উত্তর দেওয়া হয়নি, কালকের মিটিং নিয়ে চিন্তা হচ্ছে বা দিনের কোনো বিরক্তিকর কথোপকথন বারবার মনে পড়ছে। বাইরে থেকে দেখলে মনে হতে পারে বাসায় ফিরে বিশ্রাম নিচ্ছেন। কিন্তু ভেতরে ভেতরে মাথা তখনো অফিসেই আটকে আছে।

এখন অনেক মানুষের জীবনেই এই বিষয়টা খুব পরিচিত। কাজের সময় শেষ হলেও কাজের চাপ পুরোপুরি শেষ হয় না। বিশেষ করে ফোন সবসময় হাতে থাকায় অফিস আর ব্যক্তিগত জীবনের সীমারেখা আগের চেয়ে অনেক ঝাপসা হয়ে গেছে। ফলে মানুষ বাসায় ফিরেও পুরোপুরি শান্ত হতে পারে না।

অনেক সময় সমস্যা কাজের পরিমাণ না, বরং কাজের চাপটা মাথার ভেতর কতক্ষণ থেকে যাচ্ছে সেটি।

শরীর বাসায় ফেরে, মাথা ফেরে না

অনেকেই বাসায় ফিরে পরিবারের সঙ্গে বসে আছেন, কিন্তু মন অন্য জায়গায়। কেউ কথা বলছে, আর তিনি মাঝখানে হঠাৎ চুপ হয়ে যাচ্ছেন। কারণ মাথায় তখন অফিসের অসমাপ্ত কাজ চলছে। কেউ রাতের খাবার খেতে খেতেও মেইল দেখছেন। কেউ ঘুমানোর আগে ‘একবার শুধু দেখে নিই’ বলে ফোন হাতে নিচ্ছেন, তারপর আরও আধা ঘণ্টা কাজের কথাই ভাবছেন। ধীরে ধীরে এমন একটা সময় আসে, যখন বাসাও আর পুরোপুরি বিশ্রামের জায়গা মনে হয় না।

অফিস থেকে ফিরেই নিজেকে একটু সময় দেওয়া দরকার

অনেকেই অফিস থেকে ফিরে সরাসরি আরেক দফা দায়িত্বে ঢুকে যান। বাসায় ফিরেই রান্না, সংসারের কাজ, ফোনকল বা অন্য চাপ শুরু হয়ে যায়। ফলে মাথা বদলানোর সুযোগই পায় না। কিন্তু ছোট্ট একটা বিরতিও অনেক কাজে আসতে পারে। কেউ বাসায় ফেরার পথে একটু হাঁটেন, কেউ গান শোনেন, কেউ বাসায় ফিরে পাঁচ মিনিট চুপচাপ বসে থাকেন। অনেকেই কাপড় বদলে, মুখ ধুয়ে বা এক কাপ চা খেয়ে একটু হালকা অনুভব করেন। এসব খুব সাধারণ অভ্যাস। কিন্তু এগুলো মস্তিষ্ককে বুঝতে সাহায্য করে যে দিনের কাজ শেষ হয়েছে।

সব কথা সঙ্গে সঙ্গে বলার দরকার নেই

অনেক মানুষের অভ্যাস, বাসায় ফিরেই অফিসের সব বিরক্তির গল্প শুরু করা। কে কী বলল, কোথায় সমস্যা হলো, কোন সহকর্মীর আচরণ খারাপ লাগল—এসব নিয়ে কথা বলা স্বাভাবিক। কিন্তু প্রতিদিন পুরো সন্ধ্যাটা যদি শুধু কাজের হতাশা নিয়েই কাটে, তাহলে বাসার পরিবেশও ধীরে ধীরে ক্লান্তিকর হয়ে যেতে পারে।

সবকিছু জরুরি না

এখন অনেক মানুষ এমন এক অভ্যাসের মধ্যে ঢুকে গেছেন, যেখানে ফোনে কাজের জিনিস এলেই মনে হয় সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিতে হবে। রাত হলেও, ছুটির দিন হলেও, সবাই যেন সবসময় প্রস্তুত থাকতে বাধ্য। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সব কাজই জরুরি না। সব সমস্যার সমাধানও সঙ্গে সঙ্গে করতে হয় না।

অনেক সময় মানুষ নিজের অজান্তেই এমন এক চাপের মধ্যে ঢুকে যায়, যেখানে বিশ্রাম নিলেও অপরাধবোধ হয়। মনে হয় কিছু একটা বাকি আছে। দীর্ঘদিন এমন চলতে থাকলে মানসিক ক্লান্তি আরও বাড়তে পারে।

কাজের বাইরেও জীবন থাকা দরকার

যখন পুরো জীবন শুধু কাজ ঘিরে চলে, তখন মানুষ খুব দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তাই কাজের বাইরেও কিছু ছোট জিনিস গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কেউ বই পড়েন, কেউ রান্না করেন, কেউ রাতে ছাদে হাঁটেন, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করেন। অনেকেই আবার শুধু ফোন দূরে রেখে কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থাকতেও পছন্দ করেন। এসব হয়তো খুব বড় কিছু না। কিন্তু এগুলো মানুষকে মনে করিয়ে দেয়, জীবন শুধু কাজের তালিকা না।

সবসময় শক্ত থাকা সম্ভব না

অনেক মানুষ নিজেকে এতটাই ব্যস্ত রাখেন যে, কখন ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছেন সেটিই বুঝতে পারেন না। ধীরে ধীরে ছোট বিষয়েও রাগ হয়, মানুষের সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছা করে না বা সবসময় বিরক্ত লাগে। অনেক সময় মানুষ ভাবে, এটা স্বাভাবিক। কিন্তু আসলে শরীর আর মন তখন বিশ্রাম চাইছে।

কাজ গুরুত্বপূর্ণ, দায়িত্বও গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু মানুষের নিজের জন্য শান্ত একটা জায়গাও দরকার। যেখানে কিছু সময়ের জন্য অন্তত কোনো চাপ থাকবে না। দিনশেষে হয়তো কাজ পুরোপুরি আলাদা করে রাখা সবসময় সম্ভব না। কিন্তু অন্তত বাসার দরজা পার হওয়ার পর নিজেকে একটু ধীর হতে দেওয়া যেতে পারে।