কোরবানি ঈদে অতিভোজন এড়াতে যা করতে পারেন

কে টি হুমায়রা

ঈদুল আজহা মানে মমতা এবং একসঙ্গে থাকা ও খাবারের উৎসব। কিন্তু যদি সচেতনভাবে না খান, তবে সেটি পরে অনুশোচনাবোধ তৈরি করতে পারে। এটি ঠিক যে, এমন আনন্দের সময়ে প্রতিবেলা তো আর হিসাব কষে খাওয়া সম্ভব না।

তবে, আনন্দ নিয়ে খাওয়া এবং গলা পর্যন্ত খাওয়া যেন নড়াচড়া করতেই কষ্ট হয়—এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য আছে। সামান্য সচেতন হলেই কোনো ধরনের অনুশোচনাবোধ ছাড়াই উপভোগ করতে পারবেন এই উৎসব।

একদম খালি পেটে দাওয়াতে না যাওয়া

আপনি যদি খাবার না খেয়ে ‘ঈদের দাওয়াতে’ ক্ষুধার্ত অবস্থায় পৌঁছান, তাহলে তা অবশ্যই উল্টো ফল দেবে। বের হওয়ার আগে হালকা, প্রোটিনসমৃদ্ধ কিছু খেয়ে নিন। একটি সেদ্ধ ডিম, একটু দই বা একমুঠো বাদাম স্বাস্থ্যকর বিকল্প। ফলে দাওয়াতে যাওয়ার পর সুগন্ধি বা মসলাযুক্ত গরুর মাংসের গন্ধ নাকে এলেও আপনি সচেতনভাবেই খাবার বেছে নিতে পারবেন।

Overeating
ছবি: আনস্প্ল্যাশ

সালাদ বা সবজি দিয়ে শুরু করুন

আপনি যদি মাংসের নানা পদে ভরা টেবিল দেখেও প্রথমে বেশি করে সালাদ নিয়ে খেতে শুরু করেন, তাহলে আপনার মস্তিষ্ক হয়তো বলবে, ‘আমরা কেন ছাগলের মতো পাতা খাচ্ছি?’ কিন্তু বিশ্বাস করুন বা না করুন, এই কৌশলটি আপনাকে কল্পনার চেয়েও বেশি সচেতনভাবে খেতে সাহায্য করে এবং আপনার পেটও এতটাই ভরবে যে অতি ক্ষুধার্ত হয়ে প্লেটে বেশি করে খাবার নেবেন না।

ধীরে খান

উৎসবের পরিবেশে দ্রুত খাওয়া খুব সহজ। আর এভাবে খেলে পেট ভরার সংকেত মস্তিষ্কে পৌঁছানোর আগেই আপনি প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি খেয়ে ফেলতে পারেন, যা অতিভোজনের দিকে নিয়ে যায়।

তা ছাড়া, অল্প সময়ের মধ্যে বেশি পরিমাণ খাবার খেলে পাকস্থলীর চাপ বাড়ে, যা অ্যাসিড উপরের দিকে ঠেলে দেয়। ফলে বুকজ্বালা হয়, এমনকি রক্তে শর্করা দ্রুত বেড়ে যাওয়া এবং হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যাও হতে পারে।

Overeating
ছবি: আনস্প্ল্যাশ

ছোট প্লেট ব্যবহার করুন

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, ছোট প্লেট ব্যবহার করলে মানুষ কম খায়, তবে তৃপ্তি সমানই পায়। ছোট প্লেট তেমন কোনো ইচ্ছাশক্তি প্রয়োগ ছাড়া স্বাভাবিকভাবেই খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়া আপনার মস্তিষ্ক হয়তো আপনাকে সতর্ক করবে যে ঈদের দাওয়াতে অতিরিক্ত ভরা প্লেট হাতে নেওয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ সামান্য ভুলেই কারও ড্রয়িংরুমের কারপেট গরুর মাংসের ঝোল দিয়ে নতুনভাবে সাজিয়ে ফেলতে পারেন। এক্ষেত্রে ছোট প্লেট ব্যবহার করা খুবই সহজ এবং কার্যকরী।

পানীয় ও মিষ্টির খাওয়ায় সতর্কতা

চিনিযুক্ত পানীয় ও মিষ্টিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ক্যালোরি থাকে। যদি আপনার মিষ্টি খাওয়ার অভ্যাস থাকে এবং সামান্য মিষ্টি আপনার রক্তে শর্করা বাড়িয়ে না দেয়, তবে পুরোপুরি বাদ দেওয়ার দরকার নেই, কিন্তু পরিমাণে কম নিন এবং খাবারের পর ঠান্ডা পানীয়ের বদলে স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি পান করুন।

হাঁটতে বের হন

দীর্ঘ সময় না, খাওয়ার পর ১০ থেকে ১৫ মিনিটের হালকা হাঁটাও আপনার ধারণার চেয়ে বেশি উপকার করতে পারে। হাঁটা হজম প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করে, পাকস্থলীকে আরও কার্যকরভাবে খালি হতে সাহায্য করে এবং ভারী খাবারের পর আসা ক্লান্তি ভাব প্রতিরোধ করে। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে, যা বেশি কার্বোহাইড্রেট ও মাংসসমৃদ্ধ খাবারের পর বেড়ে যায়।

মোদ্দা কথা হলো খাবার শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সোফায় ঢলে পড়া ঠিক হবে না।

আরেকটু খাওয়ার আবদার থেকে রক্ষা

বাংলাদেশি পরিবারে যেকোনো অনুষ্ঠানে ভালোবাসা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায় ‘আরও একটু ভাত নিন’ বলার মধ্য দিয়ে। অতিথিরা যথেষ্ট না খেলে আমরা তা ব্যক্তিগতভাবে নিই। তবে ভদ্রতা দেখানোর চেয়ে নিজের শরীরের কথা শোনা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

এর মানে এই না যে, সঙ্গে সঙ্গেই আপনাকে ‘না’ বলতে হবে। যদি মনে হয় বেশি চাপ হবে না, তাহলে অল্প করে নিতে পারেন। এছাড়া যিনি আরেকটু নিতে বললেন, তাকে বলতে পারেন, ‘আমি এখনো খাচ্ছি, আগে এটা শেষ করি’ এবং এটি বললে তা বেশ কার্যকরভাবেই কাজ করে বলে প্রমাণিত।

শেষ পর্যন্ত যদি আপনি অতিরিক্ত খেয়েও ফেলেন, তাহলে সেটা নিয়ে বেশি ‍দুশ্চিন্তা করবেন না। আপনি ওজন কমানোর চেষ্টা করলেও এক-দুই দিনের বেশি খাওয়া আপনার স্বাস্থ্যের ক্ষতি করবে না। পরের দিন স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসে ফিরে যান এবং কিছুটা শরীরচর্চা করুন। আনন্দ নিয়ে খান, তবে বুদ্ধিমত্তা ও সচেতনতার সঙ্গে থামুন।