সন্তানকে বাজেট শেখাবেন যেভাবে
চারদিকে বাজেট নিয়ে আলোচনা। টেলিভিশন, পত্রিকা কিংবা পরিবারের আড্ডায় বাজেটের কথা শুনে আপনার সন্তানও হয়তো জানতে চাইছে, বাজেট কী? বিষয়টি জটিল মনে হলেও শিশুদের বাজেট শেখানো খুব কঠিন নয়। কারণ, তারা ছোটবেলা থেকেই সঞ্চয় ও খরচের ধারণা বুঝতে শুরু করে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান গ্রিনভ্যালি ফেডারেল ক্রেডিট ইউনিয়নের লেখক ক্যাথেরিন জেমস বলছেন, দুই বছর বয়সের পর থেকেই শিশুরা কোনো কিছু জমিয়ে রাখা ও খরচ করার মধ্যে পার্থক্য বুঝতে শেখে। তাই বয়স অনুযায়ী সহজ কিছু কৌশল ব্যবহার করলেই সন্তানকে আর্থিক ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শেখানো সম্ভব।
একদম ছোট শিশুদের যেভাবে বাজেট বোঝাবেন
হয়তো সন্তানের বয়স দুই অথবা তিন। এই বয়সী শিশুরা বড়দের থেকে পাওয়া অর্থ জমাতে আনন্দ পায়। আবার সেই অর্থ দিয়ে কিছু কিনেও আনন্দ পায়। এই সময়ে তাকে আয়, ব্যয়, খরচ, সঞ্চয় ইত্যাদি বোঝাতে একটি পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন।
পদ্ধতিটিকে বলা হয় ‘তিন জার পদ্ধতি’। তিনটি জার বা পাত্রের গায়ে তিনটি লেবেল লিখে দিন। পাত্র-১ দান করা, পাত্র-২ সঞ্চয় করা এবং পাত্র-৩ খরচ করা।
প্রথম পাত্রে সন্তানকে টাকা রাখতে দিন। তাকে বলুন, এই পাত্রে রাখা টাকা দিয়ে সে অন্যের জন্য উপহার কিনবে। দ্বিতীয় পাত্রে যে টাকা জমা করবে, সেটি সঞ্চয় হিসেবে থাকবে। আর তৃতীয় পাত্রে রাখা টাকা দিয়ে সে নিজের পছন্দমতো জিনিসপত্র কিনবে। শুরুতে সন্তানকে ১০ শতাংশ দান, ২০ শতাংশ সঞ্চয় করা এবং ৭০ শতাংশ নিজের জন্য খরচ করার সীমা নির্ধারণ করে দিন। এভাবে তার মধ্যে পারিবারিক বাজেটের প্রাথমিক ধারণা তৈরি হবে।
স্কুলপড়ুয়া শিশুর বাজেট
সাধারণত পাঁচ থেকে দশ বছর বয়সের মধ্যে শিশুদের স্বাভাবিক প্রবণতাগুলো প্রকাশ পেতে শুরু করে। যেমন—কেউ হয়তো অনেক খরচ করে, আবার কেউ অন্যকে সাহায্য করতে নিজের শখের জিনিসও দিয়ে দেয়। তাই যে সন্তানটি বেশি খরচ করে, তাকে সঞ্চয় করতে উৎসাহিত করুন।
আবার যদি এমন হয়, একজন কেবল সঞ্চয়ই করে, এক পয়সাও খরচ করে না। তাহলে তাকে স্বল্পমেয়াদি লক্ষ্যের জন্য কিছুটা খরচ করতে উৎসাহিত করতে পারেন। তাকে বোঝান, জীবনে টাকা জমানো জরুরি হলেও, কিছু টাকা খরচ করতে অভ্যস্ত হতে হয়।
যারা কৈশোরে পা দিতে যাচ্ছে…
কৈশোরে পা দিতে যাচ্ছে, এমন কেউ যদি ঘরে থাকে, তাকে তার পছন্দের বাইসাইকেল কিনে দিন। তবে সাইকেলটি কিনুন ইএমআইতে অথবা কিস্তিতে, তারপর তাকে বলুন, কিস্তির একটি ছোট অংশ সে যেন পরিশোধ করে। করতেই হবে ব্যাপারটা এমন নয়, কিন্তু উৎসাহিত করতে বলতে হবে। এতে তার ভেতর অল্প বয়সেই পরিকল্পনার অভ্যাস, দায়িত্ববোধ, অর্থ ব্যবস্থাপনাসহ প্রয়োজনীয় দক্ষতা তৈরি হবে।
দামি কাপড়, জুতো, খেলার সরঞ্জাম, প্রসাধন সামগ্রী এবং ইলেকট্রনিক্সের মতো অন্যান্য কেনাকাটার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। বড় ও নির্দিষ্ট লক্ষ্যের জন্য কীভাবে বাজেট করতে হয়, তা শেখাতে এটিই উপযুক্ত বয়স।
কিশোর-কিশোরীদের যেভাবে বাজেটের সঙ্গে পরিচয় করাবেন
সন্তানের বয়স যদি তের-চৌদ্দ বছর হয়, তাহলে তাদের সামনে পারিবারিক বাজেটের হিসাব তুলে ধরার সময় এসেছে। তাকে ‘ফ্যামিলি বাজেট’ সম্পর্কে ধারণা দিন, নিজের মোবাইল ফোনের বিল পরিশোধ করতে উৎসাহিত করুন এবং সম্ভব হলে তার মাথায় বিনিয়োগের চিন্তা ঢুকিয়ে দিন।
বিনিয়োগে উৎসাহিত করার জন্য কিশোর সন্তানের নামে একটি সঞ্চয় অ্যাকাউন্ট খুলে দিতে পারেন। সেখানে সে কেবল বিনিয়োগের জন্য টাকা জমাবে। যখন তার অ্যাকাউন্টটি ম্যাচিউর হবে, ধরা যাক সেখানে অন্তত ১০ হাজার টাকা সঞ্চয় হয়েছে, তখন সেই টাকা দিয়ে তাকে প্রাইজবন্ড কিনতে বলুন।
এভাবে সন্তানকে কিশোর বয়সেই সঞ্চয়, বিনিয়োগ ইত্যাদি ব্যাপারে ধারণা দিতে পারেন।
তথ্যসূত্র: হেল্প মি গ্রো, গ্রিনভ্যালি ফেডারেল ক্রেডিট ইউনিয়ন ও স্টাডি ডটকম

