শিশুর যত্ন

বাগান হোক শিশুর মজার ক্লাসরুম

শিশুর বিকাশে বাগানচর্চা
রবিউল কমল
রবিউল কমল

শিশুদের নিয়ে বাগানে সময় কাটানো খুব আনন্দের একটি কাজ। গাছ লাগানো, ফুলের যত্ন নেওয়া, মাটির ছোঁয়া কিংবা পাতা দেখা—এসবের মাধ্যমে শিশুরা প্রকৃতি সম্পর্কে অনেক কিছু শিখতে পারে। তারা ধীরে ধীরে বুঝতে শেখে গাছ কীভাবে বড় হয়, কীভাবে ফুল ফোটে এবং খাবার কোথা থেকে আসে।

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বাগান করার জন্য বড় জায়গা থাকা জরুরি নয়। ছোট্ট একটি টব, জানালার পাশে রাখা বক্স বা বারান্দার কোণেও শিশুদের সঙ্গে গাছ লাগানো যায়। কয়েকটি বীজ বা ছোট্ট কিছু হার্বস লাগিয়েই শুরু করা সম্ভব।

যদি বাড়িতে বাগান থাকে, তাহলে শিশুর জন্য ছোট্ট একটি জায়গা আলাদা করে দিতে পারেন। সেখানে সে নিজে গাছ লাগাবে, পানি দেবে ও যত্ন নেবে। এমন জায়গা বেছে নিন যেখানে রোদ আসে। একসঙ্গে কয়েক ধরনের বীজ লাগালে ভালো হয়, কারণ কোনো একটি গাছ না বড় হলেও অন্যগুলো দেখে শিশু আনন্দ পাবে।

কীভাবে শুরু করবেন

শুরুতে এমন বীজ লাগান যেগুলো দ্রুত গজায়। ছোট শিশুরা ফল দেখতে ভালোবাসে। সূর্যমুখীর বীজ খুব সহজে বড় হয়।
বীজ লাগানো শিখে গেলে পরে তুলসী, পুদিনা, টমেটোর মতো গাছ লাগাতে পারেন। নিজের লাগানো গাছের পাতা বা সবজি দিয়ে রান্না করলে শিশুরা খুব খুশি হয়। এতে তারা নতুন খাবার খেতেও আগ্রহী হয়।

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

শিশুর বিকাশে সহায়তা

বাগান করা শিশুদের পাঁচটি ইন্দ্রিয়ের বিকাশেও সাহায্য করে। নতুন ফল ছোঁয়া, বাতাসে পাতার শব্দ শোনা, মাটির গন্ধ নেওয়া, রঙিন ফুল দেখা—এসব শিশুদের খুব আনন্দ দেয়। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্যও এটি খুব উপকারী হতে পারে।
ছোটদের উপযোগী সরঞ্জাম

শিশু যদি বাগান করতে পছন্দ করে, তাহলে তার জন্য ছোট আকারের কিছু বাগানের সরঞ্জাম কিনে দিতে পারেন। যেমন ছোট পানির ঝাঁঝরি ও নিড়ানি।

এসব ব্যবহার করতে করতে শিশুর আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং হাতের কাজের দক্ষতা উন্নত হয়।

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

শিশুর আগ্রহ ধরে রাখা

ছোট শিশুদের মনোযোগ বেশি সময় থাকে না। তাই বাগানের কাজগুলো সহজ ও মজার করতে হবে।

আপনি চাইলে—কোথায় কোন বীজ লাগানো হয়েছে, তার নাম লিখে ছোট লেবেল বানাতে পারেন। কেঁচো, শামুক বা ছোট পোকামাকড় খুঁজতে পারেন। শিশুকে বোঝাতে পারেন, এসব ছোট প্রাণী মাটির জন্য উপকারী। একটি ছোট কম্পোস্টের স্তূপ বানিয়ে দেখাতে পারেন কোন জিনিস সেখানে ফেলা যায়।

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

প্রশ্ন করুন

শিশুকে বারবার প্রশ্ন করুন, যেন সে কাজের সঙ্গে নিজেকে জড়াতে পারে।

যেমন—গাছটা কোথায় রাখলে ভালো হবে? এটা কত দিনে বড় হবে? ফুল ফুটলে দেখতে কেমন লাগবে?

এসব প্রশ্ন করলে শিশুর কল্পনাশক্তি ও ভাবার দক্ষতা বাড়ে।

বীজের বেড়ে ওঠা দেখুন

একটি শিমের বীজ দিয়েও মজার পরীক্ষা করা যায়।

একটি গ্লাসের ভেতর ভেজা টিস্যু রাখুন। তারপর পাশে একটি শিমের বীজ রেখে দিন। কয়েকদিন পর দেখবেন বীজ থেকে ছোট শিকড় বের হচ্ছে। এটা শিশুতে দেখান। তাহলে শিশুরা বুঝতে পারে মাটির নিচে কীভাবে গাছ জন্মায়।

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

পুরনো পোশাক ব্যবহার করুন

বাগান করতে গেলে মাটি লাগবেই। তাই শিশুর জন্য পুরনো কিছু কাপড় আলাদা করে রাখুন। রোদ থাকলে সানস্ক্রিন ও ক্যাপ ব্যবহার করতে ভুলবেন না। কারণ শিশুদের ত্বকের যত্ন নেওয়াও জরুরি।

স্মৃতি ধরে রাখুন

গাছের বড় হওয়ার বিভিন্ন ধাপে ছবি তুলুন বা ছবি আঁকুন। পরে সেগুলো একটি খাতায় জমিয়ে রাখতে পারেন। এতে শিশু খুব আনন্দ পাবে এবং নিজের গাছের বেড়ে ওঠা দেখে তার ভালো লাগবে।

আরও মজার করে তুলুন

শিশুর পুরনো প্লাস্টিকের খেলনাগুলো বাগানে সাজিয়ে রাখতে পারেন। এতে ছোট্ট বাগানটি আরও সুন্দর লাগবে।

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত