শিশু সংখ্যা চিনছে না, ভয় অঙ্কে, ডিসক্যালকুলিয়া নাতো?

শিশু কেন অঙ্ক ভয় পায়
রবিউল কমল
রবিউল কমল

টেবিলে বসে হোমওয়ার্ক করছিল ছয় বছরের আরিয়ান। স্যার অঙ্ক দিয়েছেন ‘২+২=?। পাশেই দাঁড়িয়ে মা বললেন, ‘এটা তো খুব সহজ!’ কিন্তু আরিয়ান আঙুলে পেন্সিলটা ঘোরাতে থাকে। এই সহজ অঙ্কটাই সে আর পারে না!

এই দৃশ্য আমাদের অনেকের কাছে পরিচিত। আমরা ভাবি, এটা শিশুর অঙ্ক ভীতি। তাই আরেকটু মনোযোগ দিলে সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু ব্যাপারটা আমাদের ভাবনার মতো এত সহজ নাও হতে পারে।

কারণ কিছু শিশুর জন্য সংখ্যা কেবল সংখ্যা নয়, জটিল ধাঁধা। যেখানে প্রতিটি সংখ্যা, প্রতিটি চিহ্ন, এমনকি গোনার ধারণাটাও আলাদাভাবে বুঝতে হয়। তারা চেষ্টা করে, পরিশ্রম করে, তবুও বারবার হোঁচট খায়। আমাদের অনেকের অপরিচিত এই সমস্যার নাম ডিসক্যালকুলিয়া।

এটা নিয়ে ভয়ের কিছু নেই বলে জানান ব্র্যাক হেলথকেয়ারের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ও শিশু নিউরোলজিস্ট প্রফেসর মুরশীদা মোশাররফ।

দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, যদি শিশুর ডিসক্যালকুলিয়া শনাক্ত হয় তাহলে ভয়ের কিছু নেই। এজন্য দরকার শিশুর বিশেষ যত্ন। মূলত শিশুর সমস্যার ধরন বুঝে ঠিকঠাক যত্ন নিতে হয়।

dyscalculia
ছবি: সংগৃহীত

ডিসক্যালকুলিয়া কী

কিডজলিডজ চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের ফাউন্ডার ও সিইও লীনা ফেরদৌস বলেন, ডিসক্যালকুলিয়া হলো একটি লার্নিং ডিসঅর্ডার (শেখার সমস্যা), এটা কোনো অসুখ নয়। সংখ্যা সংক্রান্ত যেকোনো বিষয় সে বুঝতে পারে না, ওলটপালট লাগে। যখন যোগ, বিয়োগ বা কোনো হিসাব করতে বলা হয়, তখন তার মস্তিষ্ক ভিন্নভাবে সাড়া দেয়।

ডিসক্যালকুলিয়া শনাক্তের উপায়

এটা শনাক্তের কোনো উপায় আছে কিনা জানতে চাইলে লীনা ফেরদৌস বলেন, সবচেয়ে পরিচিত উপায় হলো সংখ্যা চিনতে বা সাজাতে সমস্যা। এমনকি বাড়ির নম্বর, ফোন নম্বর, নিজের বয়স পর্যন্ত অনেক সময় ভুল বলে বা বলতে পারে না। 

তিনি জানান, এছাড়া অঙ্ক করতে গিয়ে অতিরিক্ত সময় লাগে৷ মুখে মুখে কোনো হিসাব করতে পারে না। হিসাব করতে ভয় পায়, যোগ-বিয়োগ, গুণ-ভাগ করার সময় আটকে যায়। নামতা বা ফর্মুলা মনে রাখতে পারে না। এমনকি সময় বুঝতে পারে না, কিংবা ঘড়ির কাঁটা দেখে সঠিক সময় বলতে পারে না।

লীনা ফেরদৌস আরও বলেন, তারা দিনের বা মাসের হিসাব গুলিয়ে ফেলে। টাকার হিসাব গোলমাল হয়ে যায়। বিশেষ করে বাজার বা দোকান থেকে জিনিস কেনার সময় টাকার হিসাব মেলাতে পারে না। অথবা টাকার হিসাব বারবার ভুল করে।
তার ভাষ্য, একই ভুল বারবার করে, অনেক প্র্যাকটিসের পরও তেমন উন্নতি হয় না। সংখ্যা বা চিহ্ন অদলবদল হয়ে যায়, যেমন 6 কে 9 মনে করে।

dyscalculia
ছবি: রিসার্চ গেট

ডিসক্যালকুলিয়া কখন ধরা পড়ে

কিডজিলিডজের লীনা ফেরদৌস জানান, সাধারণত ৫ থেকে ৮ বছর বয়সে, যখন শিশু স্কুলে গিয়ে সংখ্যা বা অংক শেখা শুরু করে। তবে কখনো কখনো আরও পরে ধরা পড়ে, ক্লাস ওয়ান কিম্বা টুতে পড়ার সময়। এই সমস্যাটি সবচেয়ে বেশি স্পষ্ট হতে শুরু করে আরও কিছুটা পরে, যখন ক্লাসের পড়া তার কাছে কঠিন মনে হয়। বিশেষ করে যখন জটিল অঙ্কের হিসাব আসে, তখন বেশি স্পষ্ট হয়ে যায়।

লীনা ফেরদৌস বলেন, ‘তবে এই সমস্যার মানে এটা নয়, তারা অন্যদের তুলনায় কম বুদ্ধিমান বা তাদের যোগ্যতা কম।’
তাদের সমস্যা হয় কেন

ব্র্যাক হেলথকেয়ারের প্রফেসর কর্নেল ডা. মুরশীদা মোশাররফ জানান, ডিসক্যালকুলিয়ায় আক্রান্ত শিশুরা গণিত করতে গিয়ে অনেক সময় মানসিক সমস্যায় ভোগেন। যেমন অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা হয়, ভয় কাজ করে, হতাশ হয়ে পড়ে এবং আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। এজন্য মূলত সমস্যা হয়।

সায়েন্স ডাইরেক্টের তথ্য অনুযায়ী, এছাড়াও এক ধরনের ‘অ্যাকোয়ার্ড ডিসক্যালকুলিয়া’ আছে। এই সমস্যাটা সাধারণত অন্য কোনো শারীরিক বা স্নায়ুবিষয়ক সমস্যার কারণে হয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, মস্তিষ্কে আঘাত পাওয়া, জটিল রোগ বা কোনো কারণে স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হলে অ্যাকোয়ার্ড ডিসক্যালকুলিয়া দেখা দিতে পারে।

ছবি: রিসার্চ গেট
ছবি: সংগৃহীত

ডিসলেক্সিয়া ও ডিসক্যালকুলিয়ার পার্থক্য কী

ডিসলেক্সিয়া ও ডিসক্যালকুলিয়া দুটোই শেখার সমস্যা বা লার্নিং ডিসঅর্ডার। কিন্তু এদের প্রভাবের ক্ষেত্র আলাদা। ডিসক্যালকুলিয়া গণিত ও সংখ্যা বোঝার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। আর ডিসলেক্সিয়া পড়া, লেখা ও বানান বোঝার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে।

আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশনের ডিএসএম-৫ (মানসিক রোগের রোগনির্ণয় ও পরিসংখ্যান ম্যানুয়াল, পঞ্চম সংস্করণ) সংজ্ঞা অনুযায়ী, যদিও দুটি সমস্যা আলাদা, তবুও এগুলো একই শ্রেণিতে পড়ে, অর্থাৎ দুটোই নির্দিষ্ট লার্নিং ডিসঅর্ডার। এমনও হতে পারে, কারো মধ্যে দুটো সমস্যা একসঙ্গে থাকতে পারে। অর্থাৎ সে ডিসলেক্সিয়া ও ডিসক্যালকুলিয়া দুটোতেই ভুগতে পারে।

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ডিসক্যালকুলিয়া কীভাবে মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে

আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য মতে, যাদের ডিসক্যালকুলিয়া আছে তারা নিউরোডাইভারজেন্ট, অর্থাৎ তাদের মস্তিষ্কের গঠন ও কাজের ধরণ অন্যদের থেকে ভিন্ন। নিউরোডাইভারসিটি বলতে বোঝায়, প্রত্যেক মানুষের মস্তিষ্ক ভিন্নভাবে বিকশিত হয় ও কাজ করে। একজনের মস্তিষ্কের ধরন পুরোপুরি আরেকজনের মতো হয় না।

গণিতের একটি সাধারণ সমস্যা, যেমন ‘২+২=?’ দেখতে বেশ সহজ মনে হয়। কিন্তু এটি সমাধান করতে মস্তিষ্কের একাধিক অংশ একসঙ্গে কাজ করে। যেমন চোখ সমস্যা, সংখ্যা ও প্রতীকগুলো দেখে মস্তিষ্কের কাছে পাঠায়। তারপর মস্তিষ্কের স্বল্পমেয়াদি স্মৃতি সমস্যার নির্দিষ্ট উপাদান, যেমন সংখ্যা, প্রতীক ও তাদের ক্রম নিয়ে কাজ করে এবং প্রতীকগুলো (যেমন +, =, ?) কী তা বোঝে। এরপর দীর্ঘমেয়াদি স্মৃতি গণিতের নিয়ম বা পদ্ধতি মনে রাখার কাজ করে, যেমন ‘+’ মানে যোগ করতে হবে। মস্তিষ্কের আরেক অংশ পরিমাণের ধারণা নিয়ে কাজ করে, যেমন ‘২’ মানে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ বোঝায় (২টি আপেল বা ২টি পাখি)।

মস্তিষ্কের আরেকটি অংশ হিসাব করে। মানে উপরের সব প্রক্রিয়াগুলো একত্রে ব্যবহার করে সঠিক উত্তর বের করার কাজ করে, অর্থাৎ ২+২=৪।

একজন নিউরোটিপিক্যাল মানুষের মস্তিষ্ক এসব ধাপ সহজ ও ধারাবাহিকভাবে করে।

কিন্তু যাদের ডিসক্যালকুলিয়া আছে তাদের কোনো একটি বা একাধিক ধাপে সমস্যা দেখা দেয়। ফলে তারা সংখ্যা বা গণিতের ধারণা বুঝতে, মনে রাখতে বা ব্যবহার করতে অসুবিধায় পড়ে।

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বয়সভেদে লক্ষণ

ডিসক্যালকুলিয়ার লক্ষণ নির্ভর করে গণিত শেখার কোন অংশে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় ভোগে তার ওপর। এছাড়াও এটি বয়স ও সে কোন ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয় তার ওপরও নির্ভর করে।

ছোট শিশু (প্রি-কে ও কিন্ডারগার্টেন স্তর পর্যন্ত)

খুব ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে আছে, উপরের দিকে গুনতে সমস্যা হয়। এছাড়া একটি সংখ্যার সঙ্গে ততগুলো বস্তুর সংযোগ করতে পারে না (যেমন ৪ সংখ্যা দেখেও সামনে থাকা চারটি মার্বেল চিনতে না পারা)। সংখ্যা ও গণিতের প্রতীকগুলো চিনতে না পারা। সংখ্যা সাজাতে অসুবিধা (বড় থেকে ছোট বা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত)। সংখ্যা রেখা চিনতে বা ব্যবহার করতে না পারা। টাকা ব্যবহারে (কয়েন বা নোট) সমস্যা হয়।

স্কুলগামী শিশু (প্রাথমিক স্তর)

ডিসক্যালকুলিয়ার লক্ষণ সাধারণত তখনই চোখে পড়ে যখন শিশু প্রায় ছয় বছর বয়সে স্কুলে যেতে শুরু করে। এই বয়সে লক্ষণগুলোর অন্যতম হলো, ছোট সংখ্যাগুলো গোনার সময়ও আঙুল ব্যবহার করা। কোনো জিনিস বা বস্তুর সংখ্যা চোখে দেখে অনুমান করতে না পারা (অর্থাৎ একটি একটি করে গুনতে হয় সেটা বুঝতে না পারা)। সহজ অঙ্ক মুখস্থ বা মনে রাখতে না পারা। নামতা মুখস্থ করতে কষ্ট হওয়া।

এছাড়া তারা সংখ্যা বা প্রতীকের ক্রম বদলালে একই অঙ্ক চিনতে পারে না (যেমন ১+৭=৮ ও ৮=৭+১ একই বিষয় হলেও বুঝতে পারে না)। শব্দভিত্তিক সমস্যা বা কঠিন প্রতীক (> মানে বড়, < মানে ছোট) বুঝতে না পারা। সংখ্যাগুলো সাজাতে সমস্যা (১০, ১০০, ১০০০ অনুযায়ী) বা দশমিকের স্থান বুঝতে কষ্ট হওয়া (০.১, ০.০১, ০.০০১)।

কিশোর (সেকেন্ডারি বা হাইস্কুল বয়স) ও প্রাপ্তবয়স্ক

কিশোর ও প্রাপ্তবয়স্কদের লক্ষণগুলোর মধ্যে অন্যতম উল্টোভাবে গুনতে কষ্ট হয়। এছাড়া শব্দভিত্তিক অঙ্কের সমস্যা সমাধান করতে না পারা। বড় সমস্যাকে ছোট ধাপে ভেঙে সমাধান করতে না পারা। কোনো জিনিস বা বস্তু গুনতে কষ্ট হওয়া। পরিমাণ মাপা (যেমন রান্না বা বেকিংয়ের রেসিপি) বুঝতে সমস্যা।

টাকা ব্যবহার (কয়েন ও নোট) করতে সমস্যা হয়, নোট ভেঙে খুচরা দেওয়া বা খুচরা বদলে নোট নিতে সমস্যা হয়। ভগ্নাংশ বোঝা ও রূপান্তর করতে অসুবিধায় পড়ে।

আবেগজনিত লক্ষণ

যাদের ডিসক্যালকুলিয়া আছে তারা আবেগজনিত প্রতিক্রিয়াও দেখাতে পারে। বিশেষ করে যেখানে গণিতের সমস্যা হাজির হয়। এসব আবেগজনিত লক্ষণগুলোর মধ্যে থাকতে পারে—পরীক্ষা নিয়ে উদ্বেগ ও আতঙ্ক। উত্তেজনা, রাগ বা আক্রমণাত্মক আচরণ (ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে জিদ ও কান্নাকাটি)। ভয় (স্কুলে যাওয়ার ভয় বা স্কুল-ভীতি)।

এসব আবেগজনিত কারণ অনেক সময় বমি বমি ভাব, বমি, ঘাম, পেট ব্যথা পর্যন্ত হয়।

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ডিসক্যালকুলিয়া কি সংক্রামক

না, ডিসক্যালকুলিয়া সংক্রামক নয়। এটি কারও কাছ থেকে সংক্রমিত হয় না, কিংবা অন্য কারো মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া যায় না।

ডিসক্যালকুলিয়া কি নিরাময়যোগ্য

শিশুদের ক্ষেত্রে ডিসক্যালকুলিয়া নিরাময়যোগ্য, কারণ তাদের মস্তিষ্ক বিকাশমান অবস্থায় থাকে। তাদের মস্তিষ্কের নিউরন নতুন দক্ষতা শিখতে এবং মানিয়ে নিতে সক্ষম।

লীনা ফেরদৌস বলেন, এটা কিন্তু কোনো অসুখ নয়, বুদ্ধিমত্তার অভাবও নয় বরং মস্তিষ্কের শেখার একটি আলাদা ধরন বা সংখ্যা বোঝার সমস্যা, যার কারণে অঙ্কের জগতটা একটু আলাদা লাগে। তাই চিকিৎসা মানে এমন না যে, কোনো ওষুধ খেলে পুরোপুরি ঠিক হয়ে যাবে।

তার ভাষ্য, চিকিৎসা বলতে অবশ্যই শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। তবে যেহেতু এটা শেখার একটি আলাদা ধরন, তাই বিশেষ থেরাপি  প্রয়োজন। স্পেশাল এডুকেটর, বিশেষ করে যারা এই বিষয়ে অভিজ্ঞ, তারা খেলার ছলে, বিভিন্ন ছবির মাধ্যমে বা বাস্তব উদাহরণ দিয়ে শিশুকে অঙ্ক শেখাতে সাহায্য করেন। ভিজ্যুয়াল ও হাতে-কলমে শেখানো এবং সঠিক ট্রেনিং ও সাপোর্টে অনেক উন্নতি সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, তবে অনেক ধৈর্য ও সময় দিতে হবে, প্রচলিত নিয়মের বাইরে গিয়ে শিশুকে তার নিজের গতিতে শেখানোটাই সবচেয়ে বড় চিকিৎসা।

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ডিসক্যালকুলিয়া শনাক্ত হলে অভিভাবকের করণীয়

ব্র্যাক হেলথকেয়ারের প্রফেসর কর্নেল ডা. মুরশীদা মোশাররফ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, শিশুদের ডিসক্যালকুলিয়া শনাক্ত হলে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। সাধারণত আমরা দেখি তার অন্য কোনো সমস্যা আছে কিনা। যেমন কোনো খিঁচুনি আছে কিনা, কোনো হরমোনাল সমস্যা আছে কিনা। তবে মূল চিকিৎসা করেন শিশু সাইকোলজিস্ট। তারা সমস্যা ধরে ধরে কাউন্সেলিং করেন।

তিনি আরও বলেন, ডিসক্যালকুলিয়ায় আক্রান্তদের শেখানোর অনেক কৌশল আছে, সেগুলো নিয়মিত অনুশীলন করাতে হবে। যেমন গেম, গান, রঙ বা সংগীতভিত্তিক শেখার পদ্ধতি। যে পদ্ধতিতে শিশু সবচেয়ে ভালো শেখে, সেটি নিয়মিত অনুসরণ করতে হবে।

কিডজলিডজের লীনা ফেরদৌস বলেন, এখানে অভিভাবকের ভূমিকাটাই সবচেয়ে বড়। সন্তান যেন নিজেকে কোনো অংশে ‘কম’ না ভাবে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। পাশের বাড়ির বা ক্লাসের অন্য কোনো শিশুর সঙ্গে তুলনা করা যাবে না।

‘আমরা জানি, প্রতিটি মানুষ আলাদা, তাই শিশুকে কখনো বকাঝকা করা যাবে না। তাকে বোঝাতে হবে, সে অঙ্কে একটু দুর্বল হতে পারে, কিন্তু তার মানে এই নয় অন্য কিছুতে পিছিয়ে আছে,’ বলেন তিনি।

তিনি পরামর্শ দেন, একজন ভালো শিশু বিশেষজ্ঞ, সাইকোলজিস্ট ও স্পেশাল এডুকেটরের পরামর্শ নিতে হবে। তারা শিশুর সমস্যা নির্দিষ্ট করে কাজ করেন। মানে যেখানে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় ভোগে, সেটিতেই বেশি জোর দেওয়া হয়।

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ডিসক্যালকুলিয়া কি বুদ্ধিমত্তায় প্রভাব ফেলে

না, ডিসক্যালকুলিয়া বুদ্ধিমত্তাকে সরাসরি প্রভাবিত করে না। কিছু মানুষের মধ্যে ডিসক্যালকুলিয়ার পাশাপাশি অন্যান্য মানসিক বা বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধকতা থাকতে পারে।

লীনা ফেরদৌস বলেন, ডিসক্যালকুলিয়া থাকা মানে এই নয় যে, সেই ব্যক্তি কম বুদ্ধিমান। বরং অনেক সময় ডিসক্যালকুলিয়ায় আক্রান্তদের আইকিউ টেস্টে গড়ের চেয়ে বেশি স্কোর পাওয়া যায়।

তারা প্রায়ই অন্যান্য ক্ষেত্রে, বিশেষ করে সৃজনশীলতা, শিল্পকলা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতায় অসাধারণ হয়ে থাকে বলে জানান তিনি।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হলো, এই অবস্থায় অভিভাবক ও শিক্ষকের সহানুভূতি ও উৎসাহ অত্যন্ত জরুরি। সহায়তা ছাড়া শিশুরা আত্মবিশ্বাস হারাতে পারে, যা উদ্বেগ বা বিষণ্ণতায় রূপ নিতে পারে। নিয়মিত উৎসাহ ও ভালোবাসা পেলে শিশুরা নিজের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠবে।