প্যারেন্টিং

শিশুর মধ্যে সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলার উপায়

সুমাইয়া ইসলাম
সুমাইয়া ইসলাম

শিশু হাতে টাকা পেলে অনেক কিছুই কিনতে চায়। যেমন খেলনা, চকলেট, বা পছন্দের জিনিস। কিন্তু এই ছোট ছোট পছন্দের ভিড়ে তারা বুঝতে পারে না, টাকা কোথা থেকে আসে, আর কেন জমিয়ে রাখা দরকার। হয়তো তারা পরিবার থেকে বারবার শোনে ‘টাকা জমাও’, তবে এই কথাটার অর্থ বুঝতে পারে না। এজন্য শিশুকে সঞ্চয়ের গুরুত্ব শেখাতে হবে।

ছবি: সংগৃহীত

সঞ্চয় আসলে কেবল টাকা জমিয়ে রাখা নয়। এটি একটি অভ্যাস। এই অভ্যাস শিশুকে ধৈর্য শেখায়, পরিকল্পনা আর দায়িত্ববোধ করে গড়ে তোলে। ছোট থেকে সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে উঠলে বড় হয়ে খরচ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

শিশুর মধ্যে কীভাবে সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলবেন এখানে উল্লেখ করা হলো।

মাটির ব্যাংক উপহার

শিশুকে একটি মাটির ব্যাংক বা টিনের বক্স উপহার দিতে হবে। তারপর সেটাতে টাকা জমানোর পরামর্শ দেব। আরও ভালো হয় ওর নামে ব্যাংকটির নামকরণ করলে। কারণ শিশুরা নিজের নামে কিছু পেলে বেশি পছন্দ ও যত্ন করে। তাই তার সঙ্গে মিলিয়ে নাম দিতে হবে। এই যেমন ‘সঞ্চয়ী সোহান’। এমন মজার নাম রাখলে আগ্রহ বাড়বে।

ছবি: সংগৃহীত

লক্ষ্য ঠিক করতে সাহায্য

শিশুদের নানা রকম চাহিদা থাকে। সেখান থেকে একটি নির্দিষ্ট করে দিতে হবে। বলে দিতে হবে,  জমানো টাকা দিয়ে তার পছন্দের জিনিস কেনা হবে। ধরা যাক, সে একটি বই বা খেলনা কিনতে চায়। হিসাব করতে হবে, কতদিনে কত টাকা জমালে সেটা কিনতে পারবে। তারপর সেই লক্ষ্য বেধে দিতে হবে। তবে শিশুর বয়স অনুযায়ী লক্ষ্য ঠিক করতে হবে। তাহলে অর্জন করা সহজ হবে। এতে সে হতাশ হবে না।

ছবি: সংগৃহীত

টাকা দিলে কারণ জানানো

আমরা মাঝে মাঝে শিশুর হাতে টাকা দেয়, কিন্তু কেন দেয় এবং সেই টাকা কীভাবে খরচ করবে তা বলে দিতে হবে। যেমন ঈদ, জন্মদিন, বা পরীক্ষায় ভালো করলে টাকা উপহার দেয়। এই টাকা দেওয়ার সময় কিছু পরামর্শ দিতে হবে। বলতে হবে, উপহারের টাকা শুধু খরচ না করে কিছু অংশ জমাতে হবে। তাহলে সে উৎসাহ পাবে। তাকে বুঝিয়ে বলতে হবে, এই টাকাটা জমিয়ে কী কী ভালো কাজ করা যেতে পারে।

ছবি: সংগৃহীত

তিন ভাগে ভাগ করা

এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। কেবল শিশু নয়, আমাদের সবার এটা শেখা উচিৎ। শিশুকে শেখাতে হবে তার টাকাকে তিন ভাগে ভাগ করতে হবে। তিনটি ভাগ হলো—দরকারি ব্যয়, ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় এবং অন্যদের দান। এতে সে অর্থের ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবহার শিখবে।

সঞ্চয় নিয়ে গল্প শোনানো

সঞ্চয়ের গুরুত্ব নিয়ে অনেক শিশুতোষ গল্প প্রচলিত আছে। সেই গল্পগুলো ওদের পড়ে শোনাতে হবে। তাহলে ছোট থেকেই সঞ্চয়ের গুরুত্ব বুঝবে এবং সঞ্চয়ে উদ্বুদ্ধ হবে। ছড়া ও গল্পের মাধ্যমে অর্থের গুরুত্ব ও সঞ্চয়ের মূল্য শেখানো যায়।
সঞ্চয়ের জন্য পুরস্কার দেওয়া

পুরস্কার পেলে শিশুরা খুব খুশি হয়। শুধু তাই নয়, ওই কাজের প্রতি আগ্রহ বেড়ে দ্বিগুণ হয়। সে যদি লক্ষ্য পূরণ করে, তাহলে তাকে পুরস্কৃত করতে হবে, বাহবা দিতে হবে। পরিবারের সবার সামনে প্রশংসা করতে হবে। এতে তার আত্মবিশ্বাস বাড়বে।

ছবি: সংগৃহীত

বয়স অনুযায়ী সঞ্চয়ের অভ্যাস

ছোট থেকে শিশুকে সঞ্চয়ী করতে তার বয়সকে প্রাধান্য দিতে হবে। যেমন ৩ থেকে ৫ বছর বয়সীদের রঙিন মাটির ব্যাংক উপহার দিতে হবে। এই বয়সীদের কয়েন চিনিয়ে সঞ্চয় শেখাতে হবে।

৬ থেকে ৮ বছরের শিশুদের ছোট ছোট লক্ষ্য দিতে হবে। তাকে পছন্দের জিনিস কিনতে সঞ্চয় শেখাতে হবে। 
৯ থেকে ১২ বছরের শিশুদের বাজেট সম্পর্কে ধারণা দিতে হবে। তাকে মাসের আয় ও ব্যয়ের বাজেট দিতে হবে। তারপর এগুলোর সমন্বয় করে সঞ্চয় শেখাতে হবে।

১৩ থেকে ১৫ বছরের শিশুদের প্রতিদিনের খরচের তালিকা তৈরি করতে হবে। তাহলে সে দায়িত্বশীল হয়ে উঠবে।

শেষ কথা, শিশুরা বড়দের দেখে শেখে। তাই ওদের দেখিয়ে সঞ্চয় করলে তারা অনুকরণ করবে। ভুলে গেলে চলবে না, সঞ্চয় মানে শুধু অর্থ জমানো নয় বরং দায়িত্ব, ধৈর্য ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সচেতন হওয়া। তাই শিশুর মধ্যে সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ।