দড়ি ছাড়াই ১০১ তলা ভবনের চূড়ায় অ্যালেক্স হোনল্ড

স্টার অনলাইন ডেস্ক

দড়ি, সেফটি নেট বা সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়াই বিশ্বের অন্যতম উঁচু ভবন তাইওয়ানের তাইপে ১০১-এ আরোহণ করে ইতিহাস গড়েছেন বিশ্বখ্যাত মার্কিন পর্বতারোহী অ্যালেক্স হোনল্ড।

বার্তাসংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, আজ রোববার সকাল ১০টা ৪৩ মিনিটে এক হাজার ৬৬৭ ফুট উঁচু ১০১ তলা টাওয়ারটির চূড়ায় পৌঁছান অ্যালেক্স হোনল্ড।

এ সময় নিচে জড়ো হওয়া মানুষের উল্লাসধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। হাসিমুখে জনতার উদ্দেশে হাত নাড়েন এই রক ক্লাইম্বার— এ দৃশ্য নিঃসন্দেহে ক্লাইম্বিং ইতিহাসে একটি আইকনিক মুহূর্ত হয়ে থাকবে বলে উল্লেখ করে এপি।

অ্যালেক্স হোনল্ড প্রথম ব্যক্তি যিনি কোনো সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়া খালি হাতে তাইপে ১০১–এর চূড়ায় ওঠেন।

আরোহণ শেষে সংবাদ সম্মেলনে অনুভূতির কথা জানিয়ে বলেন,'ভিউটা ছিল অবিশ্বাস্য। সুন্দর একটা দিন। বাতাসের কারণে বার বার মনে হচ্ছিল— এই বুঝি পড়ে না যাই। সত্যিই এটা অসাধারণ অভিজ্ঞতা। তাইপেকে দেখার এক অনন্য উপায়।'

৪০ বছর বয়সী হোনল্ড প্রায় দুই দশক ধরে ক্লাইম্বিং দুনিয়ায় পরিচিত নাম। মাত্র ২০ বছর বয়সে কঠিন রুটে সফল ফ্রি সলো ক্লাইম্ব করে আলোচনায় আসেন তিনি।

২০১৭ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার ইয়োসেমাইট ন্যাশনাল পার্কে তিন হাজার ফুট উঁচু এল ক্যাপিটান ভবনে উঠে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পান।

তার এই শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানের ওপর নির্মিত তথ্যচিত্র 'ফ্রি সলো' অস্কারও জয় করে নেয়।

সংবাদ সম্মেলনে হোনল্ড জানান, তাইপে ১০১–এর দিকে তার নজর অনেক আগে থেকেই ছিলো, কিন্তু সুযোগ পাননি।

অনলাইন স্ট্রিমিং মিডিয়া নেটফ্লিক্স এটি সরাসরি সম্প্রচার করবে— এমন প্রস্তাবের পর তাইপে-১০১ এ ওঠার সিদ্ধান্ত নেন বলে জানান।

বলেন, 'এটাই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় আরবান ফ্রি সলো ক্লাইম্ব।'

ayaaleks.jpg
দড়ি বা সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়াই একা তাইপে-১০১ ভবনে ওঠেন অ্যালেক্স হোনল্ড। ছবি: সংগৃহীত

হোনল্ড আরও জানান, ১০১ তলা ভবনটির সবচেয়ে কঠিন অংশ ছিল মাঝের ৬৪ তলা। 'বাক্স' নকশার ওই অংশটি ওঠার সময় বিশ্রাম নিতে হয়েছে তাকে।

সাধারণত নির্জন জায়গায় আরোহণ করা হোনল্ডের জন্য এত মানুষের সামনে ভবনে চড়া একটু অস্বস্তিকর ছিলো।

বলেন, 'উপরে ওঠার সময়ই মনে হচ্ছিল—এতো মানুষ তাকিয়ে আছে। পরে বুঝলাম সবাই আসলে আমার ভালোই চাইছে। এ কারণে অভিজ্ঞতাটা আরও আনন্দদায়ক হয়ে ওঠে।'

হোনল্ড প্রথম ব্যক্তি নন যিনি তাইপে ১০১–এ উঠেছেন। ২০০৪ সালে ভবনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের দিন ফরাসি ক্লাইম্বার অ্যালাঁ রবার্ট দড়ি ব্যবহার করে চূড়ায় উঠেছিলেন। তবে তার আরোহণ করতে লেগেছিল প্রায় চার ঘণ্টা। অন্যদিকে অ্যালেক্স হোনল্ডের লেগেছে মাত্র ৯০ মিনিট।