ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ফাঁকি দিয়ে হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলা: নিহত ৪ সেনা, আহত ৬০

By স্টার অনলাইন ডেস্ক
14 October 2024, 04:56 AM
UPDATED 14 October 2024, 15:52 PM

ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলের একটি সেনাঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী হিজবুল্লাহ। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এই হামলায় তাদের চার সেনা নিহত হয়েছেন।

আজ সোমবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

গতকালের এই হামলার মাঝেই লেবাননে বিমান হামলা ও স্থল অভিযানের মাত্রা বাড়িয়েছে ইসরায়েল। তবে স্থল হামলায় হিজবুল্লাহর প্রবল প্রতিরোধের মুখে পড়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।

সবচেয়ে বড় পাল্টা হামলায় পুরনো প্রযুক্তির ব্যবহার

bangladesh_pakistan.jpg
ইসরায়েলি যাদুঘরে সংরক্ষিত হিজবুল্লাহর ড্রোন। ফাইল ছবি: এএফপি

হাইফা শহরের কাছে বিনইয়ামিনা নামের জায়গায় অবস্থিত সামরিক প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে গতকাল রোববার হামলা চালায় হিজবুল্লাহ। ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ইসরায়েল লেবাননে সর্বাত্মক হামলা শুরুর পর এটাই হিজবুল্লাহর সবচেয়ে বড় আকারের পাল্টা হামলা।

জরুরি সেবাদাতারা জানিয়েছেন, এই হামলায় আহতের সংখ্যা ৬০ জনেরও বেশি।

ইসরায়েলি গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, এই হামলায় পুরনো প্রযুক্তির ড্রোন ব্যবহার করেছে হিজবুল্লাহ। যার ফলে ইসরায়েলের সব ধরনের রাডার ও অন্যান্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থাকে এড়িয়ে লক্ষ্যে আঘাত হানতে সক্ষম হয় এই ড্রোনগুলো।

হিজবুল্লাহর হুশিয়ারি

রোববার হিজবুল্লাহ জানায়, তারা বিনইয়ামিনা ক্যাম্পে 'এক ঝাঁক সশস্ত্র ড্রোন' পাঠিয়েছে। এই সেনাঘাঁটি ইসরায়েলের অন্যতম বড় শহর হাইফা থেকে ৩০ কিমি দক্ষিণে অবস্থিত।

বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি হামলায় বৈরুতের মধ্যাঞ্চলে ২২ জন নিহতের প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালানোর দাবি করেছে হিজবুল্লাহ।

পরবর্তীতে অপর এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ হুশিয়ারি দেয়, 'যদি আপনারা আমাদের মহান ও প্রিয় জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আগ্রাসন অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে আপনাদের জন্য যে পরিণতি অপেক্ষা করছে, তার তুলনায় আজ আপনারা দক্ষিণ হাইফায় যা দেখেছেন, সেটা কিছুই না।'

হিজবুল্লাহর বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, লেবাননের সশস্ত্র সংগঠনটি ইসরায়েলের গোলানি ব্রিগেডকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করেছে। গোলানি ব্রিগেড আইডিএফের একটি পদাতিক ইউনিট। এই ইউনিটের সদস্যদেরকেই মূলত দক্ষিণ লেবাননে মোতায়েন করেছে ইসরায়েল।

হামলার দায় স্বীকার করার আগে হিজবুল্লাহ তাদের প্রয়াত নেতা হাসান নাসরাল্লাহর একটি অডিও বার্তা প্রকাশ করে।

এ বার্তায় তিনি হিজবুল্লাহর সদস্যদের নিজেদের লোকজন, পরিবার, জাতি, মূল্যবোধ ও মর্যাদা রক্ষার আহ্বান জানান। গত মাসের শেষ দিকে ইসরায়েলি হামলায় নাসরাল্লাহসহ বেস কয়েকজন হিজবুল্লাহ কমান্ডার নিহত হন। 

'অপ্রস্তুত' ইসরায়েল

kotka.jpg
বিন্যামিনার সেনাঘাঁটিতে হামলার পর অ্যাম্বুলেন্সে করে আহতদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ছবি: রয়টার্স

ইসরায়েলি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ইউনাইটেড হাতজালাহ জানিয়েছে, তারা বিনইয়ামিনা থেকে '৬০ জনেরও বেশি আহত ব্যক্তিকে' সরিয়ে নিতে সহায়তা করেছে। ভুক্তভোগীদের বেশিরভাগই মধ্যম মাত্রা থেকে গুরুতর পর্যায়ে আহত হয়েছেন।

হামলার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি। তবে বিবিসি জানিয়েছে, আহতদের অনেকে সেনা ঘাঁটির ক্যান্টিনে অবস্থান করছিলেন এবং একেবারে অপ্রস্তুত অবস্থায় তারা আক্রান্ত হন। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ছবিতে খালি মেস হলের ছাদে বড়সড় ফুটা দেখা গেছে।

গাজায় ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাসের সমর্থনে প্রায় এক বছরের বেশি সময় ধরে ইসরায়েলে রকেট ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে হিজবুল্লাহ।

সেপ্টেম্বরের শেষভাগ থেকে তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু সীমান্ত এলাকা ছাড়িয়ে ইসরায়েলের অভ্যন্তর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।

তবে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের অত্যাধুনিক আকাশ হামলা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আয়রন ডোম বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে পারলেও, এবারের হামলায় এই ব্যবস্থা কোনো কাজে আসেনি।

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বাহিনী আবারও আক্রান্ত

লেবাননের দক্ষিণে আইডিএফ ও হিজবুল্লাহর প্রবল যুদ্ধের মাঝে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বাহিনী আবারও হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছে।

তারা জানায়, ইসরায়েলি সেনারা 'জোর করে' জাতিসংঘের সেনাদের এক অবস্থানে দুইটি ট্যাংক নিয়ে ঢুকে পড়ে। এরপর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তাদেরকে ফোন করে সেখান থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিতে বলেন।  

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, হিজবুল্লাহর হামলা থেকে বাঁচতে তারা জাতিসংঘের ঘাঁটিতে ট্যাংকসহ প্রবেশ করতে বাধ্য হয়েছিল।

২৩ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু করে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা নিহতের সংখ্যা এক হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে। এএফপির এ হিসাব শনিবার পর্যন্ত হালনাগাদ করা হয়েছে।