নেপালের আকস্মিক বন্যার পর উত্তরাখন্ডে ১৩টি ঝুঁকিপূর্ণ লেক চিহ্নিত

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা

নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে হিমবাহধসের ঘটনায় প্রাণঘাতী বন্যা ও কাদার স্রোত নেমে আসার পর ভারতের উত্তরাখন্ড রাজ্যের হিমালয় অঞ্চলে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

রাজ্যটির ১৩টি গ্লেসিয়াল লেককে (হিমবাহ হ্রদ) অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

২৭ আগস্ট দেহরাদুনে উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে ওই অঞ্চলে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি।

মুখ্যমন্ত্রী ধামি রাজ্যের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে চিহ্নিত হ্রদগুলোতে নিয়মিত বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ ও ব্যাপক জরিপ চালানোর নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে আগাম সতর্কতাব্যবস্থা জোরদার করতে বলেন।

মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও পুনর্বাসন বিভাগের সচিব বিনোদ কুমার সুমনকে চিহ্নিত লেকগুলোর আয়তন ও পানির স্তরের পরিবর্তন, আশপাশের ভূখণ্ডের স্থিতিশীলতা এবং ভাটির দিকের সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা মূল্যায়নের নির্দেশ দেন।

প্রয়োজনে অতিরিক্ত সরঞ্জাম স্থাপনসহ আধুনিক সেন্সর, পানির স্তর পরিমাপের যন্ত্র, যোগাযোগব্যবস্থা ও আগাম সতর্কতাব্যবস্থা মোতায়েনেরও নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।

কর্মকর্তাদের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত, জনমানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার পথ ও যোগাযোগ নেটওয়ার্ক উন্নত, স্থানীয় সতর্কতাব্যবস্থা জোরদার এবং ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতার প্রস্তুতি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাজ্যের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও পুনর্বাসন বিভাগের সচিব বিনোদ কুমার সুমন জানান, ১৩টি ঝুঁকিপূর্ণ লেকের মধ্যে চারটির জরিপ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

বাকি লেকগুলোও পর্যায়ক্রমে মূল্যায়ন করা হবে।

শিগগিরই বিশেষজ্ঞ দল চামোলির সরস্বতী তাল ও উত্তরকাশীর কেদারতাল লেকের বিস্তারিত জরিপ চালাবে।

জরিপে লেকগুলোর বর্তমান অবস্থা, পানির স্তর, আয়তনের পরিবর্তন, আশপাশের ভূখণ্ড এবং ভাটির দিকের বসতিগুলোর জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হবে।

২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্ত অঞ্চলে প্রাণঘাতী দুর্যোগের পর এসব পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, হিমবাহধসের ফলে বিশাল ধ্বংসাবশেষের স্রোত ও বন্যার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় ৫ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পের সমপরিমাণ ভূকম্পন শক্তি তৈরি হয়েছিল। ধ্বংসাবশেষের স্রোতটি ভাটির দিকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে যায়।