‘সম্পর্কের ব্যাপার নয়, এটা টাকার চুক্তি’

স্পোর্টস ডেস্ক

চেলসি ও অ্যাস্টন ভিলার মধ্যে গত চার বছরে একের পর এক খেলোয়াড় লেনদেন হয়েছে। সর্বশেষ আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজের ভিলার থেকে চেলসিতে যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে দুই ক্লাবের মধ্যে এমন চুক্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে আটে। তবে এত লেনদেনের পরও দুই ক্লাবের মধ্যে কোনো বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ভিলার কোচ উনাই এমেরি। তার দাবি, দুই ক্লাবের সম্পর্ক বলতে যা বোঝায়, তা আসলে শুধুই অর্থ ও খেলোয়াড়ের বিনিময়ের চুক্তি।

রোববার ভিলা ছেড়ে চেলসিতে যোগ দিয়েছেন মার্তিনেজ। এর মাত্র এক সপ্তাহ আগে চেলসির স্ট্রাইকার নিকোলাস জ্যাকসন বিপরীত পথে গিয়ে নাম লিখিয়েছেন ভিলায়। সাম্প্রতিক সময়ে দুই ক্লাবের মধ্যে লেনদেনের এমন ধারাবাহিকতা প্রিমিয়ার লিগে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তবে বিষয়টিকে দুই ক্লাবের সুসম্পর্কের ফল হিসেবে দেখতে নারাজ এমেরি। বরং প্রতিদ্বন্দ্বিতার জায়গা থেকেই তিনি বিষয়টি দেখছেন। চেলসি-ভিলার সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে এমেরি বলেন, 'ভালো সম্পর্ক? তারা আমাদের মেরে ফেলতে চায়, আমরাও তাদের মেরে ফেলতে চাই!'

এরপর আরও সরাসরি নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে ভিলা কোচ বলেন, 'আমাদের ভালো খেলোয়াড় আছে এবং আমরা তাদের কাছ থেকে একজন খেলোয়াড় নিতে পারি। এটা ভালো সম্পর্কের ব্যাপার নয়, এটা টাকার জন্য চুক্তি এবং খেলোয়াড়ের জন্য চুক্তি।'

মার্তিনেজের চেলসিতে যাওয়া নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও একই সঙ্গে চেলসির প্রতি নিজের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ মনোভাবও স্পষ্ট করেছেন এমেরি, 'আমি এমিলিয়ানো মার্তিনেজ এবং মর্গান রজার্সের জন্য খুশি। কিন্তু চেলসির জন্য আমি খুশি নই।'

২০২২ সালে চেলসির মালিকানা ব্লুও-র হাতে যাওয়ার পর দুই ক্লাবের মধ্যে লেনদেন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সেই বছর ভিলা থেকে কার্নি চুকউয়েমেকাকে ২ কোটি পাউন্ডে দলে ভেড়ায় চেলসি। এরপর ইয়ান মাতসেন, ওমারি কেলিম্যান ও অ্যাক্সেল ডিসাসির মতো খেলোয়াড়ও দুই ক্লাবের মধ্যে দলবদল করেছেন।

চলতি গ্রীষ্মেই দুই দলের মধ্যে হয়েছে চারটি চুক্তি। মর্গান রজার্স প্রায় ১১ কোটি ৭০ লাখ পাউন্ডে ভিলা থেকে চেলসিতে যোগ দেন। এরপর আলেহান্দ্রো গারনাচো ধারে ভিলায় যান, যার চুক্তিতে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে প্রায় ৪ কোটি ৩০ লাখ পাউন্ডে স্থায়ীভাবে তাকে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এরপর ৬ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডে জ্যাকসন ভিলায় যোগ দেন। সর্বশেষ মার্তিনেজও পাড়ি জমান স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে।

২০২২ সাল থেকে ভিলা খেলোয়াড় বিক্রি করে চেলসির কাছ থেকে পেয়েছে প্রায় ১৬ কোটি ৩৫ লাখ পাউন্ড। বিপরীতে চেলসির খেলোয়াড়দের জন্য ভিলা খরচ করেছে প্রায় ১০ কোটি ২৫ লাখ পাউন্ড। গারনাচোর চুক্তি নির্দিষ্ট শর্তে স্থায়ী হলে সেই অঙ্ক আরও বেড়ে প্রায় ১৫ কোটি ৫ লাখ পাউন্ড হতে পারে।

দুই ক্লাবের এমন ঘন ঘন লেনদেন অবশ্য শুধু মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়মকানুন এবং উয়েফার আর্থিক বিধি মেনে চলার বিষয়েও এসব চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। গত চার বছরে প্রিমিয়ার লিগের ১৫টি ধারাবাহিক ক্লাবের মধ্যে চেলসি ও ভিলার আটটি করে লেনদেন হয়েছে, যা এই সময়ে দুই ক্লাবের মধ্যে যৌথভাবে সর্বোচ্চ।

চেলসির সঙ্গে ভিলার ব্যবসায়িক সম্পর্কের পেছনে দুই ক্লাবের মালিকপক্ষের যোগাযোগও গুরুত্বপূর্ণ বলে জানা যায়। চেলসির সহ-মালিক বেহদাদ এগবালি ও ভিলার মালিক নাসেফ সাওয়িরিসের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে এবং খেলোয়াড় কেনাবেচা নিয়ে তারা সরাসরি আলোচনা করেছেন।