প্রাণহানির ঝুঁকি থাকলে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাবে না মালয়েশিয়া

স্টার অনলাইন ডেস্ক

মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার পর প্রাণহানির ঝুঁকি থাকলে ৫ হাজার রোহিঙ্গাা শরণার্থীর প্রত্যাবাসন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে না মালয়েশিয়া। ফেরত পাঠানোর আগে নিরাপত্তার বিষয়টি যাচাই-বাছাই করছে দেশটির সরকার।

আজ বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী ও সরকারের মুখপাত্র ফাহমি ফাদজিল এ তথ্য জানিয়েছেন।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এই পাঁচ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে চিহ্নিত ও ফেরত পাঠানোর পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করছে।

ফাহমি ফাদজিল বলেন, ‘মিয়ানমারের জান্তা সরকার তাদের ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুত, তবে আমরা পুরো মানদণ্ড ও শর্তাবলী পর্যালোচনা করছি। যদি উপযুক্ত মনে হয়, কেবল তখনই তা বাস্তবায়ন করা হবে। প্রধানমন্ত্রীও স্পষ্টভাবে বলেছেন, কারও জীবন ঝুঁকিতে থাকলে তাকে ফেরত পাঠানো যাবে না। তাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে আরও পর্যালোচনা করছে।’

এর আগে গত ৩০ জুলাই মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানান, পাঁচ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে রাজি হয়েছে মিয়ানমার সরকার।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অনলাইনে ঘৃণামূলক প্রচারণা ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের লক্ষ্যবস্তু হয় মালয়েশিয়ায় বসবাসরত রোহিঙ্গা শরণার্থীরা। তাদের ওপর নজরদারি বাড়ায় দেশটির সরকার। এর অংশ হিসেবে তাদের পরিচালিত বিভিন্ন কমিউনিটি স্কুলও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

গত সপ্তাহে কুয়ালালামপুরে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) কার্যালয়ের সামনে ১০০ জনের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী জড়ো হলে তাদের আটক করে কর্তৃপক্ষ। কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে কয়েক দিন পর ছেড়ে দেওয়া হয় তাদের।

রোহিঙ্গা শরণার্থীরা অভিযোগ করেছেন, উত্তরাঞ্চলের পেনাং অঙ্গরাজ্যে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ করেছেন। এরপর তারা সহায়তা চাইতে ইউএনএইচসিআরের কার্যালয়ে যান।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ মালয়েশিয়া সরকারকে এই পরিকল্পনা বাতিলের দাবি জানিয়েছে।

সংস্থাটির এশিয়াবিষয়ক উপপরিচালক ব্রায়োনি লাউ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘মিয়ানমার জান্তার নির্মমতার শিকার রোহিঙ্গাদের জোরপূর্বক ফেরত না পাঠিয়ে, এই সংকট মোকাবেলায় মালয়েশিয়া সরকারের উচিত আঞ্চলিক নেতৃত্ব দেওয়া।’

জাতিসংঘের শরণার্থী কনভেনশনের সদস্য নয় মালয়েশিয়া এবং আশ্রয়প্রার্থীদের অবৈধ অভিবাসী হিসেবে বিবেচনা করে দেশটি।