আবারো যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা

স্টার অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে কুয়েত, জর্দান ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরান পাল্টা হামলা চালিয়েছে। গত কয়েক দিন ধরেই দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে।

গতকাল রোববার যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে থাকা এসব মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হানে তেহরান। বিবিসির খবরে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলায় একজন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি) জানায়, তারা কুয়েত, জর্দান এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে আঘাত হেনেছে।

যুদ্ধ বন্ধে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান এক সমঝোতা স্মারকে সই করে। অব্যাহত পাল্টাপাল্টি হামলায় এই সমঝোতা স্মারকের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

নতুন করে শুরু হওয়া উত্তেজনার জেরে হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে তেহরান, যদিও যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, সেটি এখনও উন্মুক্ত।

রোববার ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় রাডার এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটিসহ কয়েক ডজন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।

মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরানের উসকানি ও হুমকি সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ যাতায়াত এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

সেন্টকমের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ঠিক কয়েক মিনিট আগেই ইরানের সিরিক, কেশম, বন্দর আব্বাস ও জাস্ক অঞ্চলে ভয়াবহ বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের চালানো নতুন দফার হামলায় ইরানের খুজেস্তান প্রদেশে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। গত রাতের ওই হামলায় একজন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন বলে প্রদেশের নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বরাত দিয়ে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা।

গত শনিবার ইরানের ১৪০টি ইরানি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর পর রোববার রাতে আবারও নতুন করে হামলা চালায় সেন্টকম।

এই সামরিক উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। সোমবার সকালে এশিয়ার বাজারে জ্বালানি তেলের দাম একলাফে অনেকটা বেড়ে গেছে।

ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৭৯ দশমিক ০৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম ৪ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৭৪ দশমিক ৫৩ ডলার। গত কয়েক মাস ধরেই বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের এমন অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের  প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।

তেলের দাম বর্তমানে ঊর্ধ্বমুখী হলেও তা গত এপ্রিলের সর্বোচ্চ ১২০ ডলারের তুলনায় এখনো নিচেই রয়েছে।