এআইর পক্ষে আমার লেখনী অনুকরণ করা সম্ভব নয়: হারুকি মুরাকামি

স্টার অনলাইন ডেস্ক

স্বনামধন্য জাপানী লেখক হারুকি মুরাকামি সম্প্রতি মন্তব্য করেন, তার উপন্যাসগুলো একেবারেই ‘ভিন্ন আঙ্গিকে’ লেখা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি দিয়ে তার লেখনী অনুকরণ করা সম্ভব নয় বলে মত দেন এই লেখক। 

আজ শুক্রবার জাপানে প্রকাশ পেয়েছে মুরাকামির নতুন বই ‘দ্য টেইল অব কাহো’। 

তিন বছর পর তার নতুন একটি উপন্যাস প্রকাশ পেলো। 

এবারই প্রথমবারের মতো মুরাকামি তার উপন্যাসের মূল চরিত্র হিসেবে একজন নারীকে বেছে নিয়েছেন। 

জাপানের স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বইটি সংগ্রহ করতে সকাল থেকেই অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগী বইয়ের দোকানে ভিড় জমান। 

কিয়োডো নিউজকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে মুরাকামি মত দেন, ‘এখন পর্যন্ত যা যা ঘটেছে, তার সবকিছুকে আমলে নিয়ে অনুরূপ একটি লেখা তৈরি করে এআই।’

‘কিন্তু আমি যেভাবে উপন্যাস লিখি, তা একেবারেই ভিন্ন’, যোগ করেন তিনি। 

জেনারেটিভ এআই দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে। এমন সময় এসেছে, যখন এই প্রযুক্তির ব্যবহারে পূর্ণাঙ্গ উপন্যাসও লেখা সম্ভব। 

এ বিষয়ে মুরাকামি বলেন, একজন ঔপন্যাসিকের ভূমিকা হলো, ‘এমন একটি বিষয়কে সামনে নিয়ে আসা, যা তাৎক্ষণিকভাবে আপনার মাথায় এসেছে।’

‘নরওয়েজিয়ান উড’ ও ‘কাফকা অন দ্য শোর’–এর মতো জনপ্রিয় বইয়ের লেখক মুরাকামি। 

হারুকি মুরাকামি। ছবি: জাপান টাইমস
হারুকি মুরাকামি। ছবি: জাপান টাইমস

এই জাপানি লেখকের গল্পগুলো আধুনিক জীবনের নজিরবিহীন একাকীত্ব ও অদ্ভুত সব বিষয়বস্তুর জন্য পরিচিত। তার বইগুলো বিশ্বের প্রায় ৫০টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

মুরাকামি বলেন, ‘যখন আমি একটি গল্প লেখায় গভীর মনোযোগ দেই, তখন হঠাৎ করেই চরিত্রগুলো আমার সামনে চলে আসে। এই চরিত্রগুলো একেবারেই “নতুন”, আগের কোনো চরিত্রের সঙ্গে মিল রেখে এগুলো তৈরি হয় না।’ 

‘এআই সম্ভবত এ কাজটি করতে পারবে না’, যোগ করেন তিনি। 

নতুন উপন্যাসে মূলত কাহো নামের এক নারীর জীবনের উপাখ্যান তুলে ধরেছেন মুরাকামি। 

আসাহি শিমবুনকে দেওয়া ভিন্ন একটি সাক্ষাৎকারে মুরাকামি বলেন, ‘এবার আমি ভিন্ন দৃষ্টিতে পৃথিবীকে দেখেছি। সাধারণত যেভাবে দেখি, তা থেকে এটা ভিন্ন।’

‘অবশ্যই, নারীরা বিশ্বকে যেভাবে দেখে তা আমার পক্ষে শুধু কল্পনাই করা সম্ভব’, যোগ করেন তিনি। 

তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু আমি যখন “কাফকা অন দ্য শোর” লেখার সময় আমি একটি ১৫ বছর বয়সী বালকের দৃষ্টিতে পৃথিবীকে দেখেছি। ওই অর্থে বলতে গেলে একজন ঔপন্যাসিক যেকোনো কিছুই হয়ে উঠতে পারেন’। 

‘এই বইটি লিখে শেষ করার অল্প কিছুদিন আগে আমি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েলেসলি নারী কলেজে কিছুটা সময় কাটিয়ে এসেছি’, যোগ করেন তিনি। 

নতুন উপন্যাস নিয়ে আসাহি শিমবুনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, ‘এ মুহূর্তে নারীদের দৃষ্টিভঙ্গিকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হচ্ছে। আমি মনে করি ওই ধরনের একটি পরিবেশে সময় কাটানোর বিষয়টি “কাহো” চরিত্রকে প্রভাবিত করেছে।’

মুরাকামি জানান, তিনি কখনোই বাবা-মা ও শিশুদের নিয়ে লিখতে স্বচ্ছন্দ বোধ করেননি। 

‘তবে যখনই আমি নতুন উপন্যাস লিখি, তখনই নতুন কিছু চেষ্টা করার অনুপ্রেরণা পাই, যা এর আগে করিনি। এবার আমি সম্ভবত বাবা-মা ও শিশুর সম্পর্ক নিয়ে লিখেছি’, যোগ করেন তিনি।