ইসরায়েলকে ‘বিনা শর্তে’ লেবানন ছেড়ে যেতে হবে: হিজবুল্লাহ প্রধান

স্টার অনলাইন ডেস্ক

লেবাননের সশস্ত্র সংগঠনের নেতা নাঈম কাশেম দাবি করেছেন, লেবাননের দখল করে রাখা অঞ্চলগুলো থেকে ইসরায়েলকে সরে যেতেই হবে। তাদের হাতে আর ‘কোনো বিকল্প নেই’, দাবি করেন এই নেতা।

আজ শুক্রবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি।

মুসলিমদের পবিত্র দিন আশুরা উপলক্ষে দেওয়া বক্তব্যে এ কথা জানান হিজবুল্লাহ প্রধান।

শিয়া মুসলিমদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই দিনটিতে লাখো মানুষ বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলীতে হিজবুল্লাহ ও ইরানের পতাকা উড়িয়ে আশুরা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেয়।

নাঈম বলেন, ‘লেবাননের প্রতিটি ইঞ্চি থেকে ইসরায়েলকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। তাদের হাতে অন্য কোনো বিকল্প নেই। ইসরায়েলকে বিনা শর্তে (লেবানন থেকে) চলে যেতে হবে।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুগপৎ হামলা চালায় ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র। হামলার শুরুতেই প্রাণ হারান ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।

এরপর ২ মার্চ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে রকেট হামলা চালিয়ে ইরানের পক্ষে যুদ্ধে যোগ দেয় হিজবুল্লাহ।

পাল্টা জবাবে লেবাননে বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল। এসব হামলায় চার হাজার ২০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের চাপে লেবাননের কর্মকর্তারা এপ্রিলে ওয়াশিংটনে ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি শান্তি আলোচনা শুরু করে।

১৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এলেও হামলা বন্ধ হয়নি।

ওয়াশিংটন-তেহরান শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে চলতি মাসে নতুন করে লেবাননে যুদ্ধবিরতি চালুর ঘোষণা এসেছে।

ওই চুক্তির অন্যতম শর্ত ছিল, লেবাননেও যুদ্ধের অবসান হতে হবে। সে শর্ত মেনেই উভয় দেশ চুক্তিতে সম্মতি দিয়েছে।

তা সত্ত্বেও চলতি সপ্তাহে ইসরায়েলি হামলায় লেবাননের ছয় নাগরিক নিহত হয়েছেন।

লেবাননে ইসরায়েলি বিমানহামলা পরবর্তী দৃশ্য। ছবি: রয়টার্স
লেবাননে ইসরায়েলি বিমানহামলা পরবর্তী দৃশ্য। ছবি: রয়টার্স

ওয়াশিংটনে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে পঞ্চম দফা আলোচনা চলছে।

এ পরিস্থিতিতে হিজবুল্লাহ প্রধান নাঈম কাশেম বলেন, তারা ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা, তাদের অপরাধ ভুলে যাওয়া বা ইসরায়েলের জন্য ইতিবাচক কোনো অর্জনকে মেনে নেবেন না।

বক্তব্যে ওয়াশিংটনের সঙ্গে চুক্তিতে লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ইরানকে ধন্যবাদ জানান নাঈম। তিনি মত দেন, ওই চুক্তি ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পরাজয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা’।

যুদ্ধের শুরু থেকেই লেবানন কর্তৃপক্ষ ইরান যুদ্ধের আলোচনা থেকে তাদের নিজেদের দরকষাকষিকে আলাদা রাখার চেষ্টা করেছেন।