শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনার মধ্যেই ইরানি তেল বিক্রিতে সাময়িক ছাড় দিল যুক্তরাষ্ট্র

স্টার অনলাইন ডেস্ক

ইরানের সঙ্গে চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনার মধ্যেই দেশটির তেল বিক্রিতে সাময়িক ছাড় দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শন এবং হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করার বিষয়ে তেহরানের প্রতিশ্রুতির পরিপ্রেক্ষিতে ওয়াশিংটন এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

আজ সোমবার বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানায়, মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ২১ আগস্ট পর্যন্ত কার্যকর একটি সাধারণ লাইসেন্স জারি করে। এর আওতায় ইরানি উৎসের অপরিশোধিত তেল, পেট্রোকেমিক্যাল ও অন্যান্য পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য বিক্রি, সরবরাহ ও খালাসের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

লাইসেন্সে বলা হয়েছে, এসব কার্যক্রম সম্পন্ন করার প্রয়োজন হলে ইরানি তেল যুক্তরাষ্ট্রেও আমদানি করা যাবে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র কার্যত ইরানি তেল আমদানি বন্ধ রেখেছে।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, সুইজারল্যান্ডে চলমান আলোচনায় ইরান হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

তিনি বলেন, এই কাঠামোর অংশ হিসেবে অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানি তেলের উৎপাদন, সরবরাহ ও বিক্রির অনুমোদন দিয়ে ৬০ দিনের জন্য একটি অস্থায়ী সাধারণ লাইসেন্স জারি করেছে।

গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সই হওয়া সমঝোতা স্মারকের আওতায় ইরানি অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য রপ্তানির পাশাপাশি ব্যাংকিং লেনদেন, বীমা ও পরিবহনসহ সংশ্লিষ্ট সেবাগুলোর অনুমোদন দিতেও সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

লাইসেন্স অনুযায়ী, ইরানের কাছে অর্থ পরিশোধ মার্কিন ডলারভিত্তিক তহবিলের মাধ্যমে করা যাবে।

তবে কিউবা, উত্তর কোরিয়া এবং ক্রিমিয়া এই সুবিধার আওতার বাইরে থাকবে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৭৯ সালে তেহরানে মার্কিন দূতাবাস জিম্মি সংকটের পর প্রথমবারের মতো ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। পরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সমর্থনের অভিযোগে দেশটির বিরুদ্ধে আরও একাধিক নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও চীনের স্বাধীন শোধনাগারগুলো মূল্যছাড়ে ইরানি তেলের বড় ক্রেতা ছিল। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের আগে ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ইতালি, গ্রিস, তাইওয়ান ও তুরস্কও ইরানি তেলের গুরুত্বপূর্ণ বাজার ছিল।

এদিকে মধ্যস্থতাকারীরা জানিয়েছেন, চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উৎসাহব্যঞ্জক অগ্রগতি অর্জন করেছে।

গত সপ্তাহের সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে শুরু হওয়া এই আলোচনা এপ্রিল থেকে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি আরও অন্তত ৬০ দিন বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে।

যুদ্ধ চলাকালে ইরান হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করলে এবং এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম তীব্রভাবে বেড়ে যায়।

তবে অন্তর্বর্তী সমঝোতার পর তেলের দাম কমতে শুরু করেছে এবং বর্তমানে তা যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি অবস্থান করছে।