ইবোলার প্রাদুর্ভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে: ডব্লিউএইচও

স্টার অনলাইন ডেস্ক

সম্প্রতি আফ্রিকার ডিআর কঙ্গোতে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাসের দ্রুত বিস্তার ও ব্যাপকতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। প্রাদুর্ভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে।

সংস্থাটির মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসাস ও কঙ্গো প্রতিনিধি অ্যান আনসিয়া জেনেভায় সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন।

বার্তাসংস্থা এএফপি ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে আজ মঙ্গলবার এসব তথ্য উঠে আসে।

গেব্রিয়েসুস বলেন, ‘নতুন করে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। মহামারির ব্যাপকতা ও দ্রুত বিস্তারে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন আমরা।’

ডিআর কঙ্গোতে ইবোলায় আক্রান্ত এক রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

কঙ্গোর স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের দৈনিক বুলেটিন অনুযায়ী, দেশটিতে এ পর্যন্ত ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে ১৩১ জনের মৃত্যু ঘটেছে। নিশ্চিত সংক্রমণের শিকার ৩৩ জন এবং সন্দেহভাজন আক্রান্ত আরও ৫১৬ জন। প্রতিবেশী দেশ উগান্ডায়ও দুজন ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ডব্লিউএইচও প্রধান বলেন, ‘স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে সংক্রমণ শনাক্ত হওয়া খুবই উদ্বেগজনক। মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম জোরদার করছি আমরা। যার মধ্যে রয়েছে—নজরদারি বাড়ানো, সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত করা ও পরীক্ষা বাড়ানো।’

ডিআর কঙ্গো ও রুয়ান্ডা সীমান্ত চেকপোস্টে ইবোলা শনাক্তের পরীক্ষা চালাচ্ছেন একজন স্বাস্থ্যকর্মী। ১৮ মে, ২০২৬। ছবি রয়টার্স

সংস্থাটির কঙ্গো প্রতিনিধি অ্যান আনসিয়া ভিডিও কনফারেন্সে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি মনে করি না দুই মাসের মধ্যে এই প্রাদুর্ভাব শেষ হয়ে যাবে। এটি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।’

তিনি সাম্প্রতিক সময়ে ইবোলা প্রাদুর্ভাবের উদাহরণ টেনে বলেন, ‘এর আগে সর্বশেষ প্রাদুর্ভাবটি দুই বছর স্থায়ী হয়েছিল।’

এ সময় উদ্বেগের কয়েকটি কারণ তুলে ধরেন আনসিয়া। বলেন, ‘উগান্ডার কাম্পালা, কঙ্গোর গোমা ও সংঘাতপ্রবণ ইতুরি প্রদেশে ভাইরাসটির বিস্তার নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন আমরা।’

কঙ্গোতে ছড়িয়ে পড়া ইবোলার ধরনটির নাম বুন্ডিবুগিও। এখন পর্যন্ত এর কোনো অনুমোদিত টিকা বা চিকিৎসা নেই। ইবোলার এ ধরনে আক্রান্তের মৃত্যুহার ৪০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

বর্তমানে ইবোলার কেবল ‘জাইর’ ধরনের জন্য অনুমোদিত টিকা রয়েছে। যা হলো—মার্কের ‘এরভেবো’ ও জনসন অ্যান্ড জনসনের ‘সাবডেনো’।

কঙ্গোর ইতুরি ও উগান্ডার কাম্পালায় ইবোলার বুন্ডিবুগিও ধরনের বিস্তার। ছবি: স্টার অনলাইন গ্রাফিক্স

গবেষকরা বলছেন, সম্প্রতি প্রাণীর ওপর চালানো গবেষণায় দেখা যায় ‘এরভেবো’ টিকা বুন্ডিবুগিও ধরনের বিরুদ্ধে কিছু সুরক্ষা দিতে পারে।’

এই টিকাসহ অন্যান্য সম্ভাব্য বিকল্প নিয়ে আলোচনা করতে আজ বৈঠকে বসতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের একটি প্যানেল।

আফ্রিকার রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ সংস্থার (সিডিসি আফ্রিকা) বিজ্ঞান বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মোসোকা ফাল্লাহ রয়টার্সকে বলেন, ‘যখন এমন কোনো ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় যার বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেই, তখন সর্বোত্তম পদক্ষেপ কী হতে পারে সে বিষয়ে পরামর্শ দেই আমরা।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের হাতে থাকা তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করব এবং এরপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’